০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ওয়াশিংটনের নীরবতার সংস্কৃতি ভাঙছে? যৌন কেলেঙ্কারিতে কংগ্রেস কাঁপছে, পদত্যাগে চাপ বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বহুদিনের এক নীরবতার সংস্কৃতি এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। একের পর এক যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এবং দুই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার পদত্যাগ সেই চিত্রকে সামনে এনে দিয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

গুঞ্জন ছিল, কিন্তু পদক্ষেপ ছিল না

ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গালেগো স্বীকার করেছেন, সহকর্মী এরিক সোয়ালওয়েলকে নিয়ে বহুদিন ধরেই “অস্বস্তিকর আচরণ” নিয়ে গুঞ্জন শুনেছিলেন। কিন্তু ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি কখনোই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। পরে একাধিক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করেন।

গালেগো বলেন, ওয়াশিংটনে অনেকেই এমন গুঞ্জনকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখতেন। ফলে অভিযোগগুলো গুরুত্ব পেত না, আর সেখানেই তৈরি হয়েছে নীরবতার এক চক্র।

একাধিক অভিযোগে কংগ্রেসে চাপ

শুধু সোয়ালওয়েল নন, টেক্সাসের রিপাবলিকান টনি গনজালেসও যৌন অসদাচরণের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন। তিনি এক স্টাফ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন, যা কংগ্রেসের নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই দুটি ঘটনা একসঙ্গে সামনে আসায় কংগ্রেসের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই এমন আচরণকে আড়াল করেছে।

ভুক্তভোগীদের নীরবতা কেন

রাজনীতিকদের পাশাপাশি সাবেক আইনপ্রণেতারা বলছেন, ভুক্তভোগীরা অনেক সময় অভিযোগ করতে চান না। কারণ তারা মনে করেন, তারা একা এবং কেউ তাদের বিশ্বাস করবে না। এই মানসিকতা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে।

কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ বলেছেন, এই ঘটনাগুলো একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে, তবে এখনো অনেক কাঠামোগত সমস্যা রয়ে গেছে।

নতুন নিয়ম ও স্বচ্ছতার দাবি

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসে যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তের নিয়ম আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে। কিছু আইনপ্রণেতা চাইছেন, এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হোক এবং দ্রুত তদন্ত করা হোক।

একই সঙ্গে, করদাতাদের অর্থে হওয়া অতীতের সমঝোতা চুক্তির তথ্য প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা গোপন রাখা কঠিন হয়।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

এই কেলেঙ্কারির প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলছে। অনেক নেতা এখন আগের গুঞ্জনগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করছেন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নিজেদের আচরণও পর্যালোচনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে আর নীরবতা নয়, বরং জবাবদিহিই হতে পারে নতুন বাস্তবতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ওয়াশিংটনের নীরবতার সংস্কৃতি ভাঙছে? যৌন কেলেঙ্কারিতে কংগ্রেস কাঁপছে, পদত্যাগে চাপ বাড়ছে

০৫:৩১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বহুদিনের এক নীরবতার সংস্কৃতি এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। একের পর এক যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এবং দুই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার পদত্যাগ সেই চিত্রকে সামনে এনে দিয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

গুঞ্জন ছিল, কিন্তু পদক্ষেপ ছিল না

ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গালেগো স্বীকার করেছেন, সহকর্মী এরিক সোয়ালওয়েলকে নিয়ে বহুদিন ধরেই “অস্বস্তিকর আচরণ” নিয়ে গুঞ্জন শুনেছিলেন। কিন্তু ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি কখনোই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। পরে একাধিক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করেন।

গালেগো বলেন, ওয়াশিংটনে অনেকেই এমন গুঞ্জনকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখতেন। ফলে অভিযোগগুলো গুরুত্ব পেত না, আর সেখানেই তৈরি হয়েছে নীরবতার এক চক্র।

একাধিক অভিযোগে কংগ্রেসে চাপ

শুধু সোয়ালওয়েল নন, টেক্সাসের রিপাবলিকান টনি গনজালেসও যৌন অসদাচরণের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন। তিনি এক স্টাফ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন, যা কংগ্রেসের নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই দুটি ঘটনা একসঙ্গে সামনে আসায় কংগ্রেসের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই এমন আচরণকে আড়াল করেছে।

ভুক্তভোগীদের নীরবতা কেন

রাজনীতিকদের পাশাপাশি সাবেক আইনপ্রণেতারা বলছেন, ভুক্তভোগীরা অনেক সময় অভিযোগ করতে চান না। কারণ তারা মনে করেন, তারা একা এবং কেউ তাদের বিশ্বাস করবে না। এই মানসিকতা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে।

কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ বলেছেন, এই ঘটনাগুলো একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে, তবে এখনো অনেক কাঠামোগত সমস্যা রয়ে গেছে।

নতুন নিয়ম ও স্বচ্ছতার দাবি

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসে যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তের নিয়ম আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে। কিছু আইনপ্রণেতা চাইছেন, এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হোক এবং দ্রুত তদন্ত করা হোক।

একই সঙ্গে, করদাতাদের অর্থে হওয়া অতীতের সমঝোতা চুক্তির তথ্য প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা গোপন রাখা কঠিন হয়।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

এই কেলেঙ্কারির প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলছে। অনেক নেতা এখন আগের গুঞ্জনগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করছেন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নিজেদের আচরণও পর্যালোচনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে আর নীরবতা নয়, বরং জবাবদিহিই হতে পারে নতুন বাস্তবতা।