০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

কোল্ড ওয়ার-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা ভাঙছে, সামনে ইস্যুভিত্তিক নতুন জোটের যুগ: কার্নি-স্টাবের বার্তা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বৈশ্বিক ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তনের মুখে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব মনে করছেন, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা আর কেবল বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান বা প্রচলিত কূটনীতির ওপর নির্ভর করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বরং ভবিষ্যতের বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ইস্যুভিত্তিক, নমনীয় এবং উদ্দেশ্যনির্ভর জোট।

তাদের মতে, বিশ্ব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবর্তিত ভূরাজনীতির নতুন বাস্তবতা

কার্নি ও স্টাব বলেন, ফিনল্যান্ড এমন একটি দেশের প্রতিবেশী, যেখানে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। অন্যদিকে কানাডা বিশ্বের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভাগ করে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যে দেশ এখন নিজের অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে।

এই পরিবর্তনের পাশাপাশি ভারত, চীন এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর গুরুত্বও দ্রুত বাড়ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ক্ষমতা আর একক কোনো পশ্চিমা কেন্দ্রের হাতে সীমাবদ্ধ নেই। এখন বিশ্বে একটি গ্লোবাল ওয়েস্ট, একটি গ্লোবাল ইস্ট এবং একটি গ্লোবাল সাউথ—এই তিনটি শক্তিকেন্দ্র ক্রমেই আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রযুক্তি তৈরি করছে নতুন শক্তিকেন্দ্র

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটিং সক্ষমতা, তথ্য এবং এআই মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তিনির্ভর আরেকটি বৈশ্বিক শক্তিকাঠামো গড়ে উঠছে। এই প্রযুক্তিগত শক্তি মানুষের জীবন, কাজ এবং যোগাযোগের ধরন বদলে দিচ্ছে, অথচ তা অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত আন্তর্জাতিক নিয়মের বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।

মূল্যবোধ ও বাস্তবতার সমন্বয়ের আহ্বান

দুই নেতা মনে করেন, কেবল বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি অন্ধ আস্থা কিংবা কঠোর বাস্তববাদ—কোনোটিই বর্তমান সংকটের কার্যকর সমাধান নয়। এর পরিবর্তে তারা “মূল্যবোধভিত্তিক বাস্তববাদ” গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও সংহতির মতো মৌলিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে হবে। তবে একই সঙ্গে এটাও মেনে নিতে হবে যে, সব অংশীদার একই মূল্যবোধ ধারণ করবে না। তাই যেসব দেশের সঙ্গে স্বার্থ ও মূল্যবোধের মিল রয়েছে, তাদের সঙ্গে গভীর সহযোগিতা বাড়াতে হবে এবং অন্যদের সঙ্গে বাস্তবতা বিবেচনায় সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।

Canada PM warns Post-Cold War global order is unraveling amid rising  geopolitical tensions

বহুপাক্ষিকতার পাশাপাশি ইস্যুভিত্তিক জোট

কার্নি ও স্টাবের মতে, বিশ্ব ক্রমেই বহুপাক্ষিক কাঠামো থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। তবে এটি কেবল দুই বিকল্পের বিষয় নয়। তারা “প্লুরিল্যাটারাল” বা সীমিত অংশগ্রহণভিত্তিক সহযোগিতার একটি নতুন মডেলের কথা বলেছেন, যেখানে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন দেশ অস্থায়ী বা ইস্যুভিত্তিক জোট গঠন করবে।

তাদের মতে, ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অংশীদার দেশগুলোর সমন্বয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং জি-৭-এর গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষার উদ্যোগ—এসবই এই নতুন ধরনের সহযোগিতার উদাহরণ।

একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জ্বালানি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এ ধরনের জোট গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

পুরোনো বিশ্বের জন্য নয়, নতুন বিশ্বের জন্য প্রস্তুতি

দুই নেতা বলেছেন, পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে দেশগুলোর উচিত নতুন বিশ্বের উপযোগী প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো এবং কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

তাদের মতে, বিশেষ করে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কানাডা ও ফিনল্যান্ড নিজেদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সংযোগ, বাড়তি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা, মানবাধিকার ও বহুত্ববাদের প্রতি অঙ্গীকারের কারণে এই পরিবর্তনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।

কোল্ড ওয়ার-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা ভাঙছে, সামনে ইস্যুভিত্তিক নতুন জোটের যুগ নিয়ে কানাডা ও ফিনল্যান্ডের দুই নেতার দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈশ্বিক শক্তির পরিবর্তনের চিত্র।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

