০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ওজন কমানোর শর্টকাটের অন্ধকার দিক: অনিয়ন্ত্রিত ইনজেকশন ও হরমোনে বাড়ছে ঝুঁকি

দ্রুত ওজন কমানো বা পেশি গঠন—এই লক্ষ্য পূরণে এখন অনেকেই শর্টকাট খুঁজছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই শর্টকাটই হয়ে উঠছে বিপজ্জনক। জিম প্রশিক্ষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের পরামর্শে অনেকে ব্যবহার করছেন অনিয়ন্ত্রিত পেপটাইড, হরমোন ও বিভিন্ন ওষুধ, যার ফলে শরীরে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

অভিনেতার অভিজ্ঞতা: সুস্থ জীবনযাপনেও ডায়াবেটিস
সম্প্রতি ৩৫ বছর বয়সী এক চলচ্চিত্র অভিনেতা চিকিৎসকের কাছে যান টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে। অথচ তিনি নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্যনিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস মেনে চলতেন। পারিবারিকভাবেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগের ইতিহাস ছিল না।
পরামর্শকালে তিনি স্বীকার করেন, গত দুই বছর ধরে জিম প্রশিক্ষকের পরামর্শে তিনি বিভিন্ন ইনজেকশন ও ওষুধ নিচ্ছিলেন—যার মধ্যে ছিল ট্যামোক্সিফেন, গ্রোথ হরমোন এবং ‘মোটস-সি’ নামের একটি পেপটাইড। এগুলোর কোনোটিই চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া হয়নি।

What You Need to Know Before Trying At-Home Peptide Injections

কেন বাড়ছে ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের পেপটাইড ও হরমোন শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজ জমে থাকে এবং ধীরে ধীরে তৈরি হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যা ডায়াবেটিসের দিকে নিয়ে যায়।
ট্যামোক্সিফেন মূলত স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও জিমে এটি ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধারণা করা হয়, এটি শরীরে ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেশি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে—কিন্তু এই ধারণার পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

জিম সংস্কৃতিতে পেপটাইডের উত্থান
বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী দ্রুত শারীরিক পরিবর্তনের আশায় পেপটাইড, স্টেরয়েড ও হরমোন ব্যবহার করছেন। কেউ পেশি বাড়াতে, কেউ চর্বি কমাতে, আবার কেউ বার্ধক্য ঠেকাতে এগুলো নিচ্ছেন।
পেপটাইড মূলত অ্যামিনো অ্যাসিডের ছোট শৃঙ্খল, যা শরীরে হরমোন ও বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। তবে এর অপব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব
বিপিসি-১৫৭, থাইমোসিন বিটা-৪, সিজেসি-১২৯৫সহ বিভিন্ন পেপটাইড দ্রুত আরোগ্য, পেশি বৃদ্ধি ও বার্ধক্য রোধের দাবি নিয়ে বাজারে প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে মানুষের ওপর পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।
এছাড়া অনেকেই ইন্টারনেট বা সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজেরাই ডোজ নির্ধারণ করছেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

Best Peptides for Muscle Maintenance | Gameday Men's Health

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
চিকিৎসকদের মতে, এই প্রবণতার বড় চালিকা শক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সাররা এসব পেপটাইডকে দ্রুত ফল পাওয়ার উপায় হিসেবে তুলে ধরছেন, যদিও এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
এগুলো প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা চ্যানেলে বিক্রি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি মাদক ব্যবসার মতোই পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর
এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, লিভারের সমস্যা, রক্ত জমাট বাঁধা এবং হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক রক্ত জমাট বেঁধে জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
টেস্টোস্টেরনের অপব্যবহারও প্রোস্টেট সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে অনুমোদিত ওষুধ
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ যেমন সেমাগ্লুটাইড বা টিরজেপাটাইড বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু এই ওষুধগুলোর সাফল্য দেখে অনেকেই ভুলভাবে ধরে নিচ্ছেন যে সব পেপটাইডই একইভাবে নিরাপদ ও কার্যকর—যা বাস্তবে সত্য নয়।

Men Are Injecting Peptides to Build Muscle and Recover Faster – But the Risks Are Real

সামাজিক চাপ ও মানসিকতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে সামাজিক চাপ—বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক মর্যাদা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে আকর্ষণীয় দেখানোর প্রবণতা।
অনেকেই স্বাস্থ্য নয়, বরং চেহারাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে দ্রুত ফল পেতে গিয়ে তারা ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।

উপসংহার
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—অনিয়ন্ত্রিত পেপটাইড ও হরমোন ব্যবহার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। ওজন কমানো বা পেশি গঠনের জন্য বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করাই একমাত্র সঠিক পথ।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ওজন কমানোর শর্টকাটের অন্ধকার দিক: অনিয়ন্ত্রিত ইনজেকশন ও হরমোনে বাড়ছে ঝুঁকি

