১০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ওমান উপকূলে আবারও ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ভারতের দূতাবাস জানিয়েছে, ওমান উপকূলে একটি জাহাজকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে তারা নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।

তৃতীয়বারের মতো ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা

ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম ‘জালভির’। এটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে এটি ভারতীয় নাবিক বহনকারী তৃতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আওতায় আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

3 Indians missing after Oman tanker attack; India summons US charge  d'affaires – Firstpost

এর আগে বুধবার ওমান উপসাগরে ‘সেত্তেবেল্লো’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

এরও আগে ‘মারিভেক্স’ নামের একটি খালি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে জাহাজটিতে গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। সেখানে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে ওয়াশিংটন পাল্টা হামলা চালায়। এর পরপরই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। পরিস্থিতির কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এই সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব

ভারতের উদ্বেগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, অঞ্চলে চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব এখন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ভারত অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু না করারও দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ওমান উপকূলে আবারও ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

০২:১০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ভারতের দূতাবাস জানিয়েছে, ওমান উপকূলে একটি জাহাজকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে তারা নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।

তৃতীয়বারের মতো ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা

ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম ‘জালভির’। এটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে এটি ভারতীয় নাবিক বহনকারী তৃতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আওতায় আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

3 Indians missing after Oman tanker attack; India summons US charge  d'affaires – Firstpost

এর আগে বুধবার ওমান উপসাগরে ‘সেত্তেবেল্লো’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

এরও আগে ‘মারিভেক্স’ নামের একটি খালি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে জাহাজটিতে গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। সেখানে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে ওয়াশিংটন পাল্টা হামলা চালায়। এর পরপরই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। পরিস্থিতির কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এই সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব

ভারতের উদ্বেগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, অঞ্চলে চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব এখন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ভারত অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু না করারও দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।