০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

কাসাটির পানি পৌঁছাতে নতুন লড়াই, ২০৪০-এর কাম্পালা গড়ছে উগান্ডা

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। শহরটি শুধু আয়তনে বাড়ছে না, উঁচু পাহাড়ি এলাকায় নতুন আবাসিক ভবন তৈরি হচ্ছে, পুরোনো বসতি ঘন হয়ে উঠছে এবং আশপাশের গ্রামীণ এলাকাগুলোও একে একে শহরতলিতে পরিণত হচ্ছে। এই দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু দেশটির জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থা প্রচলিত পথে হাঁটছে না। নতুন চাহিদা তৈরি হওয়ার পর পানি উৎপাদন বাড়ানোর বদলে সংস্থাটি আগে থেকেই এমন অবকাঠামো তৈরি করছে, যাতে বর্তমানে উৎপাদিত পানি শহরের প্রতিটি প্রয়োজনীয় এলাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়।

সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সিলভার মুগিশার নেতৃত্বে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আগামী ২০৪০ সাল এবং তার পরের কাম্পালার জন্য একটি শক্তিশালী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা।

সমস্যা শুধু পানি উৎপাদনের নয়

কাম্পালার পানি সমস্যার একটি বড় উদাহরণ পাওয়া যায় শহরের পূর্বাঞ্চলের মুতুঙ্গো পাহাড়ে। এলাকায় বাড়িঘর যত উঁচু জায়গায় উঠেছে, সেখানকার অনেক নতুন বাড়ি পুরোনো জলাধারের পানির স্তরের চেয়েও ওপরে চলে গেছে।

অর্থাৎ সেখানে সব সময় পানির ঘাটতি ছিল এমন নয়। মূল সমস্যা ছিল পানি সরবরাহের অবকাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়নি, যাতে দ্রুত উঁচু ও বিস্তৃত হতে থাকা শহরে পানি পৌঁছানো যায়।

এই সমস্যার সমাধানে মুতুঙ্গো পাহাড়ে নতুন ১০ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি জলাধার তৈরি করা হচ্ছে। পুরোনো জলাধারের পরিবর্তে নতুন এই জলাধারটি পাহাড়ের ওপরের বসতিগুলোতে পানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিচু এলাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় পানি ওপরের দিকে তোলা হবে।

মুতুঙ্গোর এই প্রকল্প আসলে কাম্পালার বৃহত্তর পানি অবকাঠামো পরিবর্তনের একটি ছোট উদাহরণ।

কাসাটির পানি আছে, পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নেই

এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাসাটি পানি শোধনাগার। চালু হওয়ার পর এই প্রকল্প কাম্পালার সম্ভাব্য পানি সরবরাহে প্রতিদিন ১৬ কোটি লিটার শোধিত পানি যোগ করেছে।

কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, শোধনাগারটি বর্তমানে তার মোট সক্ষমতার মাত্র প্রায় ৫২ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। কারণ উৎপাদিত সব পানি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত বিতরণ ব্যবস্থা এখনো তৈরি হয়নি।

ড. মুগিশার কাছে এটিই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। এখন সমস্যা শুধু আরও পানি উৎপাদন করা নয়; বরং যে পানি ইতিমধ্যে উৎপাদন করা সম্ভব, সেটিকে সঠিক জায়গায়, সঠিক চাপ এবং সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়া।

এই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বৃহত্তর কাম্পালা মহানগর এলাকার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুনর্বাসন, পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারণের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প।

৯২ কোটি ইউরোর প্রকল্পে বদলাবে পানি নেটওয়ার্ক

প্রায় ৯২ কোটি ৪০ লাখ ইউরোর এই প্রকল্পে প্রধান অর্থায়ন করছে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং জার্মানির কেএফডব্লিউ সহযোগিতা করছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সোজিয়া সাতোম। তদারকির দায়িত্বে রয়েছে আর্টেলিয়া ও গাউফের সমন্বিত অংশীদারত্ব।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার নতুন বড় ব্যাসের পানি সরবরাহ পাইপ বসানো হচ্ছে। এর সঙ্গে তৈরি হচ্ছে তিনটি জলাধার ও পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্র। কাম্পালা ওয়াটারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও আধুনিক করা হচ্ছে।