কোল্ড ওয়ার-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা ভাঙছে, সামনে ইস্যুভিত্তিক নতুন জোটের যুগ: কার্নি-স্টাবের বার্তা

০৫:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বৈশ্বিক ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তনের মুখে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব মনে করছেন, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা আর কেবল বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান বা প্রচলিত কূটনীতির ওপর নির্ভর করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বরং ভবিষ্যতের বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ইস্যুভিত্তিক, নমনীয় এবং উদ্দেশ্যনির্ভর জোট।

তাদের মতে, বিশ্ব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবর্তিত ভূরাজনীতির নতুন বাস্তবতা

কার্নি ও স্টাব বলেন, ফিনল্যান্ড এমন একটি দেশের প্রতিবেশী, যেখানে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। অন্যদিকে কানাডা বিশ্বের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভাগ করে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যে দেশ এখন নিজের অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে।

এই পরিবর্তনের পাশাপাশি ভারত, চীন এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর গুরুত্বও দ্রুত বাড়ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ক্ষমতা আর একক কোনো পশ্চিমা কেন্দ্রের হাতে সীমাবদ্ধ নেই। এখন বিশ্বে একটি গ্লোবাল ওয়েস্ট, একটি গ্লোবাল ইস্ট এবং একটি গ্লোবাল সাউথ—এই তিনটি শক্তিকেন্দ্র ক্রমেই আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রযুক্তি তৈরি করছে নতুন শক্তিকেন্দ্র

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটিং সক্ষমতা, তথ্য এবং এআই মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তিনির্ভর আরেকটি বৈশ্বিক শক্তিকাঠামো গড়ে উঠছে। এই প্রযুক্তিগত শক্তি মানুষের জীবন, কাজ এবং যোগাযোগের ধরন বদলে দিচ্ছে, অথচ তা অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত আন্তর্জাতিক নিয়মের বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।

মূল্যবোধ ও বাস্তবতার সমন্বয়ের আহ্বান

দুই নেতা মনে করেন, কেবল বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি অন্ধ আস্থা কিংবা কঠোর বাস্তববাদ—কোনোটিই বর্তমান সংকটের কার্যকর সমাধান নয়। এর পরিবর্তে তারা “মূল্যবোধভিত্তিক বাস্তববাদ” গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও সংহতির মতো মৌলিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে হবে। তবে একই সঙ্গে এটাও মেনে নিতে হবে যে, সব অংশীদার একই মূল্যবোধ ধারণ করবে না। তাই যেসব দেশের সঙ্গে স্বার্থ ও মূল্যবোধের মিল রয়েছে, তাদের সঙ্গে গভীর সহযোগিতা বাড়াতে হবে এবং অন্যদের সঙ্গে বাস্তবতা বিবেচনায় সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।

Canada PM warns Post-Cold War global order is unraveling amid rising  geopolitical tensions

বহুপাক্ষিকতার পাশাপাশি ইস্যুভিত্তিক জোট

কার্নি ও স্টাবের মতে, বিশ্ব ক্রমেই বহুপাক্ষিক কাঠামো থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। তবে এটি কেবল দুই বিকল্পের বিষয় নয়। তারা “প্লুরিল্যাটারাল” বা সীমিত অংশগ্রহণভিত্তিক সহযোগিতার একটি নতুন মডেলের কথা বলেছেন, যেখানে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন দেশ অস্থায়ী বা ইস্যুভিত্তিক জোট গঠন করবে।

তাদের মতে, ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অংশীদার দেশগুলোর সমন্বয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং জি-৭-এর গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষার উদ্যোগ—এসবই এই নতুন ধরনের সহযোগিতার উদাহরণ।

একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জ্বালানি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এ ধরনের জোট গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

পুরোনো বিশ্বের জন্য নয়, নতুন বিশ্বের জন্য প্রস্তুতি

দুই নেতা বলেছেন, পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে দেশগুলোর উচিত নতুন বিশ্বের উপযোগী প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো এবং কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

তাদের মতে, বিশেষ করে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কানাডা ও ফিনল্যান্ড নিজেদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সংযোগ, বাড়তি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা, মানবাধিকার ও বহুত্ববাদের প্রতি অঙ্গীকারের কারণে এই পরিবর্তনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।

কোল্ড ওয়ার-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা ভাঙছে, সামনে ইস্যুভিত্তিক নতুন জোটের যুগ নিয়ে কানাডা ও ফিনল্যান্ডের দুই নেতার দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈশ্বিক শক্তির পরিবর্তনের চিত্র।