০৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

চীনা প্রভাবের অভিযোগে উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি, আড়ালে থেকে যাচ্ছে আসল চ্যালেঞ্জ

বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চীন দীর্ঘদিন ধরেই নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পান্ডার মজার ভিডিও থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক দ্রুতগতির ট্রেনের প্রচারণা—সবই এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ। চীনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক জনমতকে নিজেদের পক্ষে আনা এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে আরও শক্তিশালী করা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশই নিজেদের ভাবমূর্তি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। সে অর্থে চীনের এই প্রচেষ্টা নতুন কিছু নয়। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন জনমত প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা গোপন বা বিভ্রান্তিকর পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু চীনা-সংযুক্ত গোষ্ঠী ভুয়া পরিচয়ে অনলাইনে তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে।

মার্কিন বিতর্কে নতুন অভিযোগ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার এবং জলবায়ু নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে চীনা প্রভাবের অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন পরোক্ষভাবে এসব বিষয়ে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

How will the United States and China power the AI race? | Brookings

তবে সমালোচকদের মতে, এসব প্রতিবেদনের অনেক দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে অনেক ক্ষেত্রে অনুমান, সন্দেহ এবং পরোক্ষ সম্পর্ককে বড় করে দেখানো হয়েছে। এতে প্রকৃত নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বাস্তব প্রভাব কার্যক্রমকে চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রমাণের চেয়ে ইঙ্গিত বেশি

কিছু প্রতিবেদনে এমন ব্যক্তিদেরও চীনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই সুপরিচিত এবং স্বাধীনভাবে গড়ে উঠেছে। কোথাও আবার বিদেশি অনুদান, গবেষণা সহযোগিতা কিংবা পরিবেশবাদী কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের চোখে দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেবল সম্পর্ক বা যোগাযোগ থাকার অর্থ এই নয় যে কেউ বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করছে। এমন যুক্তি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে এবং জনপরিসরে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

বাস্তব উদ্বেগও রয়েছে

অন্যদিকে, চীনের কিছু গোষ্ঠী যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, সেই আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু অনলাইন অ্যাকাউন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচারণা চালিয়েছে, যেখানে ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বার্তা ছড়ানো হয়েছে।

Advocacy group urges intelligence committees to probe foreign influence on data  centers

এসব প্রচারণার প্রভাব সীমিত ছিল বলে ধারণা করা হলেও, এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে ঘিরে সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো কৌশলগত খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সতর্কতা ও ভারসাম্যের প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রভাব কার্যক্রমের তদন্ত অবশ্যই প্রয়োজন। তবে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে শক্ত প্রমাণ, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। অন্যথায় প্রকৃত হুমকি শনাক্ত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠবে।

চীনের প্রভাব বিস্তারের বাস্তব প্রচেষ্টা মোকাবিলা করতে হলে অতিরঞ্জন নয়, বরং তথ্যনির্ভর ও সতর্ক অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ তোলা হলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের বিপজ্জনক প্রভাব কার্যক্রমও গুরুত্ব হারাতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

চীনা প্রভাবের অভিযোগে উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি, আড়ালে থেকে যাচ্ছে আসল চ্যালেঞ্জ

০১:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চীন দীর্ঘদিন ধরেই নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পান্ডার মজার ভিডিও থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক দ্রুতগতির ট্রেনের প্রচারণা—সবই এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ। চীনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক জনমতকে নিজেদের পক্ষে আনা এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে আরও শক্তিশালী করা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশই নিজেদের ভাবমূর্তি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। সে অর্থে চীনের এই প্রচেষ্টা নতুন কিছু নয়। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন জনমত প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা গোপন বা বিভ্রান্তিকর পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু চীনা-সংযুক্ত গোষ্ঠী ভুয়া পরিচয়ে অনলাইনে তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে।

মার্কিন বিতর্কে নতুন অভিযোগ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার এবং জলবায়ু নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে চীনা প্রভাবের অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন পরোক্ষভাবে এসব বিষয়ে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

How will the United States and China power the AI race? | Brookings

তবে সমালোচকদের মতে, এসব প্রতিবেদনের অনেক দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে অনেক ক্ষেত্রে অনুমান, সন্দেহ এবং পরোক্ষ সম্পর্ককে বড় করে দেখানো হয়েছে। এতে প্রকৃত নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বাস্তব প্রভাব কার্যক্রমকে চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রমাণের চেয়ে ইঙ্গিত বেশি

কিছু প্রতিবেদনে এমন ব্যক্তিদেরও চীনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই সুপরিচিত এবং স্বাধীনভাবে গড়ে উঠেছে। কোথাও আবার বিদেশি অনুদান, গবেষণা সহযোগিতা কিংবা পরিবেশবাদী কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের চোখে দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেবল সম্পর্ক বা যোগাযোগ থাকার অর্থ এই নয় যে কেউ বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করছে। এমন যুক্তি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে এবং জনপরিসরে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

বাস্তব উদ্বেগও রয়েছে

অন্যদিকে, চীনের কিছু গোষ্ঠী যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, সেই আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু অনলাইন অ্যাকাউন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচারণা চালিয়েছে, যেখানে ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বার্তা ছড়ানো হয়েছে।

Advocacy group urges intelligence committees to probe foreign influence on data  centers

এসব প্রচারণার প্রভাব সীমিত ছিল বলে ধারণা করা হলেও, এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে ঘিরে সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো কৌশলগত খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সতর্কতা ও ভারসাম্যের প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রভাব কার্যক্রমের তদন্ত অবশ্যই প্রয়োজন। তবে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে শক্ত প্রমাণ, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। অন্যথায় প্রকৃত হুমকি শনাক্ত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠবে।

চীনের প্রভাব বিস্তারের বাস্তব প্রচেষ্টা মোকাবিলা করতে হলে অতিরঞ্জন নয়, বরং তথ্যনির্ভর ও সতর্ক অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ তোলা হলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের বিপজ্জনক প্রভাব কার্যক্রমও গুরুত্ব হারাতে পারে।