০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

চাপ নয়, শাসনেই ভরসা: মালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৌশল বদলেছে জঙ্গিগোষ্ঠী

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। একসময় ভয়, হুমকি ও সহিংসতার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা এসব গোষ্ঠী এখন অনেক এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় আচরণ করছে এবং স্থানীয় জনগণের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রশাসনিক ভূমিকাও পালন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগে যেখানে ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই কঠোর শাস্তি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো, এখন সেখানে একই গোষ্ঠী নিয়মিত সভা করে কৃষি ও পশুপালন থেকে কর সংগ্রহ করছে, আবার দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও গবাদিপশুও বিতরণ করছে।

শক্তি বাড়ার সঙ্গে বদলেছে কৌশল

মালির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন নামের সংগঠনটি গত এক দশকে ভয়ভীতি ও সশস্ত্র শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত হয়েছে, সেখানে তারা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ শাসনের চিত্র তুলে ধরতে চাইছে।

স্থানীয়দের মতে, সংগঠনটির সদস্যরা এখন ভূমি বিরোধ মীমাংসা করছে, সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছে এবং কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। ফলে অনেক মানুষ তাদের উপস্থিতিকে নতুন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বৈধতার খোঁজ

বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিগোষ্ঠীটি শুধু সামরিক শক্তি নয়, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও অর্জন করতে চাইছে। তারা নিজেদের এমন একটি শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যারা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পরিচালনা করতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির বার্তায়ও পরিবর্তন দেখা গেছে। তারা এখন শুধু ধর্মীয় বক্তব্য নয়, জাতীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও কথা বলছে। এ কারণে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের জন্য জায়গা তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

সব জায়গায় একই চিত্র নয়

তবে এই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিভিন্ন এলাকায় এখনও সহিংস হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং অবরোধের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও খাদ্য ও ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অনেক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, জঙ্গিগোষ্ঠীর শাসন কঠোর হলেও তা কিছু ক্ষেত্রে পূর্বের সংঘাত ও অনিশ্চয়তার তুলনায় বেশি পূর্বানুমানযোগ্য। আবার অনেকে মনে করেন, ভয় এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনই মানুষকে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর কিছু অভিযানে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক তরুণ হতাশ হয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকেছে।

এ পরিস্থিতি মালির নিরাপত্তা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নিজেদের নতুন রূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

সামনে কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু সামরিক সমাধান যথেষ্ট নাও হতে পারে। যেসব অঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছে, সেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বর্তমানে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় যে পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা পশ্চিম আফ্রিকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

চাপ নয়, শাসনেই ভরসা: মালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৌশল বদলেছে জঙ্গিগোষ্ঠী

০৫:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। একসময় ভয়, হুমকি ও সহিংসতার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা এসব গোষ্ঠী এখন অনেক এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় আচরণ করছে এবং স্থানীয় জনগণের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রশাসনিক ভূমিকাও পালন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগে যেখানে ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই কঠোর শাস্তি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো, এখন সেখানে একই গোষ্ঠী নিয়মিত সভা করে কৃষি ও পশুপালন থেকে কর সংগ্রহ করছে, আবার দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও গবাদিপশুও বিতরণ করছে।

শক্তি বাড়ার সঙ্গে বদলেছে কৌশল

মালির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন নামের সংগঠনটি গত এক দশকে ভয়ভীতি ও সশস্ত্র শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত হয়েছে, সেখানে তারা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ শাসনের চিত্র তুলে ধরতে চাইছে।

স্থানীয়দের মতে, সংগঠনটির সদস্যরা এখন ভূমি বিরোধ মীমাংসা করছে, সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছে এবং কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। ফলে অনেক মানুষ তাদের উপস্থিতিকে নতুন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বৈধতার খোঁজ

বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিগোষ্ঠীটি শুধু সামরিক শক্তি নয়, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও অর্জন করতে চাইছে। তারা নিজেদের এমন একটি শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যারা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পরিচালনা করতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির বার্তায়ও পরিবর্তন দেখা গেছে। তারা এখন শুধু ধর্মীয় বক্তব্য নয়, জাতীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও কথা বলছে। এ কারণে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের জন্য জায়গা তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

সব জায়গায় একই চিত্র নয়

তবে এই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিভিন্ন এলাকায় এখনও সহিংস হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং অবরোধের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও খাদ্য ও ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অনেক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, জঙ্গিগোষ্ঠীর শাসন কঠোর হলেও তা কিছু ক্ষেত্রে পূর্বের সংঘাত ও অনিশ্চয়তার তুলনায় বেশি পূর্বানুমানযোগ্য। আবার অনেকে মনে করেন, ভয় এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনই মানুষকে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর কিছু অভিযানে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক তরুণ হতাশ হয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকেছে।

এ পরিস্থিতি মালির নিরাপত্তা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নিজেদের নতুন রূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

সামনে কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু সামরিক সমাধান যথেষ্ট নাও হতে পারে। যেসব অঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছে, সেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বর্তমানে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় যে পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা পশ্চিম আফ্রিকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।