০৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

কিউট এআই স্কুলছাত্রী থেকে উগ্র ডানপন্থার মুখ, অ্যামেলিয়া মিমে ছড়াচ্ছে বিদ্বেষ

প্রথম দেখায় বেগুনি চুলের ছোট ছাঁট আর কার্টুনে আঁকা মুখ। একেবারে নিরীহ এক ব্রিটিশ স্কুলছাত্রী। নাম অ্যামেলিয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে এই কাল্পনিক চরিত্রই সামাজিক মাধ্যমে উগ্র ডানপন্থার নতুন প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি ও ভিডিওতে তাকে ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে বর্ণবাদী, অভিবাসনবিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য।

সামাজিক মাধ্যমে অ্যামেলিয়ার উত্থান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিম ও ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যামেলিয়া ব্রিটিশ সংস্কৃতির স্টেরিওটাইপ উদযাপন করছে। পাবের ভেতর বিয়ার হাতে বসে থাকা, জনপ্রিয় উপন্যাস পড়া কিংবা ইতিহাসের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক ভাষা। কোনো কোনো ভিডিওতে তাকে অভিবাসী বহিষ্কারের সহিংস দৃশ্যেও হাজির করা হয়েছে। এতটাই চরম রূপ নিয়েছে এই কনটেন্ট যে, কট্টর ডানপন্থী কর্মীরাও তা শেয়ার করতে শুরু করেছেন।

সরকারি শিক্ষামূলক প্রকল্প থেকে মিমে রূপান্তর
এই অ্যামেলিয়ার জন্ম কিন্তু উগ্র রাজনীতির ভেতর নয়। প্রায় দুই বছর আগে তাকে তৈরি করা হয়েছিল একটি শিক্ষামূলক কম্পিউটার খেলায়। উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের অনলাইন চরমপন্থা সম্পর্কে সচেতন করা। খেলাটিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিত এবং দেখানো হতো কীভাবে ভুল তথ্য ও ঘৃণামূলক চিন্তা ধীরে ধীরে মানুষকে সহিংস পথে ঠেলে দেয়। সেখানে অ্যামেলিয়া ছিল এমন এক চরিত্র, যে ধাপে ধাপে বিভ্রান্তিকর ও অভিবাসনবিরোধী ধারণা ছড়িয়ে অন্যদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

খেলাটি একা খেলার জন্য নয়, বরং শিক্ষকদের সহায়তায় আলোচনার অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছিল। তবে এর সরল কাঠামো ও কিছু অতিরঞ্জিত দৃশ্য নিয়ে অনলাইনে সমালোচনা শুরু হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগায় উগ্র ডানপন্থীরা।

Amelia: This cute AI-generated schoolgirl is a growing far-right meme | CNN

কেন অ্যামেলিয়া এত সহজে গ্রহণযোগ্য হলো
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামেলিয়ার চেহারা ও উপস্থাপনই তাকে সহজে দখল করার সুযোগ তৈরি করেছে। সাদা চামড়ার, আকর্ষণীয় এক কিশোরী যে একই সঙ্গে উগ্র মতাদর্শ প্রচার করছে—এই বৈপরীত্যই মিম সংস্কৃতিতে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। অনেক ভিডিওতে তাকে যৌনায়িতভাবেও দেখানো হয়েছে, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নৈতিক অভিযোগ তোলা একই গোষ্ঠীর দ্বিচারিতা আরও স্পষ্ট করে।

ভুল তথ্যের জ্বালানি
একটি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এই মিম ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়িয়ে দেয়। সেখানে দাবি করা হয়, খেলাটি নাকি সব কিশোরকে উগ্রপন্থী হিসেবে দেখছে। পরে আরও কিছু গণমাধ্যম ভুলভাবে প্রচার করে যে, সরকার নাকি অভিবাসন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই শিশুদের চরমপন্থা দমন কর্মসূচিতে পাঠাবে। এই বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যাই অ্যামেলিয়া মিমকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দেয়।

মিম, বিদ্বেষ আর বিশ্বাসযোগ্যতার ধোঁয়াশা
মিম এখন রাজনৈতিক ভাষারই একটি রূপ। এগুলো প্রায়ই এমন ভাবে তৈরি হয়, যাতে প্রয়োজনে বলা যায় সবই রসিকতা। কিন্তু এই আড়ালের ভাষাতেই ঢুকে পড়ে ঘৃণা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ও ছড়িয়ে পড়ছে।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের কনটেন্ট ইন্টারনেট ভরে দেওয়া উগ্র ডানপন্থীদের জন্য বড় সুবিধা। এতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিক ও জনপ্রিয় বলে মনে হতে থাকে। অনেক ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না, তারা যে ছবিটি দেখছেন তা বাস্তব কোনো মানুষের নয়, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি। ফলে ধীরে ধীরে মিথ্যাই সত্যের মতো গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

এই ঘটনাই দেখাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মিম সংস্কৃতি মিলিয়ে কীভাবে বিদ্বেষমূলক রাজনীতি নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সাধারণ দর্শক কতটা সহজে তার শিকার হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

