০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

জ্বালানি দামের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি সংকটে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আইএমএফের

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে—এমনই সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটি বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় চাপের মুখে পড়বে।

যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে সমুদ্রপথে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত এক মাসে তেল ও গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ, বিকল্প যে পথে তেল আনছে পাকিস্তান - Bangla News

এই পরিস্থিতির কারণে শুধু জ্বালানি নয়, সার পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে। এতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব

আইএমএফ জানিয়েছে, যদি জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি অবস্থায় থাকে, তাহলে প্রতি ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধিতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উৎপাদন কমে যেতে পারে শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

যদি এক বছর ধরে তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে থাকে, তাহলে এর প্রভাব হবে আরও গুরুতর। এতে বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

Tensión cambiaria. El dólar sigue subiendo y rozó los $1300

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সতর্ক থাকার বার্তা

সংস্থাটি বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে এখন আরও সতর্ক থাকতে হবে। শুধু জ্বালানি নয়, মূল্যস্ফীতি অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে কি না, সেটি নজরে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতির প্রবণতাও স্থিতিশীল আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বৈশ্বিক বাজারে বাড়ছে অস্থিরতা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে এবং বন্ডের সুদের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে, আর অনেক উদীয়মান দেশের মুদ্রার মান কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চল ও অন্যান্য দেশের প্রভাব

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। তবে এটি নির্ভর করবে তারা কত দ্রুত তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুনরায় স্বাভাবিক করতে পারে তার ওপর।

Iran attacks wipe out 17% of Qatar's LNG capacity for up to five years, QatarEnergy  CEO says | DD News

কাতারের গ্যাস খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে, যেখানে রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরে বিপুল রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহেও ঝুঁকি বেড়েছে।

অন্যদিকে লেবাননে এই যুদ্ধ মানবিক সংকট আরও তীব্র করেছে এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করেছে। মিশর তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এপ্রিলে আসছে নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস

আইএমএফ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের প্রভাব তারা আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে যুক্ত করবে। যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং কতটা তীব্র হবে, তার ওপরই চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

জ্বালানি দামের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি সংকটে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আইএমএফের

০৪:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে—এমনই সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটি বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় চাপের মুখে পড়বে।

যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে সমুদ্রপথে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত এক মাসে তেল ও গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ, বিকল্প যে পথে তেল আনছে পাকিস্তান - Bangla News

এই পরিস্থিতির কারণে শুধু জ্বালানি নয়, সার পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে। এতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব

আইএমএফ জানিয়েছে, যদি জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি অবস্থায় থাকে, তাহলে প্রতি ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধিতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উৎপাদন কমে যেতে পারে শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

যদি এক বছর ধরে তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে থাকে, তাহলে এর প্রভাব হবে আরও গুরুতর। এতে বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

Tensión cambiaria. El dólar sigue subiendo y rozó los $1300

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সতর্ক থাকার বার্তা

সংস্থাটি বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে এখন আরও সতর্ক থাকতে হবে। শুধু জ্বালানি নয়, মূল্যস্ফীতি অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে কি না, সেটি নজরে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতির প্রবণতাও স্থিতিশীল আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বৈশ্বিক বাজারে বাড়ছে অস্থিরতা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে এবং বন্ডের সুদের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে, আর অনেক উদীয়মান দেশের মুদ্রার মান কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চল ও অন্যান্য দেশের প্রভাব

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। তবে এটি নির্ভর করবে তারা কত দ্রুত তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুনরায় স্বাভাবিক করতে পারে তার ওপর।

Iran attacks wipe out 17% of Qatar's LNG capacity for up to five years, QatarEnergy  CEO says | DD News

কাতারের গ্যাস খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে, যেখানে রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরে বিপুল রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহেও ঝুঁকি বেড়েছে।

অন্যদিকে লেবাননে এই যুদ্ধ মানবিক সংকট আরও তীব্র করেছে এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করেছে। মিশর তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এপ্রিলে আসছে নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস

আইএমএফ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের প্রভাব তারা আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে যুক্ত করবে। যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং কতটা তীব্র হবে, তার ওপরই চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে।