০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের ২০ কারখানায় শ্রমিক ছুটি, অর্ধেকে নেমেছে উৎপাদন

ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে অনেক কারখানা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে জেলার ২০টি কারখানার শ্রমিকদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্য কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চলছে সীমিত পরিসরে।

অর্ধেকে নেমেছে বড় কারখানার উৎপাদন

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের সংকটে প্রায় সব গ্যাসনির্ভর কারখানাই সমস্যায় পড়েছে।

শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, শিল্পাঞ্চলের বড় কারখানাগুলোতে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। কারখানাগুলো বিদ্যুৎ ও নিজস্ব উৎপাদনযন্ত্রের মাধ্যমে কিছুটা কাজ চালানোর চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।

বিশেষ করে বস্ত্র ও সুতা উৎপাদনকারী কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

একের পর এক কারখানায় যন্ত্র বন্ধ

গৌরীপুরের তোয়ো স্পিনিং মিলসের ৫০টি যন্ত্রের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি সাতটি যন্ত্র বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো হচ্ছে। ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসের ৩০টি যন্ত্রই বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বাসার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সেও উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমেছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম গ্যাসের চাপ থাকায় ৪০ শতাংশ যন্ত্র বন্ধ রাখতে হয়েছে।

অন্যদিকে এক্সেলেন্ট সিরামিকসের চুল্লি চালু করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন স্বাভাবিকের অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।গ্যাস-সংকট: ময়মনসিংহে ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি

দুপুরেই শ্রমিকদের বাড়ি পাঠানো

গ্যাসের চাপ সকাল থেকেই কমতে শুরু করে। সাধারণত কারখানাগুলো সকাল থেকে বিকেল ৫টা বা ৬টা পর্যন্ত চলে। কিন্তু গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মাহাদি সোয়েটার্স, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান দুপুরের দিকে শ্রমিকদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

ভালুকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের উপযোগিতা বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ জানান, গত দেড় থেকে দুই মাস ধরেই গ্যাসের চাপ কম। কারখানাটির স্বাভাবিকভাবে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে উৎপাদন ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।

ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থা পরিচালনা বিভাগের ব্যবস্থাপক শামীম হোসেন জানান, দুটি পৃথক পাইপলাইনের মাধ্যমে ভালুকা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় গ্যাসের চাপ ৩০ থেকে ৫০ পিএসআইয়ের মধ্যে রয়েছে।

বিদ্যুৎ না পেয়ে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা

এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ না থাকায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংস্থাটির এক উপসহকারী প্রকৌশলী আহত হন।

পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দ্রুত নতুন বৈদ্যুতিক রূপান্তরক বসিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকার শিমরাইল গ্রামের একটি বৈদ্যুতিক রূপান্তরক ১৩ আগস্ট রাতে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বাসিন্দা বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কার্যালয়ের কাচের জানালা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও দাপ্তরিক আসবাব ভাঙচুর করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাজিব মিয়া ও নুরুল হক অভিযোগ করেন, নতুন বৈদ্যুতিক রূপান্তরক দেওয়ার কথা বলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

তবে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হামলায় আহত এই কর্মকর্তা অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে তিনি জানান, সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনের কর্মীদের নিয়মিত কিছু খরচ দেওয়া হয়।

পুরোনো রূপান্তরক দিয়েই চলছে সংকট

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই গ্রামের রূপান্তরক প্রায় এক মাস আগেও নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন রূপান্তরকের পরিবর্তে একটি পুরোনো রূপান্তরক দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর সেটিও নষ্ট হয়ে যায়।

তাঁদের অভিযোগ, বারবার পুরোনো রূপান্তরক সরবরাহ করায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম জানান, শিমরাইল গ্রামের রূপান্তরক নষ্ট হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে রূপান্তরকের সংকট থাকায় নতুন রূপান্তরক বসাতে দেরি হয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ—দুই সংকটেই ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চল ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে গ্যাসসংকটে ২০ কারখানার শ্রমিককে বাড়ি পাঠানো হয়েছে, কমেছে উৎপাদন; একই সময়ে বিদ্যুৎ না পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের ২০ কারখানায় শ্রমিক ছুটি, অর্ধেকে নেমেছে উৎপাদন

