০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

কিয়ার স্টারমারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা: শিশুদের সুরক্ষা নাকি বড়দের জন্যও সতর্কবার্তা?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার মাধ্যমে একটি বহুল আলোচিত নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর এ ঘোষণাকে স্টারমার সরকারের একটি বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি, ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর বিস্তার এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নীতির পেছনের যুক্তি

সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, আইন সবসময় শতভাগ কার্যকর না হলেও তা সমাজের মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সীমিত করা হলে তারা আরও নিরাপদ, সুখী এবং স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই আইন বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ এবং নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ কিশোর-কিশোরীরা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

বিরোধী দলগুলোর সমর্থন

এই উদ্যোগের প্রতি বিরোধী দলগুলোরও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। রক্ষণশীল দলও নীতিটির প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে এটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বসন্তে আইনটি কার্যকর হতে পারে। একই সময়ে নতুন ধূমপানবিরোধী আইনও কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যার আওতায় ২০০৯ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ হবে।

শুধু শিশুদের জন্য আইন কি যথেষ্ট?

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক কর্মী জর্জিয়া হ্যারিসন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর সংস্কৃতি কীভাবে পরিবর্তন করা হবে?

তার বক্তব্য ছিল, একজন কিশোর ১৬ বছরে পা দিলেই অনলাইনে বিদ্যমান বিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ কিংবা ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হবে। ফলে কেবল বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা সমস্যার মূল সমাধান নয়।

প্রশ্নটির সরাসরি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি স্টারমার। কারণ এটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নকশা, অ্যালগরিদম এবং ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৃহত্তর বিতর্ক।

প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা

স্টারমার নিজেও স্বীকার করেন যে অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকে। অবিরাম নিচে নামতে থাকা প্রদর্শনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে।

তবে এই সমস্যা শুধু শিশুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের বড় একটি অংশও প্রতিদিন দীর্ঘ সময় মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটাচ্ছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা শিশুদের জন্য হলেও এটি সমাজজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনেকের মতে, শিশুদের সুরক্ষার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনলাইন সংস্কৃতি, প্রযুক্তি কোম্পানির দায়বদ্ধতা এবং ডিজিটাল আসক্তির বিস্তৃত সমস্যাগুলো মোকাবিলা না করলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

কিয়ার স্টারমারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা: শিশুদের সুরক্ষা নাকি বড়দের জন্যও সতর্কবার্তা?

০৮:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার মাধ্যমে একটি বহুল আলোচিত নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর এ ঘোষণাকে স্টারমার সরকারের একটি বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি, ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর বিস্তার এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নীতির পেছনের যুক্তি

সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, আইন সবসময় শতভাগ কার্যকর না হলেও তা সমাজের মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সীমিত করা হলে তারা আরও নিরাপদ, সুখী এবং স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই আইন বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ এবং নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ কিশোর-কিশোরীরা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

বিরোধী দলগুলোর সমর্থন

এই উদ্যোগের প্রতি বিরোধী দলগুলোরও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। রক্ষণশীল দলও নীতিটির প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে এটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বসন্তে আইনটি কার্যকর হতে পারে। একই সময়ে নতুন ধূমপানবিরোধী আইনও কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যার আওতায় ২০০৯ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ হবে।

শুধু শিশুদের জন্য আইন কি যথেষ্ট?

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক কর্মী জর্জিয়া হ্যারিসন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর সংস্কৃতি কীভাবে পরিবর্তন করা হবে?

তার বক্তব্য ছিল, একজন কিশোর ১৬ বছরে পা দিলেই অনলাইনে বিদ্যমান বিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ কিংবা ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হবে। ফলে কেবল বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা সমস্যার মূল সমাধান নয়।

প্রশ্নটির সরাসরি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি স্টারমার। কারণ এটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নকশা, অ্যালগরিদম এবং ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৃহত্তর বিতর্ক।

প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা

স্টারমার নিজেও স্বীকার করেন যে অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকে। অবিরাম নিচে নামতে থাকা প্রদর্শনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে।

তবে এই সমস্যা শুধু শিশুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের বড় একটি অংশও প্রতিদিন দীর্ঘ সময় মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটাচ্ছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা শিশুদের জন্য হলেও এটি সমাজজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনেকের মতে, শিশুদের সুরক্ষার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনলাইন সংস্কৃতি, প্রযুক্তি কোম্পানির দায়বদ্ধতা এবং ডিজিটাল আসক্তির বিস্তৃত সমস্যাগুলো মোকাবিলা না করলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।