০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত, স্তন ক্যানসারের ওষুধে বড় সাফল্যের আশা

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ধরনের একটি ওষুধ অনুমোদন পাওয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির সূচনা হয়েছে। এই ওষুধ শুধু রোগ সৃষ্টিকারী প্রোটিনের কার্যক্রম বন্ধ করে না, বরং কোষের ভেতর থেকেই সেই ক্ষতিকর প্রোটিনকে অপসারণ করে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন বলে বিবেচিত অনেক রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেছে।

কী কারণে এই ওষুধ আলাদা

নতুন ওষুধটি এমন রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাদের উন্নত পর্যায়ের স্তন ক্যান্সারে নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন রয়েছে এবং প্রচলিত হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা আর কার্যকর থাকছে না। প্রচলিত ওষুধ সাধারণত ক্ষতিকর প্রোটিনের একটি নির্দিষ্ট কাজ আটকে দেয়। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির ওষুধ পুরো প্রোটিনটিকেই কোষ থেকে সরিয়ে দেয়। এর ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, একটি অণু একাধিকবার একই ধরনের ক্ষতিকর প্রোটিন ধ্বংস করতে পারে। ফলে তুলনামূলক কম মাত্রার ওষুধেও কার্যকর ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

কীভাবে কাজ করে নতুন প্রযুক্তি

এই পদ্ধতিতে তৈরি বিশেষ অণুর এক প্রান্ত লক্ষ্যবস্তু প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়, আর অন্য প্রান্ত কোষের স্বাভাবিক প্রোটিন অপসারণ ব্যবস্থার একটি এনজাইমের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। এরপর কোষ নিজেই ক্ষতিকর প্রোটিনকে ভেঙে ফেলে।

অর্থাৎ, ওষুধটি সরাসরি রোগের কারণকে কোষের ভেতর থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এটিকে ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

ESR1, PIK3CA, and Beyond: Precision Therapy Advances in HR+ Breast Cancer |  Pharmacy Times

দুই দশকের গবেষণার ফল

এই প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপিত হয় দুই দশকেরও বেশি আগে। শুরুতে এটি শুধু গবেষণাগারে ব্যবহৃত হতো। তখন অণুগুলো বড় আকারের, অস্থিতিশীল এবং ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী ছিল না।

পরবর্তী সময়ে গবেষকেরা এর গঠন উন্নত করেন, স্থায়িত্ব বাড়ান এবং শরীরে কার্যকরভাবে কাজ করার উপযোগী করে তোলেন। ধাপে ধাপে পরীক্ষার পর এটি মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল গবেষণায় প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পায়।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে

সর্বশেষ পর্যায়ের পরীক্ষায় কয়েক শত রোগীর ওপর ওষুধটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। যেসব রোগীর ক্যান্সারে নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন ছিল, তাদের ক্ষেত্রে নতুন ওষুধ ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় কার্যকর ছিল।

ওষুধটির আরেকটি সুবিধা হলো এটি মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট, যেখানে প্রচলিত কিছু চিকিৎসায় নিয়মিত ইনজেকশন নিতে হয়। ফলে রোগীদের জন্য চিকিৎসা আরও সহজ ও আরামদায়ক হতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কতটা

গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই ছিল তুলনামূলক হালকা। এর মধ্যে শরীর ও পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামন্দা, যকৃত-সম্পর্কিত কিছু সাময়িক পরিবর্তন এবং হৃদস্পন্দনের সামান্য অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন অসংখ্য প্রোটিন রয়েছে, যেগুলোকে প্রচলিত ওষুধ দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন। নতুন প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারে। এ কারণে শুধু ক্যান্সার নয়, স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ, প্রদাহজনিত অসুস্থতা এবং পেশির বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায়ও এই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে।

বর্তমানে এই প্রযুক্তিভিত্তিক ৪০টিরও বেশি সম্ভাব্য ওষুধ বিভিন্ন পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় রয়েছে এবং ২০০টির বেশি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে গবেষণা এগিয়ে চলছে।

এখনও যেসব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়েছে। এই ধরনের অণু প্রচলিত ওষুধের তুলনায় বড় ও জটিল হওয়ায় শরীরে শোষণ ও বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে ক্যান্সার কোষ নতুন প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসার কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, বাস্তব জীবনের ফলাফল এবং অন্যান্য রোগে এর কার্যকারিতা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তবু নতুন এই অনুমোদন লক্ষ্যভিত্তিক প্রোটিন অপসারণ প্রযুক্তিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বাস্তব ও সম্ভাবনাময় পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে বড় মাইলফলক হয়ে থাকল। ভবিষ্যতে এটি ক্যান্সারসহ আরও বহু জটিল রোগের চিকিৎসার ধরন বদলে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত, স্তন ক্যানসারের ওষুধে বড় সাফল্যের আশা