০৫:৫০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে অনেক কারখানা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে জেলার ২০টি কারখানার শ্রমিকদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্য কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চলছে সীমিত পরিসরে।

অর্ধেকে নেমেছে বড় কারখানার উৎপাদন

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের সংকটে প্রায় সব গ্যাসনির্ভর কারখানাই সমস্যায় পড়েছে।

শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, শিল্পাঞ্চলের বড় কারখানাগুলোতে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। কারখানাগুলো বিদ্যুৎ ও নিজস্ব উৎপাদনযন্ত্রের মাধ্যমে কিছুটা কাজ চালানোর চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।

বিশেষ করে বস্ত্র ও সুতা উৎপাদনকারী কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

একের পর এক কারখানায় যন্ত্র বন্ধ

গৌরীপুরের তোয়ো স্পিনিং মিলসের ৫০টি যন্ত্রের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি সাতটি যন্ত্র বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো হচ্ছে। ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসের ৩০টি যন্ত্রই বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বাসার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সেও উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমেছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম গ্যাসের চাপ থাকায় ৪০ শতাংশ যন্ত্র বন্ধ রাখতে হয়েছে।

অন্যদিকে এক্সেলেন্ট সিরামিকসের চুল্লি চালু করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন স্বাভাবিকের অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।গ্যাস-সংকট: ময়মনসিংহে ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি

দুপুরেই শ্রমিকদের বাড়ি পাঠানো

গ্যাসের চাপ সকাল থেকেই কমতে শুরু করে। সাধারণত কারখানাগুলো সকাল থেকে বিকেল ৫টা বা ৬টা পর্যন্ত চলে। কিন্তু গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মাহাদি সোয়েটার্স, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান দুপুরের দিকে শ্রমিকদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

ভালুকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের উপযোগিতা বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ জানান, গত দেড় থেকে দুই মাস ধরেই গ্যাসের চাপ কম। কারখানাটির স্বাভাবিকভাবে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে উৎপাদন ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।

ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থা পরিচালনা বিভাগের ব্যবস্থাপক শামীম হোসেন জানান, দুটি পৃথক পাইপলাইনের মাধ্যমে ভালুকা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় গ্যাসের চাপ ৩০ থেকে ৫০ পিএসআইয়ের মধ্যে রয়েছে।

বিদ্যুৎ না পেয়ে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা

এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ না থাকায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংস্থাটির এক উপসহকারী প্রকৌশলী আহত হন।

পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দ্রুত নতুন বৈদ্যুতিক রূপান্তরক বসিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকার শিমরাইল গ্রামের একটি বৈদ্যুতিক রূপান্তরক ১৩ আগস্ট রাতে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বাসিন্দা বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কার্যালয়ের কাচের জানালা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও দাপ্তরিক আসবাব ভাঙচুর করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাজিব মিয়া ও নুরুল হক অভিযোগ করেন, নতুন বৈদ্যুতিক রূপান্তরক দেওয়ার কথা বলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

তবে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হামলায় আহত এই কর্মকর্তা অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে তিনি জানান, সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনের কর্মীদের নিয়মিত কিছু খরচ দেওয়া হয়।

পুরোনো রূপান্তরক দিয়েই চলছে সংকট

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই গ্রামের রূপান্তরক প্রায় এক মাস আগেও নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন রূপান্তরকের পরিবর্তে একটি পুরোনো রূপান্তরক দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর সেটিও নষ্ট হয়ে যায়।

তাঁদের অভিযোগ, বারবার পুরোনো রূপান্তরক সরবরাহ করায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম জানান, শিমরাইল গ্রামের রূপান্তরক নষ্ট হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে রূপান্তরকের সংকট থাকায় নতুন রূপান্তরক বসাতে দেরি হয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ—দুই সংকটেই ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চল ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে গ্যাসসংকটে ২০ কারখানার শ্রমিককে বাড়ি পাঠানো হয়েছে, কমেছে উৎপাদন; একই সময়ে বিদ্যুৎ না পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।