০২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

গার্ডনার গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন কলেরা ভ্যাকসিন গবেষণার দুই পথিকৃৎ

  • Sarakhon Report
  • ০২:৫৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • 73

বিশ্বস্বাস্থ্য গবেষণায় অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘জন ডির্কস কানাডা গার্ডনার গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ যৌথভাবে পেয়েছেন অধ্যাপক জন ডি. ক্লেমেন্স এবং অধ্যাপক জান হলমগ্রেন। কলেরা রোগ, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কার্যকর মুখে খাওয়ার ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে তাঁদের দীর্ঘদিনের গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এই অর্জনের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

গবেষণার পটভূমি ও স্বীকৃতির কারণ

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্লেমেন্স ও হলমগ্রেন একসঙ্গে কলেরা প্রতিরোধে কাজ করেছেন। তাঁদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ইনজেকশনের তুলনায় মুখে খাওয়ার ভ্যাকসিন বেশি কার্যকর। এই কাজের ভিত্তিতেই তৈরি হয় বিশ্বে প্রথম অনুমোদিত ও ডব্লিউএইচও-স্বীকৃত ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন ‘ডুকোরাল’। পরে আরও সাশ্রয়ী ভ্যাকসিন ‘শানকোল’ তৈরি করা হয়, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

gairdnerawards #globalhealth #cholera #vaccines #icddrb #bangladesh #publichealth | icddr,b

বাংলাদেশের ভূমিকা

বাংলাদেশে আইসিডিডিআর,বি-তে কাজ করার সময় অধ্যাপক ক্লেমেন্স ১৯৮৫ সালে মতলবে ৯০ হাজার মানুষের ওপর একটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করেন। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণিত হয়, মৃত জীবাণুভিত্তিক ওরাল ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর। পাশাপাশি এটি শুধু টিকা নেওয়া ব্যক্তিকেই নয়, পুরো সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেয়।

এছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে আগাম টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে সম্ভাব্য বড় মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দেশে উৎপাদিত ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনের উন্নয়ন ও পরীক্ষাতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বৈশ্বিক প্রভাব ও বর্তমান ব্যবহার

বাংলাদেশে সংগৃহীত গবেষণা তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে কলেরা মোকাবিলার কৌশল বদলে গেছে। বর্তমানে ডব্লিউএইচও কলেরা-প্রবণ এলাকা ও প্রাদুর্ভাব উভয় ক্ষেত্রেই ওরাল ভ্যাকসিন ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। ২০১৩ সালে গঠিত বৈশ্বিক ভ্যাকসিন মজুত থেকে ইতোমধ্যে ২০টির বেশি দেশে ১০০টিরও বেশি কর্মসূচির মাধ্যমে ৮ কোটির বেশি ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কলেরা মৃত্যুহার ৯০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে এই ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষকদের প্রতিক্রিয়া

অধ্যাপক জান হলমগ্রেন বলেন, বহু বছর আগে তৈরি এই ভ্যাকসিন এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন রক্ষা করছে—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় আনন্দ।

অধ্যাপক জন ক্লেমেন্স জানান, এই পথচলা সহজ ছিল না। বৈজ্ঞানিক, বাস্তব ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এই সাফল্য এসেছে। তিনি এটিকে সহকর্মী ও অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমীদ আহমেদ বলেন, উন্নত বিশ্বে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেলেও কলেরা এখনো একটি বড় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। এই স্বীকৃতি শুধু দুই গবেষকের নয়, বরং বাংলাদেশের অবদানকেও তুলে ধরে।

আইসিডিডিআর-বি'র প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ

গার্ডনার ফাউন্ডেশন সম্পর্কে

১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গার্ডনার ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ উদযাপন ও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। প্রতিবছর এই সংস্থা অসামান্য গবেষণার জন্য পুরস্কার প্রদান করে থাকে। এখন পর্যন্ত ৪০টির বেশি দেশের গবেষকরা এই সম্মান পেয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন।

এই স্বীকৃতি আবারও প্রমাণ করল, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় বাংলাদেশের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও এ অবদান আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