০৮:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ধরনের একটি ওষুধ অনুমোদন পাওয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির সূচনা হয়েছে। এই ওষুধ শুধু রোগ সৃষ্টিকারী প্রোটিনের কার্যক্রম বন্ধ করে না, বরং কোষের ভেতর থেকেই সেই ক্ষতিকর প্রোটিনকে অপসারণ করে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন বলে বিবেচিত অনেক রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেছে।

কী কারণে এই ওষুধ আলাদা

নতুন ওষুধটি এমন রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাদের উন্নত পর্যায়ের স্তন ক্যান্সারে নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন রয়েছে এবং প্রচলিত হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা আর কার্যকর থাকছে না। প্রচলিত ওষুধ সাধারণত ক্ষতিকর প্রোটিনের একটি নির্দিষ্ট কাজ আটকে দেয়। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির ওষুধ পুরো প্রোটিনটিকেই কোষ থেকে সরিয়ে দেয়। এর ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, একটি অণু একাধিকবার একই ধরনের ক্ষতিকর প্রোটিন ধ্বংস করতে পারে। ফলে তুলনামূলক কম মাত্রার ওষুধেও কার্যকর ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

কীভাবে কাজ করে নতুন প্রযুক্তি

এই পদ্ধতিতে তৈরি বিশেষ অণুর এক প্রান্ত লক্ষ্যবস্তু প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়, আর অন্য প্রান্ত কোষের স্বাভাবিক প্রোটিন অপসারণ ব্যবস্থার একটি এনজাইমের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। এরপর কোষ নিজেই ক্ষতিকর প্রোটিনকে ভেঙে ফেলে।

অর্থাৎ, ওষুধটি সরাসরি রোগের কারণকে কোষের ভেতর থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এটিকে ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

ESR1, PIK3CA, and Beyond: Precision Therapy Advances in HR+ Breast Cancer |  Pharmacy Times

দুই দশকের গবেষণার ফল

এই প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপিত হয় দুই দশকেরও বেশি আগে। শুরুতে এটি শুধু গবেষণাগারে ব্যবহৃত হতো। তখন অণুগুলো বড় আকারের, অস্থিতিশীল এবং ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী ছিল না।

পরবর্তী সময়ে গবেষকেরা এর গঠন উন্নত করেন, স্থায়িত্ব বাড়ান এবং শরীরে কার্যকরভাবে কাজ করার উপযোগী করে তোলেন। ধাপে ধাপে পরীক্ষার পর এটি মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল গবেষণায় প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পায়।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে

সর্বশেষ পর্যায়ের পরীক্ষায় কয়েক শত রোগীর ওপর ওষুধটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। যেসব রোগীর ক্যান্সারে নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন ছিল, তাদের ক্ষেত্রে নতুন ওষুধ ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় কার্যকর ছিল।

ওষুধটির আরেকটি সুবিধা হলো এটি মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট, যেখানে প্রচলিত কিছু চিকিৎসায় নিয়মিত ইনজেকশন নিতে হয়। ফলে রোগীদের জন্য চিকিৎসা আরও সহজ ও আরামদায়ক হতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কতটা

গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই ছিল তুলনামূলক হালকা। এর মধ্যে শরীর ও পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামন্দা, যকৃত-সম্পর্কিত কিছু সাময়িক পরিবর্তন এবং হৃদস্পন্দনের সামান্য অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন অসংখ্য প্রোটিন রয়েছে, যেগুলোকে প্রচলিত ওষুধ দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন। নতুন প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারে। এ কারণে শুধু ক্যান্সার নয়, স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ, প্রদাহজনিত অসুস্থতা এবং পেশির বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায়ও এই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে।

বর্তমানে এই প্রযুক্তিভিত্তিক ৪০টিরও বেশি সম্ভাব্য ওষুধ বিভিন্ন পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় রয়েছে এবং ২০০টির বেশি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে গবেষণা এগিয়ে চলছে।

এখনও যেসব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়েছে। এই ধরনের অণু প্রচলিত ওষুধের তুলনায় বড় ও জটিল হওয়ায় শরীরে শোষণ ও বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে ক্যান্সার কোষ নতুন প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসার কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, বাস্তব জীবনের ফলাফল এবং অন্যান্য রোগে এর কার্যকারিতা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তবু নতুন এই অনুমোদন লক্ষ্যভিত্তিক প্রোটিন অপসারণ প্রযুক্তিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বাস্তব ও সম্ভাবনাময় পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে বড় মাইলফলক হয়ে থাকল। ভবিষ্যতে এটি ক্যান্সারসহ আরও বহু জটিল রোগের চিকিৎসার ধরন বদলে দিতে পারে।