০৬:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

দ্রুত ওজন কমানো বা পেশি গঠন—এই লক্ষ্য পূরণে এখন অনেকেই শর্টকাট খুঁজছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই শর্টকাটই হয়ে উঠছে বিপজ্জনক। জিম প্রশিক্ষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের পরামর্শে অনেকে ব্যবহার করছেন অনিয়ন্ত্রিত পেপটাইড, হরমোন ও বিভিন্ন ওষুধ, যার ফলে শরীরে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

অভিনেতার অভিজ্ঞতা: সুস্থ জীবনযাপনেও ডায়াবেটিস
সম্প্রতি ৩৫ বছর বয়সী এক চলচ্চিত্র অভিনেতা চিকিৎসকের কাছে যান টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে। অথচ তিনি নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্যনিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস মেনে চলতেন। পারিবারিকভাবেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগের ইতিহাস ছিল না।
পরামর্শকালে তিনি স্বীকার করেন, গত দুই বছর ধরে জিম প্রশিক্ষকের পরামর্শে তিনি বিভিন্ন ইনজেকশন ও ওষুধ নিচ্ছিলেন—যার মধ্যে ছিল ট্যামোক্সিফেন, গ্রোথ হরমোন এবং ‘মোটস-সি’ নামের একটি পেপটাইড। এগুলোর কোনোটিই চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া হয়নি।

What You Need to Know Before Trying At-Home Peptide Injections

কেন বাড়ছে ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের পেপটাইড ও হরমোন শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজ জমে থাকে এবং ধীরে ধীরে তৈরি হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যা ডায়াবেটিসের দিকে নিয়ে যায়।
ট্যামোক্সিফেন মূলত স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও জিমে এটি ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধারণা করা হয়, এটি শরীরে ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেশি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে—কিন্তু এই ধারণার পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

জিম সংস্কৃতিতে পেপটাইডের উত্থান
বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী দ্রুত শারীরিক পরিবর্তনের আশায় পেপটাইড, স্টেরয়েড ও হরমোন ব্যবহার করছেন। কেউ পেশি বাড়াতে, কেউ চর্বি কমাতে, আবার কেউ বার্ধক্য ঠেকাতে এগুলো নিচ্ছেন।
পেপটাইড মূলত অ্যামিনো অ্যাসিডের ছোট শৃঙ্খল, যা শরীরে হরমোন ও বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। তবে এর অপব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব
বিপিসি-১৫৭, থাইমোসিন বিটা-৪, সিজেসি-১২৯৫সহ বিভিন্ন পেপটাইড দ্রুত আরোগ্য, পেশি বৃদ্ধি ও বার্ধক্য রোধের দাবি নিয়ে বাজারে প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে মানুষের ওপর পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।
এছাড়া অনেকেই ইন্টারনেট বা সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজেরাই ডোজ নির্ধারণ করছেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

Best Peptides for Muscle Maintenance | Gameday Men's Health

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
চিকিৎসকদের মতে, এই প্রবণতার বড় চালিকা শক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সাররা এসব পেপটাইডকে দ্রুত ফল পাওয়ার উপায় হিসেবে তুলে ধরছেন, যদিও এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
এগুলো প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা চ্যানেলে বিক্রি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি মাদক ব্যবসার মতোই পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর
এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, লিভারের সমস্যা, রক্ত জমাট বাঁধা এবং হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক রক্ত জমাট বেঁধে জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
টেস্টোস্টেরনের অপব্যবহারও প্রোস্টেট সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে অনুমোদিত ওষুধ
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ যেমন সেমাগ্লুটাইড বা টিরজেপাটাইড বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু এই ওষুধগুলোর সাফল্য দেখে অনেকেই ভুলভাবে ধরে নিচ্ছেন যে সব পেপটাইডই একইভাবে নিরাপদ ও কার্যকর—যা বাস্তবে সত্য নয়।

Men Are Injecting Peptides to Build Muscle and Recover Faster – But the Risks Are Real

সামাজিক চাপ ও মানসিকতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে সামাজিক চাপ—বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক মর্যাদা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে আকর্ষণীয় দেখানোর প্রবণতা।
অনেকেই স্বাস্থ্য নয়, বরং চেহারাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে দ্রুত ফল পেতে গিয়ে তারা ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।

উপসংহার
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—অনিয়ন্ত্রিত পেপটাইড ও হরমোন ব্যবহার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। ওজন কমানো বা পেশি গঠনের জন্য বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করাই একমাত্র সঠিক পথ।