০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

চীনা ইভি নির্মাতা এক্সপেংয়ের নতুন বাজি, এবার লক্ষ্য মানবাকৃতি রোবট ও উড়ন্ত গাড়ি

চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে দ্রুত উত্থানের পর এবার আরও বড় স্বপ্ন দেখছে এক্সপেং। প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধু ইভি নির্মাতা হিসেবে নয়, বরং রোবট, উড়ন্ত গাড়ি এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের কোম্পানি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে চাইছে। চীনের প্রযুক্তি খাতে নতুন প্রতিযোগিতার এই সময়ে এক্সপেংয়ের এই পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সম্প্রতি এক প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের মানবাকৃতি রোবট “আইরন” প্রদর্শন করে। রোবটটির চলাফেরা ও অভিব্যক্তি এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে অনেকে সন্দেহ করতে শুরু করেন এর ভেতরে মানুষ রয়েছে কি না। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হে শিয়াওপেং মঞ্চেই রোবটটির কৃত্রিম আবরণ খুলে ভেতরের যান্ত্রিক অংশ দেখান। এতে দর্শকদের বিস্ময় আরও বেড়ে যায়।

ইভি থেকে রোবট প্রযুক্তিতে যাত্রা

এক্সপেংয়ের প্রধান হে শিয়াওপেং মনে করেন, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ আগেভাগে বুঝতে পারাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তার ভাষায়, যখন সবাই কোনো নতুন প্রবণতা দেখতে পায়, তখন সেই সুযোগ অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি রোবট ও উড়ন্ত গাড়িতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।

একসময় মোবাইল ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবসায় সফল হয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। পরে ২০১৪ সালে এক্সপেং প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল এমন স্মার্ট গাড়ি তৈরি করা, যেখানে সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হবে মূল শক্তি। বর্তমানে চীনের বাজারে যে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়েছে, তার পেছনে এক্সপেংয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ

চীনের ইভি বাজার এখন অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। শতাধিক ব্র্যান্ড বাজার দখলের লড়াইয়ে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে লাভ ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এক্সপেং ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রথমবারের মতো মুনাফা করে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো গবেষণা ও উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। শুধু চলতি বছরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ইভি নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বাজারেও জায়গা করে নিতে চাইছে এক্সপেং। তবে রোবট ও উড়ন্ত গাড়ির মতো খাতে সফল হতে হলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি বাজার ও নিয়ন্ত্রক বাধাও অতিক্রম করতে হবে।

China's Xpeng expects to start delivering 'flying' cars in 2027 – Firstpost

মানবাকৃতি রোবট নিয়ে বাড়ছে সংশয়

এক্সপেং জানিয়েছে, চলতি বছরেই তাদের মানবাকৃতি রোবটের গণউৎপাদন শুরু হতে পারে। আর উড়ন্ত গাড়ি বাজারে আনার লক্ষ্য ২০২৭ সাল। ইতোমধ্যে তাদের উড়ন্ত গাড়ির জন্য কয়েক হাজার অর্ডার এসেছে। তবে এসব প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহার, নিরাপত্তা ও আইনি অনুমোদন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, মানবাকৃতি রোবট নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি বুদবুদের জন্ম দিতে পারে। কারণ এখনো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এসব রোবটের বাস্তব চাহিদা খুব সীমিত। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, বয়স্কদের সেবা, গৃহস্থালি কাজ এবং শিল্পখাতে এই প্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন

এক্সপেংয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তাদের শোরুমগুলোতে মানবাকৃতি রোবট ক্রেতাদের স্বাগত জানাবে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে এক্সপেংয়ের শোরুম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করছে, যেভাবে চীনা ইভি বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিয়েছে, একইভাবে রোবট প্রযুক্তিতেও চীন নেতৃত্ব দিতে পারবে।

তবে এই যাত্রা সহজ হবে না। ইভি শিল্পে সফলতার পর এখন এক্সপেং এমন এক খাতে পা রাখছে, যেখানে প্রযুক্তি, বাজার ও ব্যবসায়িক বাস্তবতা—সবকিছুই এখনো অনিশ্চিত। তারপরও বড় স্বপ্ন দেখেই এগোতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনা ইভি নির্মাতা এক্সপেং এবার মানবাকৃতি রোবট ও উড়ন্ত গাড়ির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন আলোচনার কেন্দ্র তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