গার্ডনার গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন কলেরা ভ্যাকসিন গবেষণার দুই পথিকৃৎ

০২:৫৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বস্বাস্থ্য গবেষণায় অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘জন ডির্কস কানাডা গার্ডনার গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ যৌথভাবে পেয়েছেন অধ্যাপক জন ডি. ক্লেমেন্স এবং অধ্যাপক জান হলমগ্রেন। কলেরা রোগ, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কার্যকর মুখে খাওয়ার ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে তাঁদের দীর্ঘদিনের গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এই অর্জনের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

গবেষণার পটভূমি ও স্বীকৃতির কারণ

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্লেমেন্স ও হলমগ্রেন একসঙ্গে কলেরা প্রতিরোধে কাজ করেছেন। তাঁদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ইনজেকশনের তুলনায় মুখে খাওয়ার ভ্যাকসিন বেশি কার্যকর। এই কাজের ভিত্তিতেই তৈরি হয় বিশ্বে প্রথম অনুমোদিত ও ডব্লিউএইচও-স্বীকৃত ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন ‘ডুকোরাল’। পরে আরও সাশ্রয়ী ভ্যাকসিন ‘শানকোল’ তৈরি করা হয়, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

gairdnerawards #globalhealth #cholera #vaccines #icddrb #bangladesh #publichealth | icddr,b

বাংলাদেশের ভূমিকা

বাংলাদেশে আইসিডিডিআর,বি-তে কাজ করার সময় অধ্যাপক ক্লেমেন্স ১৯৮৫ সালে মতলবে ৯০ হাজার মানুষের ওপর একটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করেন। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণিত হয়, মৃত জীবাণুভিত্তিক ওরাল ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর। পাশাপাশি এটি শুধু টিকা নেওয়া ব্যক্তিকেই নয়, পুরো সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেয়।

এছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে আগাম টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে সম্ভাব্য বড় মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দেশে উৎপাদিত ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনের উন্নয়ন ও পরীক্ষাতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বৈশ্বিক প্রভাব ও বর্তমান ব্যবহার

বাংলাদেশে সংগৃহীত গবেষণা তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে কলেরা মোকাবিলার কৌশল বদলে গেছে। বর্তমানে ডব্লিউএইচও কলেরা-প্রবণ এলাকা ও প্রাদুর্ভাব উভয় ক্ষেত্রেই ওরাল ভ্যাকসিন ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। ২০১৩ সালে গঠিত বৈশ্বিক ভ্যাকসিন মজুত থেকে ইতোমধ্যে ২০টির বেশি দেশে ১০০টিরও বেশি কর্মসূচির মাধ্যমে ৮ কোটির বেশি ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কলেরা মৃত্যুহার ৯০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে এই ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষকদের প্রতিক্রিয়া

অধ্যাপক জান হলমগ্রেন বলেন, বহু বছর আগে তৈরি এই ভ্যাকসিন এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন রক্ষা করছে—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় আনন্দ।

অধ্যাপক জন ক্লেমেন্স জানান, এই পথচলা সহজ ছিল না। বৈজ্ঞানিক, বাস্তব ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এই সাফল্য এসেছে। তিনি এটিকে সহকর্মী ও অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমীদ আহমেদ বলেন, উন্নত বিশ্বে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেলেও কলেরা এখনো একটি বড় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। এই স্বীকৃতি শুধু দুই গবেষকের নয়, বরং বাংলাদেশের অবদানকেও তুলে ধরে।

আইসিডিডিআর-বি'র প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ

গার্ডনার ফাউন্ডেশন সম্পর্কে

১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গার্ডনার ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ উদযাপন ও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। প্রতিবছর এই সংস্থা অসামান্য গবেষণার জন্য পুরস্কার প্রদান করে থাকে। এখন পর্যন্ত ৪০টির বেশি দেশের গবেষকরা এই সম্মান পেয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন।

এই স্বীকৃতি আবারও প্রমাণ করল, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় বাংলাদেশের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও এ অবদান আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।