নতুন জলাধারগুলোর মধ্যে ক্যান্য্যান্যায় তৈরি হচ্ছে ১ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার কংক্রিটের জলাধার। কাবুলেংওয়ায় তৈরি হচ্ছে প্রায় ৩৮ লাখ ৯০ হাজার লিটারের ইস্পাতের জলাধার। আর মুতুঙ্গোতে তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ লিটারের আরেকটি ইস্পাতের জলাধার।

কুঙ্গু ও কাবুলেংওয়ায় তৈরি হচ্ছে পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্র।

এই পুরো ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো কাসাটি শোধনাগারে উৎপাদিত পানি সর্বোচ্চ পরিমাণে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে ২০৪০ সাল পর্যন্ত নগর সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি করা।

২০২৭ সালের আগেই সুবিধা দিতে চায় কর্তৃপক্ষ

প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। কুঙ্গুর পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্রের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ, কাবুলেংওয়ার কাজ প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং মুতুঙ্গোর জলাধারের কাজ প্রায় ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ২৫ কিলোমিটার পানি সরবরাহ পাইপ বসানো হয়েছে। পুরো পাইপ বসানোর কাজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শেষ হয়েছে।

পুরো প্রকল্প ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাসিন্দাদের ততদিন অপেক্ষা করাতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো অংশের কাজ শেষ হলে সেটি আলাদাভাবে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো নামুগোঙ্গো থেকে বুলিন্দো, এনসাসা ও মুলাওয়া হয়ে কিরা-কাসানগাতি সড়ক পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান পাইপলাইন। এটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা।

এর ফলে নামুগোঙ্গো, কিরা, বুয়াতে, বুলিন্দো, মুলাওয়া, কাসানগাতি এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে ওয়াকিসো, কাকিরি, গায়াজা, নানসানা, ক্যান্য্যান্যা, লুতেতে ও মাতুগ্গাসহ মহানগর এলাকার বিস্তৃত অঞ্চলে পানি সরবরাহ আরও শক্তিশালী হবে।

বাড়ছে শহর, বাড়ছে পানির চাপ

কাম্পালার পানি সমস্যাকে এখন আর শুধু রাজধানী শহরের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ক্রমেই পুরো মহানগর এলাকার সমস্যা হয়ে উঠছে।

২০২৪ সালের জাতীয় জনসংখ্যা ও আবাসন শুমারি অনুযায়ী, কাম্পালা ও ওয়াকিসো মিলিয়ে জনসংখ্যা ৫২ লাখের বেশি। ওয়াকিসো বর্তমানে উগান্ডার সবচেয়ে জনবহুল জেলা।

নগর সম্প্রসারণের বড় অংশই ঘটেছে ঐতিহ্যবাহী শহরসীমার বাইরে। যেসব এলাকা একসময় গ্রাম ছিল, সেগুলো এখন আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ধীরে ধীরে পৃথক শহরে পরিণত হচ্ছে।

কিন্তু মানুষ ও ভবন বাড়লেই পানি অবকাঠামো নিজে থেকে বাড়ে না। চাহিদা তৈরি হওয়ার বহু বছর আগেই পাইপলাইন, জলাধার, পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্র ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিকল্পনা করে তৈরি করতে হয়।

ড. মুগিশার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্ব এখানেই।

কাসাটির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতিও চলছে

বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে কাসাটি থেকে প্রতিদিন পুরো ১৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে চায় জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থা।

তবে পরিকল্পনা এখানেই থেমে নেই। কাসাটি শোধনাগারের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিদিন ২৪ কোটি লিটার পর্যন্ত নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পানি সরিয়ে নেওয়ার পাইপলাইন তৈরির কাজও শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. মুগিশার ভাষায়, কাসাটিতে বিপুল পরিমাণ পানি রয়েছে এবং সেই পানি আরও বেশি পরিমাণে শহরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