চীনা ইভি নির্মাতা এক্সপেংয়ের নতুন বাজি, এবার লক্ষ্য মানবাকৃতি রোবট ও উড়ন্ত গাড়ি

০৬:১৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে দ্রুত উত্থানের পর এবার আরও বড় স্বপ্ন দেখছে এক্সপেং। প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধু ইভি নির্মাতা হিসেবে নয়, বরং রোবট, উড়ন্ত গাড়ি এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের কোম্পানি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে চাইছে। চীনের প্রযুক্তি খাতে নতুন প্রতিযোগিতার এই সময়ে এক্সপেংয়ের এই পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সম্প্রতি এক প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের মানবাকৃতি রোবট “আইরন” প্রদর্শন করে। রোবটটির চলাফেরা ও অভিব্যক্তি এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে অনেকে সন্দেহ করতে শুরু করেন এর ভেতরে মানুষ রয়েছে কি না। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হে শিয়াওপেং মঞ্চেই রোবটটির কৃত্রিম আবরণ খুলে ভেতরের যান্ত্রিক অংশ দেখান। এতে দর্শকদের বিস্ময় আরও বেড়ে যায়।

ইভি থেকে রোবট প্রযুক্তিতে যাত্রা

এক্সপেংয়ের প্রধান হে শিয়াওপেং মনে করেন, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ আগেভাগে বুঝতে পারাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তার ভাষায়, যখন সবাই কোনো নতুন প্রবণতা দেখতে পায়, তখন সেই সুযোগ অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি রোবট ও উড়ন্ত গাড়িতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।

একসময় মোবাইল ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবসায় সফল হয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। পরে ২০১৪ সালে এক্সপেং প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল এমন স্মার্ট গাড়ি তৈরি করা, যেখানে সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হবে মূল শক্তি। বর্তমানে চীনের বাজারে যে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়েছে, তার পেছনে এক্সপেংয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ

চীনের ইভি বাজার এখন অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। শতাধিক ব্র্যান্ড বাজার দখলের লড়াইয়ে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে লাভ ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এক্সপেং ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রথমবারের মতো মুনাফা করে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো গবেষণা ও উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। শুধু চলতি বছরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ইভি নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বাজারেও জায়গা করে নিতে চাইছে এক্সপেং। তবে রোবট ও উড়ন্ত গাড়ির মতো খাতে সফল হতে হলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি বাজার ও নিয়ন্ত্রক বাধাও অতিক্রম করতে হবে।

China's Xpeng expects to start delivering 'flying' cars in 2027 – Firstpost

মানবাকৃতি রোবট নিয়ে বাড়ছে সংশয়

এক্সপেং জানিয়েছে, চলতি বছরেই তাদের মানবাকৃতি রোবটের গণউৎপাদন শুরু হতে পারে। আর উড়ন্ত গাড়ি বাজারে আনার লক্ষ্য ২০২৭ সাল। ইতোমধ্যে তাদের উড়ন্ত গাড়ির জন্য কয়েক হাজার অর্ডার এসেছে। তবে এসব প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহার, নিরাপত্তা ও আইনি অনুমোদন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, মানবাকৃতি রোবট নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি বুদবুদের জন্ম দিতে পারে। কারণ এখনো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এসব রোবটের বাস্তব চাহিদা খুব সীমিত। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, বয়স্কদের সেবা, গৃহস্থালি কাজ এবং শিল্পখাতে এই প্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন

এক্সপেংয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তাদের শোরুমগুলোতে মানবাকৃতি রোবট ক্রেতাদের স্বাগত জানাবে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে এক্সপেংয়ের শোরুম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করছে, যেভাবে চীনা ইভি বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিয়েছে, একইভাবে রোবট প্রযুক্তিতেও চীন নেতৃত্ব দিতে পারবে।

তবে এই যাত্রা সহজ হবে না। ইভি শিল্পে সফলতার পর এখন এক্সপেং এমন এক খাতে পা রাখছে, যেখানে প্রযুক্তি, বাজার ও ব্যবসায়িক বাস্তবতা—সবকিছুই এখনো অনিশ্চিত। তারপরও বড় স্বপ্ন দেখেই এগোতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনা ইভি নির্মাতা এক্সপেং এবার মানবাকৃতি রোবট ও উড়ন্ত গাড়ির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন আলোচনার কেন্দ্র তারা।