০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

চীনের ‘স্থলভিত্তিক বিমানবাহী’ প্রযুক্তি: মাইক্রোওয়েভে উড়ন্ত ড্রোন চার্জ, যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে চীন এমন একটি নতুন পদ্ধতি পরীক্ষা করেছে যা ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। গবেষকরা এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যেখানে স্থলভিত্তিক একটি যানবাহন থেকে মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে আকাশে উড়ন্ত ড্রোনে শক্তি সরবরাহ করা যায়—ফলে ড্রোন দীর্ঘ সময়, এমনকি তাত্ত্বিকভাবে প্রায় অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আকাশে থাকতে পারে।

কী এই নতুন প্রযুক্তি

এই প্রযুক্তির মূল ধারণা হলো—মাটিতে থাকা একটি বিশেষ যান থেকে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ পাঠিয়ে ড্রোনের নিচে থাকা অ্যান্টেনার মাধ্যমে শক্তি পৌঁছে দেওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরীক্ষার সময় দেখা গেছে ড্রোন ও চার্জিং যান—দুটোই চলন্ত অবস্থায় থেকেও এই শক্তি স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের ‘স্থলভিত্তিক বিমানবাহী জাহাজ’-এর মতো কাজ করতে পারে, যেখানে একটি সাঁজোয়া যান মোবাইল কমান্ড সেন্টার এবং শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করবে।

যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যবহার

এই প্রযুক্তি বাস্তবে প্রয়োগ করা গেলে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা অনেক বাড়তে পারে। ড্রোন দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারলে নজরদারি, আক্রমণ এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা আরও কার্যকর হবে।

এছাড়া ব্যাটারির ওপর নির্ভরতা কমে গেলে ড্রোনের ওজন কমবে, ফলে তারা আরও বড় ও ভারী সরঞ্জাম বহন করতে পারবে।

পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে

চীনের একটি গবেষণা দলের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই সিস্টেম ব্যবহার করে একটি ড্রোন প্রায় ৩.১ ঘণ্টা পর্যন্ত ১৫ মিটার উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ড্রোন ও শক্তি প্রেরণকারী যানের মধ্যে সঠিক সমন্বয় বজায় রাখা।

এই সমস্যা সমাধানে তারা জিপিএস, গতিশীল ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং ড্রোনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা একসঙ্গে ব্যবহার করেছে।

China's sky monster: Giant 'drone carrier' takes first flight

মাইক্রোওয়েভ বনাম লেজার প্রযুক্তি

বর্তমানে বিভিন্ন দেশ ড্রোনের জন্য বেতার চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। লেজারভিত্তিক পদ্ধতি বেশি নির্ভুল এবং দূরপাল্লার হলেও এটি কুয়াশা, ধুলো বা বাতাসের প্রভাবে সহজেই ব্যাহত হয়। এছাড়া এটি ড্রোনের অবস্থানও প্রকাশ করে দিতে পারে।

অন্যদিকে, মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি খারাপ আবহাওয়াতেও কার্যকর থাকে এবং একসঙ্গে একাধিক ড্রোনকে শক্তি দিতে পারে। তাই জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি বেশি কার্যকর হতে পারে।

সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ

যদিও এই প্রযুক্তি সম্ভাবনাময়, তবে এর বড় সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, মোট শক্তির মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ড্রোনে পৌঁছাতে পেরেছে—অর্থাৎ বেশিরভাগ শক্তিই অপচয় হয়েছে।

এছাড়া বাতাস ও অবস্থানগত ত্রুটির কারণে ড্রোনে পাওয়া শক্তির পরিমাণও স্থির ছিল না, যা ভবিষ্যৎ ব্যবহারে বড় বাধা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখালেও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা এখনো অর্জিত হয়নি।

তবে প্রযুক্তিটির ধারণা ও দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

চীনের ‘স্থলভিত্তিক বিমানবাহী’ প্রযুক্তি: মাইক্রোওয়েভে উড়ন্ত ড্রোন চার্জ, যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

০৬:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে চীন এমন একটি নতুন পদ্ধতি পরীক্ষা করেছে যা ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। গবেষকরা এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যেখানে স্থলভিত্তিক একটি যানবাহন থেকে মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে আকাশে উড়ন্ত ড্রোনে শক্তি সরবরাহ করা যায়—ফলে ড্রোন দীর্ঘ সময়, এমনকি তাত্ত্বিকভাবে প্রায় অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আকাশে থাকতে পারে।

কী এই নতুন প্রযুক্তি

এই প্রযুক্তির মূল ধারণা হলো—মাটিতে থাকা একটি বিশেষ যান থেকে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ পাঠিয়ে ড্রোনের নিচে থাকা অ্যান্টেনার মাধ্যমে শক্তি পৌঁছে দেওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরীক্ষার সময় দেখা গেছে ড্রোন ও চার্জিং যান—দুটোই চলন্ত অবস্থায় থেকেও এই শক্তি স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের ‘স্থলভিত্তিক বিমানবাহী জাহাজ’-এর মতো কাজ করতে পারে, যেখানে একটি সাঁজোয়া যান মোবাইল কমান্ড সেন্টার এবং শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করবে।

যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যবহার

এই প্রযুক্তি বাস্তবে প্রয়োগ করা গেলে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা অনেক বাড়তে পারে। ড্রোন দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারলে নজরদারি, আক্রমণ এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা আরও কার্যকর হবে।

এছাড়া ব্যাটারির ওপর নির্ভরতা কমে গেলে ড্রোনের ওজন কমবে, ফলে তারা আরও বড় ও ভারী সরঞ্জাম বহন করতে পারবে।

পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে

চীনের একটি গবেষণা দলের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই সিস্টেম ব্যবহার করে একটি ড্রোন প্রায় ৩.১ ঘণ্টা পর্যন্ত ১৫ মিটার উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ড্রোন ও শক্তি প্রেরণকারী যানের মধ্যে সঠিক সমন্বয় বজায় রাখা।

এই সমস্যা সমাধানে তারা জিপিএস, গতিশীল ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং ড্রোনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা একসঙ্গে ব্যবহার করেছে।

China's sky monster: Giant 'drone carrier' takes first flight

মাইক্রোওয়েভ বনাম লেজার প্রযুক্তি

বর্তমানে বিভিন্ন দেশ ড্রোনের জন্য বেতার চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। লেজারভিত্তিক পদ্ধতি বেশি নির্ভুল এবং দূরপাল্লার হলেও এটি কুয়াশা, ধুলো বা বাতাসের প্রভাবে সহজেই ব্যাহত হয়। এছাড়া এটি ড্রোনের অবস্থানও প্রকাশ করে দিতে পারে।

অন্যদিকে, মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি খারাপ আবহাওয়াতেও কার্যকর থাকে এবং একসঙ্গে একাধিক ড্রোনকে শক্তি দিতে পারে। তাই জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি বেশি কার্যকর হতে পারে।

সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ

যদিও এই প্রযুক্তি সম্ভাবনাময়, তবে এর বড় সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, মোট শক্তির মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ড্রোনে পৌঁছাতে পেরেছে—অর্থাৎ বেশিরভাগ শক্তিই অপচয় হয়েছে।

এছাড়া বাতাস ও অবস্থানগত ত্রুটির কারণে ড্রোনে পাওয়া শক্তির পরিমাণও স্থির ছিল না, যা ভবিষ্যৎ ব্যবহারে বড় বাধা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখালেও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা এখনো অর্জিত হয়নি।

তবে প্রযুক্তিটির ধারণা ও দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।