কাসাটির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বহু বছর ধরে কাম্পালার পানির বড় অংশের চাপ বহন করে আসা পুরোনো গগাবা পানি শোধনাগারের ওপরও চাপ কমবে।

শুধু নতুন প্রকল্প নয়, নিজেদের সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে সংস্থা

দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থা নিজেদের প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে।

সংস্থার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যালেক্স গিসাগারা জানিয়েছেন, কাসাটি ও কাগেরা পানি প্রকল্পের মতো নতুন স্থাপনাগুলো পরিচালনার জন্য তাদের নিজস্ব দল ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। কাসাটি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হলে নতুন ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও নিজেদের জনবল দিয়ে পরিচালনার সক্ষমতা থাকবে বলে তিনি জানান।

এখানে একটি বড় পরিবর্তন হলো নিজেদের দল দিয়ে কিছু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা। বাইরের ঠিকাদারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সংস্থাটি নির্দিষ্ট কিছু কাজ নিজস্ব জনবল ও সম্পদ ব্যবহার করে করছে।

এতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নিজেদের প্রকৌশল দক্ষতাও বাড়ছে।

প্রযুক্তিতেও বাইরের নির্ভরতা কমছে

প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।

ড. মুগিশার দাবি, গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি কোনো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা বাইরে থেকে কিনেনি। বরং নিজেদের প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

এর ফলে পুরোনো বাইরের প্রতিষ্ঠানের তৈরি ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সরিয়ে নিজেদের তৈরি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

ড. মুগিশার মতে, এতে শুধু অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে না; নিজেদের তৈরি ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়ছে। কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ব্যবস্থা বন্ধ থাকার ঝুঁকিও কমছে।

একটি সাইবার হামলার সময়ও নিজেদের তৈরি ব্যবস্থা থাকার সুবিধা পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, আক্রান্ত ব্যবস্থাটি দ্রুত ঠিক করা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের ইঙ্গিতও পাওয়া যায় এবং একজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা খোলা রেখেছিলেন বলে তিনি জানান।

পানির পাইপের আড়ালে রয়েছে অর্থ সাশ্রয়ের কৌশল

একটি সরকারি জনসেবা প্রতিষ্ঠান সামাজিকভাবে সংবেদনশীল দামে পানি সরবরাহ করেও কীভাবে এত বড় বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তরও রয়েছে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা কৌশলে।

ড. মুগিশার দর্শন হলো, শুধু আয় বাড়ানোর চেষ্টা নয়, আগে খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

নিজস্ব প্রকৌশল নকশা তৈরির সক্ষমতা বিনিয়োগ ব্যয় কমিয়েছে। বিশেষ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মাধ্যমে অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট দলকে উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ড. মুগিশা জানান, একসময় সংস্থাটি এমন কিছু ঝুঁকির জন্য বছরে প্রায় ২৫০ কোটি উগান্ডান শিলিং বিমা ব্যয় করত, যেগুলোর বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। এমনকি প্রায় ৪০ কোটি শিলিংয়ের সম্ভাব্য ক্ষতির জন্যও বিমা করা হয়েছিল।

পরে তিনি প্রতিষ্ঠানকে কিছু ঝুঁকি নিজেরাই বহন করার অনুমতি নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এরপর একটি অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠন করা হয় এবং তার জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ করা হয়।

ড. মুগিশার দাবি, এর ফলে গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০০ কোটি উগান্ডান শিলিং সাশ্রয় হয়েছে।

এই অর্থ হয়তো নতুন জলাধার বা বিশাল পাইপলাইনের মতো চোখে পড়ে না। কিন্তু একটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টেকসইভাবে পরিচালনা করতে এমন আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রকৌশল দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আগামী দিনের কাম্পালাকে মাথায় রেখেই পরিকল্পনা

