নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ৯ কোরীয় নাগরিকের সন্ধানে আবারও অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করবে দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার কাঠমান্ডুতে পৌঁছে এ কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ ত্রাণ দলের দ্বিতীয় দলের প্রধান ইউন চু-সক।
ইউন চু-সক দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়াশিংটন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন। শনিবার তিনি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে কোরিয়া ডিজাস্টার রিলিফ টিমের (কেডিআরটি) দ্বিতীয় দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
নেপালের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান
নিখোঁজদের পরিবারের উদ্বেগ ও কষ্টের কথা উল্লেখ করে ইউন চু-সক বলেন, সরকার তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। প্রথম দলের কার্যক্রমের সঙ্গে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দ্বিতীয় দলটি দায়িত্ব পালন করবে এবং তাদের ওপর অর্পিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অতিরিক্ত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার আগে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। অর্থাৎ পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার পরিকল্পনা নেপাল সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এগিয়ে নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় দলে ৮ সদস্য
দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের দুর্যোগ ত্রাণ দলের সদস্য সংখ্যা আগের দলের তুলনায় অনেক কম। দ্বিতীয় দলে রয়েছেন আটজন সদস্য। এর আগে ৪৪ সদস্যের একটি দল নেপালে পাঠানো হয়েছিল।
নতুন দলটি শুধু অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়েই কাজ করবে না। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করবে তারা। এসব আলোচনার মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের পরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলায় ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। ওই সময় একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছিলেন নিখোঁজ কোরীয় নাগরিকরা।
নিখোঁজ ৯ জনের মধ্যে ছয়জন দক্ষিণ কোরিয়ার দোসান এনার্জিবিলিটির কর্মী এবং তিনজন কোরিয়া সাউথ-ইস্ট পাওয়ারের কর্মী। দুর্যোগের পর থেকেই তাদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
দ্বিতীয় দলের কাঠমান্ডু পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে উদ্ধার ও পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নতুন ধাপ শুরু হলো। নেপালের কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















