০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নয়

গাজায় হামাসকে নিরস্ত্র করার বিনিময়ে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের যে মার্কিন-সমর্থিত পরিকল্পনাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত অবসানের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রোববার সরকারি বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, ১৫ দফার ওই নথি ইসরায়েল গ্রহণ করছে না।

হামাসের অবস্থান, ইসরায়েলের আপত্তি

হামাস অবশ্য ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত বোর্ড অব পিসের সঙ্গে যে পরিকল্পনায় তারা সম্মত হয়েছিল, সেটির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। গোষ্ঠীটি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে।

৩০ জুলাই প্রকাশিত গাজা পরিকল্পনায় হামাস ও ইসরায়েলকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনটি আগে হবে—এ নিয়েই দুই পক্ষের বড় মতপার্থক্য।

What is Hamas? A simple guide to the armed Palestinian group

হামাসের দাবি, প্রথমে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের অবস্থান, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে সব অস্ত্র সরিয়ে নেওয়াই সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং ইসরায়েলও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে। এরপর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন হওয়ার কথা, যারা পুনর্গঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে।

নেতানিয়াহুর কঠোর শর্ত

নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হবে কেবল ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণের’ পর, কোনো ধরনের প্রতীকী বা ভুয়া নিরস্ত্রীকরণের ভিত্তিতে নয়। হামাসকে ভারী অস্ত্র, হালকা অস্ত্রসহ সব ধরনের অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও বলেছেন, হামাসমুক্ত গাজাই যুদ্ধের লক্ষ্য এবং হামাস নিরস্ত্র হওয়ার আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা থেকে এক ইঞ্চিও সরবে না।

Netanyahu says Israel 'intends to' take over Gaza Strip but 'doesn't want  to keep' it

এর পাশাপাশি নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। অথচ গাজা কাঠামোর ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরির কথাও রয়েছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ফাটলের ইঙ্গিত মিলছে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প আশাবাদ দেখালেও তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু কঠোর দাবি পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

এদিকে রোববার ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জাজান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগারে নতুন হামলা চালিয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নয়

০১:২২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

গাজায় হামাসকে নিরস্ত্র করার বিনিময়ে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের যে মার্কিন-সমর্থিত পরিকল্পনাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত অবসানের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রোববার সরকারি বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, ১৫ দফার ওই নথি ইসরায়েল গ্রহণ করছে না।

হামাসের অবস্থান, ইসরায়েলের আপত্তি

হামাস অবশ্য ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত বোর্ড অব পিসের সঙ্গে যে পরিকল্পনায় তারা সম্মত হয়েছিল, সেটির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। গোষ্ঠীটি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে।

৩০ জুলাই প্রকাশিত গাজা পরিকল্পনায় হামাস ও ইসরায়েলকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনটি আগে হবে—এ নিয়েই দুই পক্ষের বড় মতপার্থক্য।

What is Hamas? A simple guide to the armed Palestinian group

হামাসের দাবি, প্রথমে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের অবস্থান, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে সব অস্ত্র সরিয়ে নেওয়াই সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং ইসরায়েলও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে। এরপর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন হওয়ার কথা, যারা পুনর্গঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে।

নেতানিয়াহুর কঠোর শর্ত

নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হবে কেবল ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণের’ পর, কোনো ধরনের প্রতীকী বা ভুয়া নিরস্ত্রীকরণের ভিত্তিতে নয়। হামাসকে ভারী অস্ত্র, হালকা অস্ত্রসহ সব ধরনের অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও বলেছেন, হামাসমুক্ত গাজাই যুদ্ধের লক্ষ্য এবং হামাস নিরস্ত্র হওয়ার আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা থেকে এক ইঞ্চিও সরবে না।

Netanyahu says Israel 'intends to' take over Gaza Strip but 'doesn't want  to keep' it

এর পাশাপাশি নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। অথচ গাজা কাঠামোর ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরির কথাও রয়েছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ফাটলের ইঙ্গিত মিলছে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প আশাবাদ দেখালেও তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু কঠোর দাবি পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

এদিকে রোববার ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জাজান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগারে নতুন হামলা চালিয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।