২০২৭ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প শেষ হলেও কাম্পালার পানি সমস্যা শেষ হবে না।

শহরের জনসংখ্যা আরও বাড়বে। নতুন বহুতল ভবন তৈরি হবে। কৃষিজমি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হবে। মানুষ ঐতিহ্যবাহী শহরকেন্দ্র থেকে আরও দূরে এবং অনেক ক্ষেত্রে আরও উঁচু এলাকায় বসতি গড়বে।

অর্থাৎ পানির চাপও ধীরে ধীরে শহরের বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়বে।

এই বাস্তবতার কারণেই বর্তমান বিনিয়োগকে শুধু আজকের ঘাটতি পূরণের প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং আগামী দিনের চাহিদা আগেই অনুমান করে অবকাঠামো তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

৭০ কিলোমিটার নতুন প্রধান পাইপলাইন, জলাধার, পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্র, কাসাটি থেকে পানি সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে এগুলো কাম্পালার ভবিষ্যৎ নগর বিস্তারের জন্য এক ধরনের অদৃশ্য জীবনরেখা তৈরি করছে।

একটি শহর শুধু বাড়িঘর, সড়ক ও বাণিজ্যিক ভবন দিয়ে টেকসই হয় না। তার নিচে থাকা পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, যোগাযোগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও একই গতিতে, বরং অনেক সময় তার আগেই সম্প্রসারিত করতে হয়।

জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থার তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো কাসাটির বর্তমান সক্ষমতার পানি আরও বেশি পরিমাণে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরও বড়—এমন একটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা আগামী দিনের আরও বড় মহানগরকে সামলাতে পারবে।

কাম্পালার কল শুকিয়ে যাওয়ার পর সমাধান খোঁজার বদলে আজই ভবিষ্যতের শহরের জন্য সক্ষমতা তৈরি করাই ড. মুগিশার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল কথা।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

কাসাটির পানি পৌঁছাতে নতুন লড়াই, ২০৪০-এর কাম্পালা গড়ছে উগান্ডা

০৬:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। শহরটি শুধু আয়তনে বাড়ছে না, উঁচু পাহাড়ি এলাকায় নতুন আবাসিক ভবন তৈরি হচ্ছে, পুরোনো বসতি ঘন হয়ে উঠছে এবং আশপাশের গ্রামীণ এলাকাগুলোও একে একে শহরতলিতে পরিণত হচ্ছে। এই দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু দেশটির জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থা প্রচলিত পথে হাঁটছে না। নতুন চাহিদা তৈরি হওয়ার পর পানি উৎপাদন বাড়ানোর বদলে সংস্থাটি আগে থেকেই এমন অবকাঠামো তৈরি করছে, যাতে বর্তমানে উৎপাদিত পানি শহরের প্রতিটি প্রয়োজনীয় এলাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়।

সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সিলভার মুগিশার নেতৃত্বে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আগামী ২০৪০ সাল এবং তার পরের কাম্পালার জন্য একটি শক্তিশালী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা।

সমস্যা শুধু পানি উৎপাদনের নয়

কাম্পালার পানি সমস্যার একটি বড় উদাহরণ পাওয়া যায় শহরের পূর্বাঞ্চলের মুতুঙ্গো পাহাড়ে। এলাকায় বাড়িঘর যত উঁচু জায়গায় উঠেছে, সেখানকার অনেক নতুন বাড়ি পুরোনো জলাধারের পানির স্তরের চেয়েও ওপরে চলে গেছে।

অর্থাৎ সেখানে সব সময় পানির ঘাটতি ছিল এমন নয়। মূল সমস্যা ছিল পানি সরবরাহের অবকাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়নি, যাতে দ্রুত উঁচু ও বিস্তৃত হতে থাকা শহরে পানি পৌঁছানো যায়।

