চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে তাঁর এই সফরে দুই নেতার বৈঠকই দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ব্রিকস সম্মেলন।
ছয় বছর পর ভারতে শি
শি জিনপিংয়ের বর্তমান সফর ছয় বছর পর ভারতে তাঁর প্রথম সফর। সর্বশেষ ২০১৯ সালে তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে ভারত-চীন অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিতে তিনি ভারতে এসেছিলেন। একই সঙ্গে ১২ বছর পর এই প্রথম তিনি নয়াদিল্লিতে এলেন। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে দিল্লি সফর করেছিলেন শি।
শির সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ কার্যালয়ের পরিচালক কাই ছি এবং পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রয়েছেন। কাই ছি শির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের একজন, আর ওয়াং ই চীনের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
মোদি-শি বৈঠকে কী থাকছে
দুই নেতার বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। শির সফরের আগে চীন জানিয়েছে, দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত নির্দেশনা অনুসরণ করে যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা জোরদার করা এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামাল দেওয়ার জন্য ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে তারা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোদি ও শি টানা তৃতীয় বছর বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
এর আগে এক চীনা সাংবাদিকও শির ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ব্রিকস সম্মেলন দুই দেশের নেতাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
ব্রিকসে ১১ দেশ, গুরুত্ব বৈশ্বিক পরিসরে
এবারের সম্মেলনে চীন, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রাজিল ও ভারত—মোট ১১টি সদস্য দেশ রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এসব দেশ বিশ্বের ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ বৈশ্বিক জিডিপি এবং ২৬ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
শনিবার দুপুরে ভারত মণ্ডপমে নেতাদের আগমন শুরু হওয়ার পর প্রথম রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন ও বহুপক্ষীয়তাবাদ শক্তিশালীকরণ’ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। পরে ভারত ইনোভেটস প্রদর্শনী পরিদর্শন, পারিবারিক ছবি তোলা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রয়েছে। সন্ধ্যায় মোদি সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের সম্মানে নৈশভোজ আয়োজন করবেন।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণ
ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারত মণ্ডপম ও আশপাশে প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী, স্নিফার ডগ স্কোয়াড এবং অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। শহরজুড়ে ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চলছে।
সম্মেলন ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারত মণ্ডপম, প্রগতি ময়দান ও কেন্দ্রীয় দিল্লির সঙ্গে সংযোগকারী বিভিন্ন পথে চলাচল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। যাত্রীদের আগেই যাত্রাপথ পরিকল্পনা করে সম্ভব হলে মেট্রো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
শির আগমনের পর তাঁর গাড়িবহর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও সেটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি হিন্দুস্তান টাইমস। একই সময়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মেলনস্থলে বিশ্বনেতাদের নাশতা পরিবেশন নিয়ে ছড়ানো একটি দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















