০২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ওজন কমানোর ওষুধে বদলে যাচ্ছে খাবারের সংস্কৃতি, ছোট প্লেটেই বড় লাভ

লন্ডনের এক অভিজাত রেস্তোরাঁতে আগে বড় বড় পরিমাণে পরিবেশন হতো লবস্টার, হাঁসের মাংস আর ক্যাভিয়ারে ঢাকা বার্গার। এখন সেই একই টেবিলে আসছে ছোট প্লেট, নিখুঁত স্বাদ আর বিলাসিতার নতুন ব্যাখ্যা। ওজন কমানোর আধুনিক ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারকারী অতিথির সংখ্যা বাড়তেই রেস্তোরাঁ মালিকরা বুঝে গেছেন, পেট ভরানোর যুগ পেরিয়ে গেছে, শুরু হয়েছে সচেতন অল্প খাওয়ার সময়।

খাবারের মেনুতে নীরব বিপ্লব

ওজন কমানোর এই ওষুধ শরীরে তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে, ফলে মানুষ কম খেতে চায়। নিয়মিত অতিথিরা বাইরে খাওয়া কমিয়ে দেওয়ার কথা জানাতেই অনেক রেস্তোরাঁ মেনু বদলাতে শুরু করে। বড় প্লেটের জায়গায় এসেছে সূক্ষ্মভাবে সাজানো ছোট খাবার। স্বাদ আর মানের সঙ্গে আপস না করে পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াই এখন নতুন কৌশল।

অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে সাধারণ খাবারঘর

এই পরিবর্তন শুধু দামি রেস্তোরাঁতেই সীমাবদ্ধ নয়। তারকা রেস্তোরাঁগুলো সচেতন অভিজ্ঞতার নামে ছোট পরিমাণের বিশেষ মেনু চালু করেছে। লন্ডন থেকে দুবাই, নিউইয়র্ক থেকে বার্কশায়ার—সবখানেই ছোট খাবারের চল। এমনকি দ্রুত খাবারের দোকানও ছোট বার্গার আর ক্ষুদ্র মিল চালু করছে, যাতে কম খেয়েও অতিথিরা তৃপ্ত থাকে।

ওষুধের জনপ্রিয়তা আর বাজারের অঙ্ক

বিশ্বজুড়ে এই ধরনের ওষুধে ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আটজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক অন্তত একবার এই ওষুধ ব্যবহার করেছেন। ব্রিটেনে ব্যবহারকারীর হার নিরামিষভোজী বা খাদ্য অ্যালার্জি থাকা মানুষের সংখ্যার কাছাকাছি। যাঁরা এই ওষুধ নেন, তাঁদের বড় অংশ মধ্য ও উচ্চ আয়ের, অর্থাৎ নিয়মিত বাইরে খাওয়ার সামর্থ্য যাঁদের আছে।

রেস্তোরাঁ শিল্পের দুশ্চিন্তা নাকি সুযোগ

অনেক ব্যবহারকারী জানাচ্ছেন, তাঁরা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া রেস্তোরাঁয় যাবেন না। এতে মালিকদের উদ্বেগ বাড়লেও অন্য দিকটি আশাব্যঞ্জক। কম খাবার খেলেও অতিথিরা বিশেষ স্বাদের জন্য বেশি দাম দিতে রাজি। ছোট প্লেটে বড় লাভের এই মনস্তত্ত্ব খুচরা বাজারে বহুদিনের পরিচিত, এখন তা খাবারের টেবিলেও বাস্তব।

ভবিষ্যৎ ভাবনায় ছোটই বড়

ওজন কমানোর ওষুধের দাম কমলে ব্যবহারকারী আরও বাড়বে। তাই রেস্তোরাঁগুলোর সামনে বার্তা স্পষ্ট—কম পরিমাণ, বেশি মান, আর স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। খাবারের যুগ বদলাচ্ছে, বড় প্লেট নয়, ছোট প্লেটেই এখন ভবিষ্যৎ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ওজন কমানোর ওষুধে বদলে যাচ্ছে খাবারের সংস্কৃতি, ছোট প্লেটেই বড় লাভ

