০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গার্মেন্টসের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে, বিদ্যুৎ সংকটে বড় শঙ্কা পাবনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পৌরসভা, স্কয়ার ও ব্র্যাকের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ লালবাগে বাসা থেকে আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার শাহবাগে পৃথক স্থান থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার বিভাজন কাটিয়ে ব্রিকসে যৌথ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই ঐক্যের বার্তা ব্রিকসের ২০ বছর: বিশ্ব চীনের ভবিষ্যৎ ভাবনা শুনতে আগ্রহী দিল্লিতে একদিনে সাত বৈঠক সারলেন মোদী বাংলাদেশে হামের মতো উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১,০১৯ কনডোলিজা রাইস: ৯/১১ আমাদের পরীক্ষা নিয়েছিল, কিন্তু ভেঙে দিতে পারেনি হংকংয়ের হাসপাতালে লিফট কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগ কর্মকর্তার

কম্বোডিয়া সীমান্তে কংক্রিটের প্রাচীর তুলছে থাইল্যান্ড

সংঘর্ষের পর নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কম্বোডিয়া সীমান্তে আট দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ কংক্রিটের প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছে থাইল্যান্ড। চানথাবুরি প্রদেশের কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া এই প্রাচীরের প্রথম সম্পন্ন অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ও সাড়ে তিন মিটার উঁচু, যাতে বসানো হয়েছে গ্যালভানাইজড স্টিলের জাল ও কাঁটাতার। বাকি অংশের নির্মাণকাজ পর্যায়ক্রমে চলবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

রয়্যাল থাই নেভি মেরিন টাস্কফোর্সের কমান্ডার ক্যাপ্টেন প্রাচইয়া হানতিয়েম বলেন, মানুষ ও পণ্যের অবৈধ চোরাচালান ঠেকাতেই এই বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। আটশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তরেখা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ বহু দশকের পুরোনো, আর এই বিরোধই বারবার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ডিসেম্বরে ফের সংঘাত বাধে দুই দেশের মধ্যে। বছরের শেষদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছেই। আগের বছরের সংঘর্ষে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, যাদের অধিকাংশ পরে ঘরে ফিরলেও প্রায় বিশ হাজার কম্বোডিয়ান এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

দুইশর কম বাসিন্দার একটি গ্রামের প্রধান ইচিরা আরানচাইয়াসিরি বলেন, আগে তারা অবাধে সীমান্ত পারাপার করতেন, একে অপরের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন সহজেই, তবে নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই প্রাচীরকে তিনি মেনে নিয়েছেন। ফরাসি ও শ্যাম আমলের ১৮৬৩ থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণের পাথরচিহ্নগুলো এখনো নির্মাণপথ ধরে রয়ে গেছে, যা এই সীমান্ত বিরোধের ঔপনিবেশিক শিকড়কেই মনে করিয়ে দেয়। থাই সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাকি অংশের নির্মাণকাজ ধাপে ধাপে এগোবে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি টাওয়ারও বসানো হবে। কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এই নির্মাণকাজ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, যদিও স্থানীয় সীমান্তরক্ষীরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।

কাঁটাতার আর কংক্রিটের এই নতুন দেয়াল যেন মনে করিয়ে দেয়, ঔপনিবেশিক আমলে আঁকা একটি সীমারেখা এখনো কীভাবে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে বেঁধে রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গার্মেন্টসের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে, বিদ্যুৎ সংকটে বড় শঙ্কা

কম্বোডিয়া সীমান্তে কংক্রিটের প্রাচীর তুলছে থাইল্যান্ড

০৫:০৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংঘর্ষের পর নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কম্বোডিয়া সীমান্তে আট দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ কংক্রিটের প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছে থাইল্যান্ড। চানথাবুরি প্রদেশের কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া এই প্রাচীরের প্রথম সম্পন্ন অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ও সাড়ে তিন মিটার উঁচু, যাতে বসানো হয়েছে গ্যালভানাইজড স্টিলের জাল ও কাঁটাতার। বাকি অংশের নির্মাণকাজ পর্যায়ক্রমে চলবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

রয়্যাল থাই নেভি মেরিন টাস্কফোর্সের কমান্ডার ক্যাপ্টেন প্রাচইয়া হানতিয়েম বলেন, মানুষ ও পণ্যের অবৈধ চোরাচালান ঠেকাতেই এই বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। আটশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তরেখা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ বহু দশকের পুরোনো, আর এই বিরোধই বারবার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ডিসেম্বরে ফের সংঘাত বাধে দুই দেশের মধ্যে। বছরের শেষদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছেই। আগের বছরের সংঘর্ষে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, যাদের অধিকাংশ পরে ঘরে ফিরলেও প্রায় বিশ হাজার কম্বোডিয়ান এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

দুইশর কম বাসিন্দার একটি গ্রামের প্রধান ইচিরা আরানচাইয়াসিরি বলেন, আগে তারা অবাধে সীমান্ত পারাপার করতেন, একে অপরের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন সহজেই, তবে নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই প্রাচীরকে তিনি মেনে নিয়েছেন। ফরাসি ও শ্যাম আমলের ১৮৬৩ থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণের পাথরচিহ্নগুলো এখনো নির্মাণপথ ধরে রয়ে গেছে, যা এই সীমান্ত বিরোধের ঔপনিবেশিক শিকড়কেই মনে করিয়ে দেয়। থাই সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাকি অংশের নির্মাণকাজ ধাপে ধাপে এগোবে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি টাওয়ারও বসানো হবে। কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এই নির্মাণকাজ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, যদিও স্থানীয় সীমান্তরক্ষীরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।

কাঁটাতার আর কংক্রিটের এই নতুন দেয়াল যেন মনে করিয়ে দেয়, ঔপনিবেশিক আমলে আঁকা একটি সীমারেখা এখনো কীভাবে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে বেঁধে রাখতে পারে।