কিউট এআই স্কুলছাত্রী থেকে উগ্র ডানপন্থার মুখ, অ্যামেলিয়া মিমে ছড়াচ্ছে বিদ্বেষ

০৩:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রথম দেখায় বেগুনি চুলের ছোট ছাঁট আর কার্টুনে আঁকা মুখ। একেবারে নিরীহ এক ব্রিটিশ স্কুলছাত্রী। নাম অ্যামেলিয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে এই কাল্পনিক চরিত্রই সামাজিক মাধ্যমে উগ্র ডানপন্থার নতুন প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি ও ভিডিওতে তাকে ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে বর্ণবাদী, অভিবাসনবিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য।

সামাজিক মাধ্যমে অ্যামেলিয়ার উত্থান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিম ও ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যামেলিয়া ব্রিটিশ সংস্কৃতির স্টেরিওটাইপ উদযাপন করছে। পাবের ভেতর বিয়ার হাতে বসে থাকা, জনপ্রিয় উপন্যাস পড়া কিংবা ইতিহাসের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক ভাষা। কোনো কোনো ভিডিওতে তাকে অভিবাসী বহিষ্কারের সহিংস দৃশ্যেও হাজির করা হয়েছে। এতটাই চরম রূপ নিয়েছে এই কনটেন্ট যে, কট্টর ডানপন্থী কর্মীরাও তা শেয়ার করতে শুরু করেছেন।

সরকারি শিক্ষামূলক প্রকল্প থেকে মিমে রূপান্তর
এই অ্যামেলিয়ার জন্ম কিন্তু উগ্র রাজনীতির ভেতর নয়। প্রায় দুই বছর আগে তাকে তৈরি করা হয়েছিল একটি শিক্ষামূলক কম্পিউটার খেলায়। উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের অনলাইন চরমপন্থা সম্পর্কে সচেতন করা। খেলাটিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিত এবং দেখানো হতো কীভাবে ভুল তথ্য ও ঘৃণামূলক চিন্তা ধীরে ধীরে মানুষকে সহিংস পথে ঠেলে দেয়। সেখানে অ্যামেলিয়া ছিল এমন এক চরিত্র, যে ধাপে ধাপে বিভ্রান্তিকর ও অভিবাসনবিরোধী ধারণা ছড়িয়ে অন্যদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

খেলাটি একা খেলার জন্য নয়, বরং শিক্ষকদের সহায়তায় আলোচনার অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছিল। তবে এর সরল কাঠামো ও কিছু অতিরঞ্জিত দৃশ্য নিয়ে অনলাইনে সমালোচনা শুরু হয়। সেই সুযোগই কাজে লাগায় উগ্র ডানপন্থীরা।

Amelia: This cute AI-generated schoolgirl is a growing far-right meme | CNN

কেন অ্যামেলিয়া এত সহজে গ্রহণযোগ্য হলো
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামেলিয়ার চেহারা ও উপস্থাপনই তাকে সহজে দখল করার সুযোগ তৈরি করেছে। সাদা চামড়ার, আকর্ষণীয় এক কিশোরী যে একই সঙ্গে উগ্র মতাদর্শ প্রচার করছে—এই বৈপরীত্যই মিম সংস্কৃতিতে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। অনেক ভিডিওতে তাকে যৌনায়িতভাবেও দেখানো হয়েছে, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নৈতিক অভিযোগ তোলা একই গোষ্ঠীর দ্বিচারিতা আরও স্পষ্ট করে।

ভুল তথ্যের জ্বালানি
একটি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এই মিম ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়িয়ে দেয়। সেখানে দাবি করা হয়, খেলাটি নাকি সব কিশোরকে উগ্রপন্থী হিসেবে দেখছে। পরে আরও কিছু গণমাধ্যম ভুলভাবে প্রচার করে যে, সরকার নাকি অভিবাসন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই শিশুদের চরমপন্থা দমন কর্মসূচিতে পাঠাবে। এই বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যাই অ্যামেলিয়া মিমকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দেয়।

মিম, বিদ্বেষ আর বিশ্বাসযোগ্যতার ধোঁয়াশা
মিম এখন রাজনৈতিক ভাষারই একটি রূপ। এগুলো প্রায়ই এমন ভাবে তৈরি হয়, যাতে প্রয়োজনে বলা যায় সবই রসিকতা। কিন্তু এই আড়ালের ভাষাতেই ঢুকে পড়ে ঘৃণা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ও ছড়িয়ে পড়ছে।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের কনটেন্ট ইন্টারনেট ভরে দেওয়া উগ্র ডানপন্থীদের জন্য বড় সুবিধা। এতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিক ও জনপ্রিয় বলে মনে হতে থাকে। অনেক ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না, তারা যে ছবিটি দেখছেন তা বাস্তব কোনো মানুষের নয়, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি। ফলে ধীরে ধীরে মিথ্যাই সত্যের মতো গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

এই ঘটনাই দেখাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মিম সংস্কৃতি মিলিয়ে কীভাবে বিদ্বেষমূলক রাজনীতি নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সাধারণ দর্শক কতটা সহজে তার শিকার হতে পারে।