১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র ওমান হঠাৎ করেই ওয়াশিংটনের অসন্তোষের কেন্দ্রে চলে এসেছে। ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত দেশটি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সন্দেহের মুখোমুখি।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিলে তা পুরো অঞ্চলে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। অনেকেই প্রথমে মনে করেছিলেন তিনি হয়তো ভুলবশত ইরানের কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে স্পষ্ট হয়, মন্তব্যটি ওমানকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছিল।

নিরপেক্ষ অবস্থানের চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘদিন ধরে ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে। দেশটির নেতৃত্ব দাবি করে, তারা এখনও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাই পালন করছে।

তবে সম্প্রতি ওমান ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সেবা ফি আরোপের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এই উদ্যোগকে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। এরপরই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থান নিয়েছে যেখানে দেশগুলোকে স্পষ্টভাবে পক্ষ বেছে নিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু ওমান ঐতিহ্যগতভাবে সেই পথ এড়িয়ে চলেছে।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে দূরত্ব

ইরানের সঙ্গে ওমানের তুলনামূলক উষ্ণ সম্পর্ক উপসাগরীয় অনেক দেশের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছিল, তখন ওমানের সুলতান হাইথাম ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান।

এই ধরনের পদক্ষেপের কারণে অনেক আঞ্চলিক পর্যবেক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন, ওমান কি প্রচলিত উপসাগরীয় অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে?

যুদ্ধের মধ্যেও অর্থনৈতিক সুবিধা

যুদ্ধ পরিস্থিতি ওমানের জন্য কিছু অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় অনেক দেশ তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু আরব সাগরে অবস্থিত ওমানের বন্দরগুলো প্রণালীর বাইরে হওয়ায় দেশটি তুলনামূলকভাবে বাধাহীনভাবে জ্বালানি রপ্তানি চালিয়ে যেতে পেরেছে।

ফলে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ওমানের সরকারি রাজস্ব ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি আঞ্চলিক সরবরাহ ও পরিবহন কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্ব অর্জন করেছে। আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়া অনেক পণ্য এখন ওমানের বন্দর ব্যবহার করে স্থলপথে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।

ভেঙে যাওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগ

ওমান বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করে আসছে। বর্তমান যুদ্ধ শুরুর আগেও দেশটি দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছিল।

ফেব্রুয়ারিতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি প্রকাশ্যে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হলে শান্তি চুক্তি সম্ভব। কিন্তু তার পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।

পরে তিনি যুদ্ধের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং এক প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্য ওয়াশিংটনের অনেক নীতিনির্ধারকের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করে।

দুই শতকের সম্পর্কের পরীক্ষা

ট্রাম্পের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তিনি ওমানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাষ্ট্রদূত তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ওমান হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট রয়েছে।

ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই সম্পর্ক এখন এক নতুন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনীতিতে ওমানের নিরপেক্ষ অবস্থান কতটা টিকে থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

#ওমান #ডোনাল্ড_ট্রাম্প #ইরান #মধ্যপ্রাচ্য #হরমুজ_প্রণালী #যুক্তরাষ্ট্র #ইসরায়েল #কূটনীতি #ভূরাজনীতি #আন্তর্জাতিক_সম্পর্ক

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন

০৯:১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র ওমান হঠাৎ করেই ওয়াশিংটনের অসন্তোষের কেন্দ্রে চলে এসেছে। ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত দেশটি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সন্দেহের মুখোমুখি।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিলে তা পুরো অঞ্চলে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। অনেকেই প্রথমে মনে করেছিলেন তিনি হয়তো ভুলবশত ইরানের কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে স্পষ্ট হয়, মন্তব্যটি ওমানকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছিল।

নিরপেক্ষ অবস্থানের চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘদিন ধরে ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে। দেশটির নেতৃত্ব দাবি করে, তারা এখনও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাই পালন করছে।

তবে সম্প্রতি ওমান ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সেবা ফি আরোপের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এই উদ্যোগকে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। এরপরই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থান নিয়েছে যেখানে দেশগুলোকে স্পষ্টভাবে পক্ষ বেছে নিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু ওমান ঐতিহ্যগতভাবে সেই পথ এড়িয়ে চলেছে।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে দূরত্ব

ইরানের সঙ্গে ওমানের তুলনামূলক উষ্ণ সম্পর্ক উপসাগরীয় অনেক দেশের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছিল, তখন ওমানের সুলতান হাইথাম ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান।

এই ধরনের পদক্ষেপের কারণে অনেক আঞ্চলিক পর্যবেক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন, ওমান কি প্রচলিত উপসাগরীয় অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে?

যুদ্ধের মধ্যেও অর্থনৈতিক সুবিধা

যুদ্ধ পরিস্থিতি ওমানের জন্য কিছু অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় অনেক দেশ তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু আরব সাগরে অবস্থিত ওমানের বন্দরগুলো প্রণালীর বাইরে হওয়ায় দেশটি তুলনামূলকভাবে বাধাহীনভাবে জ্বালানি রপ্তানি চালিয়ে যেতে পেরেছে।

ফলে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ওমানের সরকারি রাজস্ব ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি আঞ্চলিক সরবরাহ ও পরিবহন কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্ব অর্জন করেছে। আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়া অনেক পণ্য এখন ওমানের বন্দর ব্যবহার করে স্থলপথে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।

ভেঙে যাওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগ

ওমান বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করে আসছে। বর্তমান যুদ্ধ শুরুর আগেও দেশটি দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছিল।

ফেব্রুয়ারিতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি প্রকাশ্যে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হলে শান্তি চুক্তি সম্ভব। কিন্তু তার পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।

পরে তিনি যুদ্ধের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং এক প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্য ওয়াশিংটনের অনেক নীতিনির্ধারকের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করে।

দুই শতকের সম্পর্কের পরীক্ষা

ট্রাম্পের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তিনি ওমানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাষ্ট্রদূত তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ওমান হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট রয়েছে।

ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই সম্পর্ক এখন এক নতুন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনীতিতে ওমানের নিরপেক্ষ অবস্থান কতটা টিকে থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

#ওমান #ডোনাল্ড_ট্রাম্প #ইরান #মধ্যপ্রাচ্য #হরমুজ_প্রণালী #যুক্তরাষ্ট্র #ইসরায়েল #কূটনীতি #ভূরাজনীতি #আন্তর্জাতিক_সম্পর্ক