০৬:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

লন্ডনের এক অভিজাত রেস্তোরাঁতে আগে বড় বড় পরিমাণে পরিবেশন হতো লবস্টার, হাঁসের মাংস আর ক্যাভিয়ারে ঢাকা বার্গার। এখন সেই একই টেবিলে আসছে ছোট প্লেট, নিখুঁত স্বাদ আর বিলাসিতার নতুন ব্যাখ্যা। ওজন কমানোর আধুনিক ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারকারী অতিথির সংখ্যা বাড়তেই রেস্তোরাঁ মালিকরা বুঝে গেছেন, পেট ভরানোর যুগ পেরিয়ে গেছে, শুরু হয়েছে সচেতন অল্প খাওয়ার সময়।

খাবারের মেনুতে নীরব বিপ্লব

ওজন কমানোর এই ওষুধ শরীরে তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে, ফলে মানুষ কম খেতে চায়। নিয়মিত অতিথিরা বাইরে খাওয়া কমিয়ে দেওয়ার কথা জানাতেই অনেক রেস্তোরাঁ মেনু বদলাতে শুরু করে। বড় প্লেটের জায়গায় এসেছে সূক্ষ্মভাবে সাজানো ছোট খাবার। স্বাদ আর মানের সঙ্গে আপস না করে পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াই এখন নতুন কৌশল।

অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে সাধারণ খাবারঘর

এই পরিবর্তন শুধু দামি রেস্তোরাঁতেই সীমাবদ্ধ নয়। তারকা রেস্তোরাঁগুলো সচেতন অভিজ্ঞতার নামে ছোট পরিমাণের বিশেষ মেনু চালু করেছে। লন্ডন থেকে দুবাই, নিউইয়র্ক থেকে বার্কশায়ার—সবখানেই ছোট খাবারের চল। এমনকি দ্রুত খাবারের দোকানও ছোট বার্গার আর ক্ষুদ্র মিল চালু করছে, যাতে কম খেয়েও অতিথিরা তৃপ্ত থাকে।

ওষুধের জনপ্রিয়তা আর বাজারের অঙ্ক

বিশ্বজুড়ে এই ধরনের ওষুধে ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আটজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক অন্তত একবার এই ওষুধ ব্যবহার করেছেন। ব্রিটেনে ব্যবহারকারীর হার নিরামিষভোজী বা খাদ্য অ্যালার্জি থাকা মানুষের সংখ্যার কাছাকাছি। যাঁরা এই ওষুধ নেন, তাঁদের বড় অংশ মধ্য ও উচ্চ আয়ের, অর্থাৎ নিয়মিত বাইরে খাওয়ার সামর্থ্য যাঁদের আছে।

রেস্তোরাঁ শিল্পের দুশ্চিন্তা নাকি সুযোগ

অনেক ব্যবহারকারী জানাচ্ছেন, তাঁরা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া রেস্তোরাঁয় যাবেন না। এতে মালিকদের উদ্বেগ বাড়লেও অন্য দিকটি আশাব্যঞ্জক। কম খাবার খেলেও অতিথিরা বিশেষ স্বাদের জন্য বেশি দাম দিতে রাজি। ছোট প্লেটে বড় লাভের এই মনস্তত্ত্ব খুচরা বাজারে বহুদিনের পরিচিত, এখন তা খাবারের টেবিলেও বাস্তব।

ভবিষ্যৎ ভাবনায় ছোটই বড়

ওজন কমানোর ওষুধের দাম কমলে ব্যবহারকারী আরও বাড়বে। তাই রেস্তোরাঁগুলোর সামনে বার্তা স্পষ্ট—কম পরিমাণ, বেশি মান, আর স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। খাবারের যুগ বদলাচ্ছে, বড় প্লেট নয়, ছোট প্লেটেই এখন ভবিষ্যৎ।