০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

জার্মানির নির্বাচনে নাৎসি অতীত নিয়ে নতুন বিতর্ক, স্যাক্সনি-আনহাল্টে ক্ষমতার দৌড়ে এএফডি

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির নাৎসি অতীত কীভাবে পড়ানো ও স্মরণ করা হবে, তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উগ্র ডানপন্থী দল এএফডি ক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায় বিষয়টি নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

দলটির একটি প্রস্তাবিত কর্মসূচির অন্যতম পরিকল্পনাকারী হান্স-থমাস টিলশ্নাইডার বলেছেন, জাতীয় সমাজতন্ত্র বা নাৎসি আমল নিয়ে স্কুলে পড়াশোনা অবশ্যই থাকবে, তবে আগের তুলনায় কিছুটা কম গুরুত্ব দেওয়া হবে। গত বছর একটি জার্মান টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ইতিহাস শিক্ষায় লক্ষ্য হওয়া উচিত—“বিসমার্ক বেশি, হিটলার কম।”

ক্ষমতার দৌড়ে এএফডি

স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি পর্যাপ্ত ভোট পেলে উলরিশ জিগমুন্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। জনমত জরিপে তিনি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

এএফডির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এর আগেও জার্মানির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়কে খাটো করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, দলের আরও কট্টর সমর্থকদের আকৃষ্ট করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে দলটির সাবেক সহ-নেতা আলেকজান্ডার গাউলান্ড নাৎসি যুগকে “পাখির বিষ্ঠার ছোট্ট দাগ”-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এর এক বছর আগে থুরিঙ্গিয়ায় দলের নেতা বিয়র্ন হ্যোক্কে বার্লিনের হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধকে “লজ্জার স্মৃতিস্তম্ভ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।Five key takeaways from the German election

ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখানোর দাবি

স্যাক্সনি-আনহাল্টে সম্ভাব্য প্রথম এএফডি মুখ্যমন্ত্রী উলরিশ জিগমুন্ড অবশ্য দলের দেশপ্রেমের কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নিজের দেশের প্রতি গর্ববোধ করা পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক বিষয়গুলোর একটি।

তিনি বলেন, জার্মানির ইতিহাস বহু শতাব্দীজুড়ে বিস্তৃত এবং এতে যেমন গৌরবের অধ্যায় রয়েছে, তেমনি রয়েছে অন্ধকার সময়ও। তাঁর দাবি, পুরো ইতিহাসই পড়ানো উচিত—সব অর্জন ও ব্যর্থতাসহ—তবে সেটি যেন গর্ব ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়।

৩৫ বছর বয়সী জিগমুন্ড একসময় সুগন্ধি ছড়ানোর যন্ত্র বিক্রি করতেন। এখন তিনি এএফডির অন্যতম জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। প্রাণবন্ত নির্বাচনী প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৌশলী ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি দলের ভেতরে দ্রুত পরিচিতি পেয়েছেন।

নাৎসি অতীত নিয়ে পুরোনো প্রশ্ন, নতুন রাজনৈতিক সংঘাত

জার্মানিতে নাৎসি আমলের ইতিহাস কীভাবে স্মরণ করা হবে, তা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়। বিশেষ করে হলোকাস্ট ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ঘটনাকে শিক্ষাব্যবস্থা ও জনপরিসরে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।

স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচন সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। একদিকে এএফডি জার্মান ইতিহাসের বিস্তৃত ও “ইতিবাচক” উপস্থাপনের কথা বলছে, অন্যদিকে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, এর আড়ালে নাৎসি অতীতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

জার্মানির নির্বাচনে নাৎসি অতীত নিয়ে নতুন বিতর্ক, স্যাক্সনি-আনহাল্টে ক্ষমতার দৌড়ে এএফডি

০৭:১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির নাৎসি অতীত কীভাবে পড়ানো ও স্মরণ করা হবে, তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উগ্র ডানপন্থী দল এএফডি ক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায় বিষয়টি নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

দলটির একটি প্রস্তাবিত কর্মসূচির অন্যতম পরিকল্পনাকারী হান্স-থমাস টিলশ্নাইডার বলেছেন, জাতীয় সমাজতন্ত্র বা নাৎসি আমল নিয়ে স্কুলে পড়াশোনা অবশ্যই থাকবে, তবে আগের তুলনায় কিছুটা কম গুরুত্ব দেওয়া হবে। গত বছর একটি জার্মান টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ইতিহাস শিক্ষায় লক্ষ্য হওয়া উচিত—“বিসমার্ক বেশি, হিটলার কম।”

ক্ষমতার দৌড়ে এএফডি

স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি পর্যাপ্ত ভোট পেলে উলরিশ জিগমুন্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। জনমত জরিপে তিনি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

এএফডির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এর আগেও জার্মানির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়কে খাটো করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, দলের আরও কট্টর সমর্থকদের আকৃষ্ট করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে দলটির সাবেক সহ-নেতা আলেকজান্ডার গাউলান্ড নাৎসি যুগকে “পাখির বিষ্ঠার ছোট্ট দাগ”-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এর এক বছর আগে থুরিঙ্গিয়ায় দলের নেতা বিয়র্ন হ্যোক্কে বার্লিনের হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধকে “লজ্জার স্মৃতিস্তম্ভ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।Five key takeaways from the German election

ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখানোর দাবি

স্যাক্সনি-আনহাল্টে সম্ভাব্য প্রথম এএফডি মুখ্যমন্ত্রী উলরিশ জিগমুন্ড অবশ্য দলের দেশপ্রেমের কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নিজের দেশের প্রতি গর্ববোধ করা পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক বিষয়গুলোর একটি।

তিনি বলেন, জার্মানির ইতিহাস বহু শতাব্দীজুড়ে বিস্তৃত এবং এতে যেমন গৌরবের অধ্যায় রয়েছে, তেমনি রয়েছে অন্ধকার সময়ও। তাঁর দাবি, পুরো ইতিহাসই পড়ানো উচিত—সব অর্জন ও ব্যর্থতাসহ—তবে সেটি যেন গর্ব ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়।

৩৫ বছর বয়সী জিগমুন্ড একসময় সুগন্ধি ছড়ানোর যন্ত্র বিক্রি করতেন। এখন তিনি এএফডির অন্যতম জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। প্রাণবন্ত নির্বাচনী প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৌশলী ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি দলের ভেতরে দ্রুত পরিচিতি পেয়েছেন।

নাৎসি অতীত নিয়ে পুরোনো প্রশ্ন, নতুন রাজনৈতিক সংঘাত

জার্মানিতে নাৎসি আমলের ইতিহাস কীভাবে স্মরণ করা হবে, তা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়। বিশেষ করে হলোকাস্ট ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ঘটনাকে শিক্ষাব্যবস্থা ও জনপরিসরে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।

স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচন সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। একদিকে এএফডি জার্মান ইতিহাসের বিস্তৃত ও “ইতিবাচক” উপস্থাপনের কথা বলছে, অন্যদিকে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, এর আড়ালে নাৎসি অতীতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে।