০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ইজারা পরিকল্পনার প্রতিবাদে অচল কার্যক্রম

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে বড় ধাক্কা
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়। নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত থমকে যায়। এতে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম বন্ধ
বন্দরের একাধিক জেটিতে পণ্য ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনার বোঝাই ট্রেইলার, ট্রাক ও লরির চলাচলও প্রধান গেট দিয়ে স্থগিত থাকে। ফলে বন্দরের ভেতরে ও বাইরে পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ ব্যাহত হয় বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন।

ধর্মঘট ও আন্দোলনের বিস্তার
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও তাদের সহযোগী কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের সমর্থনে এই কর্মবিরতি শুরু হয় সকাল থেকেই। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি রোববারও চলবে। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

প্রায় সম্পূর্ণ স্থবির বন্দর
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউনিয়ন-সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকে কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। জেসিবি টার্মিনাল, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল এবং এনসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রায় বন্ধ থাকায় জাহাজ জট ও অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি বাড়ছে। একাধিক জাহাজ নির্ধারিত সময়মতো পণ্য খালাস করতে না পেরে অপেক্ষায় রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর এলাকায় সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করলেও শ্রমিকরা সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

শ্রমিকদের আশঙ্কা ও বক্তব্য
শ্রমিকদের অভিযোগ, লাভজনক এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিলে চাকরি অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল গেলে শ্রমিকদের চাকরি ও জাতীয় নিরাপত্তা দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে।

বাণিজ্য ব্যয়ের আশঙ্কা
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির জানান, কর্মবিরতির কারণে ইতোমধ্যে কনটেইনার জট ও অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত বন্দর কার্যক্রম কার্যত অচল ছিল।

কর্তৃপক্ষের সতর্কতা
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটি ইজারা ইস্যুতে ধর্মঘট, বিক্ষোভ বা আন্দোলনে অংশ নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

জাতীয় বাণিজ্যে প্রভাবের ঝুঁকি
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯০ শতাংশের বেশি সমুদ্রপথের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ফলে এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক বাণিজ্য প্রবাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ইজারা পরিকল্পনার প্রতিবাদে অচল কার্যক্রম

০৮:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে বড় ধাক্কা
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়। নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত থমকে যায়। এতে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম বন্ধ
বন্দরের একাধিক জেটিতে পণ্য ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনার বোঝাই ট্রেইলার, ট্রাক ও লরির চলাচলও প্রধান গেট দিয়ে স্থগিত থাকে। ফলে বন্দরের ভেতরে ও বাইরে পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ ব্যাহত হয় বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন।

ধর্মঘট ও আন্দোলনের বিস্তার
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও তাদের সহযোগী কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের সমর্থনে এই কর্মবিরতি শুরু হয় সকাল থেকেই। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি রোববারও চলবে। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

প্রায় সম্পূর্ণ স্থবির বন্দর
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউনিয়ন-সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকে কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। জেসিবি টার্মিনাল, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল এবং এনসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রায় বন্ধ থাকায় জাহাজ জট ও অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি বাড়ছে। একাধিক জাহাজ নির্ধারিত সময়মতো পণ্য খালাস করতে না পেরে অপেক্ষায় রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর এলাকায় সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করলেও শ্রমিকরা সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

শ্রমিকদের আশঙ্কা ও বক্তব্য
শ্রমিকদের অভিযোগ, লাভজনক এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিলে চাকরি অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল গেলে শ্রমিকদের চাকরি ও জাতীয় নিরাপত্তা দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে।

বাণিজ্য ব্যয়ের আশঙ্কা
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির জানান, কর্মবিরতির কারণে ইতোমধ্যে কনটেইনার জট ও অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত বন্দর কার্যক্রম কার্যত অচল ছিল।

কর্তৃপক্ষের সতর্কতা
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটি ইজারা ইস্যুতে ধর্মঘট, বিক্ষোভ বা আন্দোলনে অংশ নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

জাতীয় বাণিজ্যে প্রভাবের ঝুঁকি
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯০ শতাংশের বেশি সমুদ্রপথের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ফলে এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক বাণিজ্য প্রবাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।