এই সমস্যার সমাধানে মুতুঙ্গো পাহাড়ে নতুন ১০ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি জলাধার তৈরি করা হচ্ছে। পুরোনো জলাধারের পরিবর্তে নতুন এই জলাধারটি পাহাড়ের ওপরের বসতিগুলোতে পানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিচু এলাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় পানি ওপরের দিকে তোলা হবে।

মুতুঙ্গোর এই প্রকল্প আসলে কাম্পালার বৃহত্তর পানি অবকাঠামো পরিবর্তনের একটি ছোট উদাহরণ।

কাসাটির পানি আছে, পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নেই

এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাসাটি পানি শোধনাগার। চালু হওয়ার পর এই প্রকল্প কাম্পালার সম্ভাব্য পানি সরবরাহে প্রতিদিন ১৬ কোটি লিটার শোধিত পানি যোগ করেছে।

কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, শোধনাগারটি বর্তমানে তার মোট সক্ষমতার মাত্র প্রায় ৫২ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। কারণ উৎপাদিত সব পানি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত বিতরণ ব্যবস্থা এখনো তৈরি হয়নি।

ড. মুগিশার কাছে এটিই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। এখন সমস্যা শুধু আরও পানি উৎপাদন করা নয়; বরং যে পানি ইতিমধ্যে উৎপাদন করা সম্ভব, সেটিকে সঠিক জায়গায়, সঠিক চাপ এবং সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়া।

এই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বৃহত্তর কাম্পালা মহানগর এলাকার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুনর্বাসন, পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারণের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প।

৯২ কোটি ইউরোর প্রকল্পে বদলাবে পানি নেটওয়ার্ক

প্রায় ৯২ কোটি ৪০ লাখ ইউরোর এই প্রকল্পে প্রধান অর্থায়ন করছে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং জার্মানির কেএফডব্লিউ সহযোগিতা করছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সোজিয়া সাতোম। তদারকির দায়িত্বে রয়েছে আর্টেলিয়া ও গাউফের সমন্বিত অংশীদারত্ব।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার নতুন বড় ব্যাসের পানি সরবরাহ পাইপ বসানো হচ্ছে। এর সঙ্গে তৈরি হচ্ছে তিনটি জলাধার ও পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্র। কাম্পালা ওয়াটারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও আধুনিক করা হচ্ছে।

নতুন জলাধারগুলোর মধ্যে ক্যান্য্যান্যায় তৈরি হচ্ছে ১ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার কংক্রিটের জলাধার। কাবুলেংওয়ায় তৈরি হচ্ছে প্রায় ৩৮ লাখ ৯০ হাজার লিটারের ইস্পাতের জলাধার। আর মুতুঙ্গোতে তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ লিটারের আরেকটি ইস্পাতের জলাধার।

কুঙ্গু ও কাবুলেংওয়ায় তৈরি হচ্ছে পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্র।

এই পুরো ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো কাসাটি শোধনাগারে উৎপাদিত পানি সর্বোচ্চ পরিমাণে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে ২০৪০ সাল পর্যন্ত নগর সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি করা।

২০২৭ সালের আগেই সুবিধা দিতে চায় কর্তৃপক্ষ

প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। কুঙ্গুর পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্রের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ, কাবুলেংওয়ার কাজ প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং মুতুঙ্গোর জলাধারের কাজ প্রায় ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ২৫ কিলোমিটার পানি সরবরাহ পাইপ বসানো হয়েছে। পুরো পাইপ বসানোর কাজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শেষ হয়েছে।

পুরো প্রকল্প ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাসিন্দাদের ততদিন অপেক্ষা করাতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো অংশের কাজ শেষ হলে সেটি আলাদাভাবে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো নামুগোঙ্গো থেকে বুলিন্দো, এনসাসা ও মুলাওয়া হয়ে কিরা-কাসানগাতি সড়ক পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান পাইপলাইন। এটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা।

