০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন

ফিলিপাইনে বাড়তে থাকা জ্বালানি মূল্য ও পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আবারও ফিরে এসেছে কোভিড-সময়ের জনপ্রিয় ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ উদ্যোগ। সাধারণ মানুষের সহায়তায় চালক ও ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বিনামূল্যে খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে নতুন করে।

কোভিড-পরবর্তী সংকটে পুরোনো উদ্যোগের প্রত্যাবর্তন
রাজধানী কুইজন সিটিতে ২৬ মার্চ পুনরায় চালু করা হয়েছে ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’, যা প্রথম শুরু হয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময়। উদ্যোগটির প্রতিষ্ঠাতা আনা প্যাট্রিসিয়া নন এবারও একই স্থানে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালু করেন।

জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট চলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চালক ও ডেলিভারি কর্মীরা। তাদের সহায়তায় চালু হওয়া এই প্যান্ট্রিতে চাল, ডিম, সবজি, ক্যানজাত খাবারসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

ননের আহ্বান ছিল সহজ—যার যা সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে সাহায্য করা এবং যার প্রয়োজন, সে অনুযায়ী নেওয়া। এই ধারণাই দ্রুত মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

মানুষের অংশগ্রহণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সহায়তা
প্যান্ট্রিতে রাখা খাদ্যসামগ্রী দ্রুত শেষ হলেও, দান হিসেবে আসা নতুন পণ্য দিয়ে তা আবার পূরণ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় চালকরা এখান থেকে প্রয়োজনীয় খাবার নিচ্ছেন, আবার অনেকেই নিজ উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী এনে দিচ্ছেন।

একজন ট্রাইসাইকেল চালক জানান, পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১০০ পেসো ছাড়িয়ে যাওয়ায় তার আয় কমে গেছে। অন্যদিকে, এক অফিসকর্মী একাধিক ডিমের ট্রে দিয়ে সহায়তা করেছেন।

জ্বালানির দাম বাড়ায় ফিলিপাইনে বিক্ষোভ

এই অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

পুরোনো আন্দোলনের ইতিহাস ও প্রভাব
২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল ম্যাগিনহাওয়া স্ট্রিটে ছোট একটি বাঁশের ঠেলাগাড়িতে কিছু সবজি ও চাল দিয়ে এই প্যান্ট্রি শুরু হয়েছিল। দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে মেট্রো ম্যানিলায় শতাধিক এবং পরে হাজার হাজার প্যান্ট্রি গড়ে ওঠে, যা লাখো দরিদ্র মানুষের খাদ্যসংকট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই উদ্যোগ ফিলিপিনো সংস্কৃতির ‘বায়ানিহান’—অর্থাৎ একে অপরকে সাহায্য করার ঐতিহ্য—কে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে।

সম্মাননা ও বিতর্ক
এই উদ্যোগের জন্য আনা প্যাট্রিসিয়া নন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পুরস্কার ও স্বীকৃতি পান। তবে একই সঙ্গে তাকে কিছু সরকারি মহল থেকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়।

তাকে ‘চরমপন্থী’ ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ উঠলেও সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে তার পাশে দাঁড়ায়। ফলে এই অভিযোগগুলো উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

বর্তমানে আবারও মেট্রো ম্যানিলা, বাগুইও ও মিন্ডোরোসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন প্যান্ট্রি চালু হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু রেস্টুরেন্ট পরিবহন টার্মিনালে স্যুপ কিচেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন

০৮:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ফিলিপাইনে বাড়তে থাকা জ্বালানি মূল্য ও পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আবারও ফিরে এসেছে কোভিড-সময়ের জনপ্রিয় ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ উদ্যোগ। সাধারণ মানুষের সহায়তায় চালক ও ডেলিভারি রাইডারদের জন্য বিনামূল্যে খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে নতুন করে।

কোভিড-পরবর্তী সংকটে পুরোনো উদ্যোগের প্রত্যাবর্তন
রাজধানী কুইজন সিটিতে ২৬ মার্চ পুনরায় চালু করা হয়েছে ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’, যা প্রথম শুরু হয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময়। উদ্যোগটির প্রতিষ্ঠাতা আনা প্যাট্রিসিয়া নন এবারও একই স্থানে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালু করেন।

জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট চলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চালক ও ডেলিভারি কর্মীরা। তাদের সহায়তায় চালু হওয়া এই প্যান্ট্রিতে চাল, ডিম, সবজি, ক্যানজাত খাবারসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

ননের আহ্বান ছিল সহজ—যার যা সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে সাহায্য করা এবং যার প্রয়োজন, সে অনুযায়ী নেওয়া। এই ধারণাই দ্রুত মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

মানুষের অংশগ্রহণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সহায়তা
প্যান্ট্রিতে রাখা খাদ্যসামগ্রী দ্রুত শেষ হলেও, দান হিসেবে আসা নতুন পণ্য দিয়ে তা আবার পূরণ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় চালকরা এখান থেকে প্রয়োজনীয় খাবার নিচ্ছেন, আবার অনেকেই নিজ উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী এনে দিচ্ছেন।

একজন ট্রাইসাইকেল চালক জানান, পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১০০ পেসো ছাড়িয়ে যাওয়ায় তার আয় কমে গেছে। অন্যদিকে, এক অফিসকর্মী একাধিক ডিমের ট্রে দিয়ে সহায়তা করেছেন।

জ্বালানির দাম বাড়ায় ফিলিপাইনে বিক্ষোভ

এই অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

পুরোনো আন্দোলনের ইতিহাস ও প্রভাব
২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল ম্যাগিনহাওয়া স্ট্রিটে ছোট একটি বাঁশের ঠেলাগাড়িতে কিছু সবজি ও চাল দিয়ে এই প্যান্ট্রি শুরু হয়েছিল। দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে মেট্রো ম্যানিলায় শতাধিক এবং পরে হাজার হাজার প্যান্ট্রি গড়ে ওঠে, যা লাখো দরিদ্র মানুষের খাদ্যসংকট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই উদ্যোগ ফিলিপিনো সংস্কৃতির ‘বায়ানিহান’—অর্থাৎ একে অপরকে সাহায্য করার ঐতিহ্য—কে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে।

সম্মাননা ও বিতর্ক
এই উদ্যোগের জন্য আনা প্যাট্রিসিয়া নন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পুরস্কার ও স্বীকৃতি পান। তবে একই সঙ্গে তাকে কিছু সরকারি মহল থেকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়।

তাকে ‘চরমপন্থী’ ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ উঠলেও সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে তার পাশে দাঁড়ায়। ফলে এই অভিযোগগুলো উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

বর্তমানে আবারও মেট্রো ম্যানিলা, বাগুইও ও মিন্ডোরোসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন প্যান্ট্রি চালু হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু রেস্টুরেন্ট পরিবহন টার্মিনালে স্যুপ কিচেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।