০২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

জেটব্লুর নতুন লড়াই, স্পিরিটের পতনের সুযোগে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে জেটব্লু এয়ারওয়েজের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এই এয়ারলাইন এখন স্পিরিট এয়ারলাইন্সের বন্ধ হয়ে যাওয়াকে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল-হলিউড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে জোরালো পরিকল্পনা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্পিরিট এয়ারলাইন্স কার্যক্রম বন্ধ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেটব্লু ঘোষণা দেয়, তারা ওই বিমানবন্দর থেকে দুই ডজনের বেশি নতুন ফ্লাইট চালু করবে। একসময় কম খরচের জনপ্রিয় এয়ারলাইন হিসেবে পরিচিত জেটব্লু এখন নিজেদের ব্যবসাকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।

লোকসান আর ঋণের চাপ

গত কয়েক বছরে জেটব্লুর আর্থিক অবস্থা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনছে। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ, অথচ আয় বেড়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। বর্তমানে তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, জেটব্লুর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—তারা বড় এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করার মতো শক্তিশালী নয়, আবার স্পিরিটের মতো কম ভাড়ার ব্যবসায়িক মডেলেও পুরোপুরি যেতে পারছে না। ফলে মাঝামাঝি এক কঠিন অবস্থায় আটকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যর্থ জোট আর নতুন চ্যালেঞ্জ

জেটব্লু নিজেদের শক্তিশালী করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২০ সালে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে তারা। পরে স্পিরিট এয়ারলাইন্সকে কিনে নেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদালতে আপত্তি জানালে দুটি উদ্যোগই ভেস্তে যায়।

এর পাশাপাশি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির কিছু বিমানের ইঞ্জিন সমস্যার কারণে জেটব্লুকে একাধিক উড়োজাহাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় আরও বেড়েছে।

For Struggling JetBlue, Spirit's Demise May Offer an Opportunity :: WRAL.com

নতুন কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

বর্তমানে জেটব্লু “জেটফরোয়ার্ড” নামে একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উন্নত সেবা দেওয়া, লাভজনক রুট বাড়ানো, উচ্চ আয়ের যাত্রীদের আকৃষ্ট করা এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে কম লাভজনক কিছু ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও পিছিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ধনী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ নতুন ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রথম শ্রেণির আসন চালুর পরিকল্পনা করছে।

ফোর্ট লডারডেলে বড় বাজি

জেটব্লুর বর্তমান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু এখন ফোর্ট লডারডেল। স্পিরিটের পতনের পর এই বিমানবন্দরে জেটব্লুই এখন সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইন ডেলটার চেয়েও দ্বিগুণের বেশি।

জেটব্লুর প্রধান নির্বাহী জোয়ানা গেরাঘটি কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, এই পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির জন্য “এক প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ” তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন নতুন ২৭টি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে নতুন রুটও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জেটব্লুর সেবা ও গ্রাহকভিত্তি এখনও শক্তিশালী। তবে নিউইয়র্ক ও বোস্টনের মতো বড় বাজারে ডেলটার সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। তাই দক্ষিণ ফ্লোরিডায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করেই নতুন প্রবৃদ্ধির পথ খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।

জেটব্লুর নতুন কৌশল ও স্পিরিটের পতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগকে কতটা কাজে লাগাতে পারে দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটি।

জেটব্লুর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই ও স্পিরিটের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

জেটব্লুর নতুন লড়াই, স্পিরিটের পতনের সুযোগে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

০৬:২১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে জেটব্লু এয়ারওয়েজের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এই এয়ারলাইন এখন স্পিরিট এয়ারলাইন্সের বন্ধ হয়ে যাওয়াকে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল-হলিউড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে জোরালো পরিকল্পনা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্পিরিট এয়ারলাইন্স কার্যক্রম বন্ধ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেটব্লু ঘোষণা দেয়, তারা ওই বিমানবন্দর থেকে দুই ডজনের বেশি নতুন ফ্লাইট চালু করবে। একসময় কম খরচের জনপ্রিয় এয়ারলাইন হিসেবে পরিচিত জেটব্লু এখন নিজেদের ব্যবসাকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।

লোকসান আর ঋণের চাপ

গত কয়েক বছরে জেটব্লুর আর্থিক অবস্থা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনছে। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ, অথচ আয় বেড়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। বর্তমানে তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, জেটব্লুর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—তারা বড় এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করার মতো শক্তিশালী নয়, আবার স্পিরিটের মতো কম ভাড়ার ব্যবসায়িক মডেলেও পুরোপুরি যেতে পারছে না। ফলে মাঝামাঝি এক কঠিন অবস্থায় আটকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যর্থ জোট আর নতুন চ্যালেঞ্জ

জেটব্লু নিজেদের শক্তিশালী করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২০ সালে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে তারা। পরে স্পিরিট এয়ারলাইন্সকে কিনে নেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদালতে আপত্তি জানালে দুটি উদ্যোগই ভেস্তে যায়।

এর পাশাপাশি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির কিছু বিমানের ইঞ্জিন সমস্যার কারণে জেটব্লুকে একাধিক উড়োজাহাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় আরও বেড়েছে।

For Struggling JetBlue, Spirit's Demise May Offer an Opportunity :: WRAL.com

নতুন কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

বর্তমানে জেটব্লু “জেটফরোয়ার্ড” নামে একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উন্নত সেবা দেওয়া, লাভজনক রুট বাড়ানো, উচ্চ আয়ের যাত্রীদের আকৃষ্ট করা এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে কম লাভজনক কিছু ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও পিছিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ধনী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ নতুন ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রথম শ্রেণির আসন চালুর পরিকল্পনা করছে।

ফোর্ট লডারডেলে বড় বাজি

জেটব্লুর বর্তমান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু এখন ফোর্ট লডারডেল। স্পিরিটের পতনের পর এই বিমানবন্দরে জেটব্লুই এখন সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইন ডেলটার চেয়েও দ্বিগুণের বেশি।

জেটব্লুর প্রধান নির্বাহী জোয়ানা গেরাঘটি কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, এই পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির জন্য “এক প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ” তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন নতুন ২৭টি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে নতুন রুটও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জেটব্লুর সেবা ও গ্রাহকভিত্তি এখনও শক্তিশালী। তবে নিউইয়র্ক ও বোস্টনের মতো বড় বাজারে ডেলটার সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। তাই দক্ষিণ ফ্লোরিডায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করেই নতুন প্রবৃদ্ধির পথ খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।

জেটব্লুর নতুন কৌশল ও স্পিরিটের পতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগকে কতটা কাজে লাগাতে পারে দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটি।

জেটব্লুর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই ও স্পিরিটের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।