এর ফলে নামুগোঙ্গো, কিরা, বুয়াতে, বুলিন্দো, মুলাওয়া, কাসানগাতি এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে ওয়াকিসো, কাকিরি, গায়াজা, নানসানা, ক্যান্য্যান্যা, লুতেতে ও মাতুগ্গাসহ মহানগর এলাকার বিস্তৃত অঞ্চলে পানি সরবরাহ আরও শক্তিশালী হবে।

বাড়ছে শহর, বাড়ছে পানির চাপ

কাম্পালার পানি সমস্যাকে এখন আর শুধু রাজধানী শহরের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ক্রমেই পুরো মহানগর এলাকার সমস্যা হয়ে উঠছে।

২০২৪ সালের জাতীয় জনসংখ্যা ও আবাসন শুমারি অনুযায়ী, কাম্পালা ও ওয়াকিসো মিলিয়ে জনসংখ্যা ৫২ লাখের বেশি। ওয়াকিসো বর্তমানে উগান্ডার সবচেয়ে জনবহুল জেলা।

নগর সম্প্রসারণের বড় অংশই ঘটেছে ঐতিহ্যবাহী শহরসীমার বাইরে। যেসব এলাকা একসময় গ্রাম ছিল, সেগুলো এখন আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ধীরে ধীরে পৃথক শহরে পরিণত হচ্ছে।

কিন্তু মানুষ ও ভবন বাড়লেই পানি অবকাঠামো নিজে থেকে বাড়ে না। চাহিদা তৈরি হওয়ার বহু বছর আগেই পাইপলাইন, জলাধার, পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্র ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিকল্পনা করে তৈরি করতে হয়।

ড. মুগিশার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্ব এখানেই।

কাসাটির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতিও চলছে

বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে কাসাটি থেকে প্রতিদিন পুরো ১৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে চায় জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থা।

তবে পরিকল্পনা এখানেই থেমে নেই। কাসাটি শোধনাগারের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিদিন ২৪ কোটি লিটার পর্যন্ত নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পানি সরিয়ে নেওয়ার পাইপলাইন তৈরির কাজও শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. মুগিশার ভাষায়, কাসাটিতে বিপুল পরিমাণ পানি রয়েছে এবং সেই পানি আরও বেশি পরিমাণে শহরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

কাসাটির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বহু বছর ধরে কাম্পালার পানির বড় অংশের চাপ বহন করে আসা পুরোনো গগাবা পানি শোধনাগারের ওপরও চাপ কমবে।

শুধু নতুন প্রকল্প নয়, নিজেদের সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে সংস্থা

দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থা নিজেদের প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে।

সংস্থার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যালেক্স গিসাগারা জানিয়েছেন, কাসাটি ও কাগেরা পানি প্রকল্পের মতো নতুন স্থাপনাগুলো পরিচালনার জন্য তাদের নিজস্ব দল ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। কাসাটি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হলে নতুন ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও নিজেদের জনবল দিয়ে পরিচালনার সক্ষমতা থাকবে বলে তিনি জানান।

এখানে একটি বড় পরিবর্তন হলো নিজেদের দল দিয়ে কিছু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা। বাইরের ঠিকাদারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সংস্থাটি নির্দিষ্ট কিছু কাজ নিজস্ব জনবল ও সম্পদ ব্যবহার করে করছে।

এতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নিজেদের প্রকৌশল দক্ষতাও বাড়ছে।

প্রযুক্তিতেও বাইরের নির্ভরতা কমছে

প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।

ড. মুগিশার দাবি, গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি কোনো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা বাইরে থেকে কিনেনি। বরং নিজেদের প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

এর ফলে পুরোনো বাইরের প্রতিষ্ঠানের তৈরি ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সরিয়ে নিজেদের তৈরি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

ড. মুগিশার মতে, এতে শুধু অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে না; নিজেদের তৈরি ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়ছে। কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ব্যবস্থা বন্ধ থাকার ঝুঁকিও কমছে।

একটি সাইবার হামলার সময়ও নিজেদের তৈরি ব্যবস্থা থাকার সুবিধা পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, আক্রান্ত ব্যবস্থাটি দ্রুত ঠিক করা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের ইঙ্গিতও পাওয়া যায় এবং একজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা খোলা রেখেছিলেন বলে তিনি জানান।

পানির পাইপের আড়ালে রয়েছে অর্থ সাশ্রয়ের কৌশল

একটি সরকারি জনসেবা প্রতিষ্ঠান সামাজিকভাবে সংবেদনশীল দামে পানি সরবরাহ করেও কীভাবে এত বড় বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তরও রয়েছে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা কৌশলে।

ড. মুগিশার দর্শন হলো, শুধু আয় বাড়ানোর চেষ্টা নয়, আগে খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

নিজস্ব প্রকৌশল নকশা তৈরির সক্ষমতা বিনিয়োগ ব্যয় কমিয়েছে। বিশেষ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মাধ্যমে অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট দলকে উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ড. মুগিশা জানান, একসময় সংস্থাটি এমন কিছু ঝুঁকির জন্য বছরে প্রায় ২৫০ কোটি উগান্ডান শিলিং বিমা ব্যয় করত, যেগুলোর বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। এমনকি প্রায় ৪০ কোটি শিলিংয়ের সম্ভাব্য ক্ষতির জন্যও বিমা করা হয়েছিল।

পরে তিনি প্রতিষ্ঠানকে কিছু ঝুঁকি নিজেরাই বহন করার অনুমতি নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এরপর একটি অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠন করা হয় এবং তার জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ করা হয়।

ড. মুগিশার দাবি, এর ফলে গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০০ কোটি উগান্ডান শিলিং সাশ্রয় হয়েছে।

এই অর্থ হয়তো নতুন জলাধার বা বিশাল পাইপলাইনের মতো চোখে পড়ে না। কিন্তু একটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টেকসইভাবে পরিচালনা করতে এমন আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রকৌশল দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আগামী দিনের কাম্পালাকে মাথায় রেখেই পরিকল্পনা

২০২৭ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প শেষ হলেও কাম্পালার পানি সমস্যা শেষ হবে না।

শহরের জনসংখ্যা আরও বাড়বে। নতুন বহুতল ভবন তৈরি হবে। কৃষিজমি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হবে। মানুষ ঐতিহ্যবাহী শহরকেন্দ্র থেকে আরও দূরে এবং অনেক ক্ষেত্রে আরও উঁচু এলাকায় বসতি গড়বে।

অর্থাৎ পানির চাপও ধীরে ধীরে শহরের বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়বে।

এই বাস্তবতার কারণেই বর্তমান বিনিয়োগকে শুধু আজকের ঘাটতি পূরণের প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং আগামী দিনের চাহিদা আগেই অনুমান করে অবকাঠামো তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

৭০ কিলোমিটার নতুন প্রধান পাইপলাইন, জলাধার, পানি চাপ বাড়ানোর কেন্দ্র, কাসাটি থেকে পানি সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে এগুলো কাম্পালার ভবিষ্যৎ নগর বিস্তারের জন্য এক ধরনের অদৃশ্য জীবনরেখা তৈরি করছে।

একটি শহর শুধু বাড়িঘর, সড়ক ও বাণিজ্যিক ভবন দিয়ে টেকসই হয় না। তার নিচে থাকা পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, যোগাযোগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও একই গতিতে, বরং অনেক সময় তার আগেই সম্প্রসারিত করতে হয়।

জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থার তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো কাসাটির বর্তমান সক্ষমতার পানি আরও বেশি পরিমাণে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরও বড়—এমন একটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা আগামী দিনের আরও বড় মহানগরকে সামলাতে পারবে।

কাম্পালার কল শুকিয়ে যাওয়ার পর সমাধান খোঁজার বদলে আজই ভবিষ্যতের শহরের জন্য সক্ষমতা তৈরি করাই ড. মুগিশার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল কথা।