০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ০৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪
  • 149

ম্যাকসিম গোর্কী

আট

আজকে গ্র্যাণ্ড ডিউক নিকোলাই মাইকেলোভিচ টলস্টয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁকে দেখে বুদ্ধিমান মনে হোলো। তাঁর আচায় ব্যবহারে নম্র দীনতা রয়েছে, তিনি স্বল্পভাষী। চোখদুটিতে সহানুভূতি ত মাখানো। । সুন্দর সুঠাম দেহ; ভাবভংগীতে একটি প্রশান্ত ভাব। লিও নিকোলাইয়েভিচ তাঁর পানে তাকিয়ে সস্নেহ গম্ভীর হ সি হাসলেন, কখনো ফরাসী ভাষায়, কখনো বা ইংরেজিতে কথা বলতে লাগলেন। রুশ ভাষায় বললেন: “কারামজিন লেখেন জারের জন্যে। সলোভিয়ভের রচনা যেমন দীর্ঘ, তেমনি নীরস।

ক্লুচেভ স্কি লেখেন তাঁর নিজের খুশীতে। ক্রুচেভস্কি ভারী ধূর্ত মানুষ, প্রথমে আপনার মনে হবে, তিনি বুঝি আপনার প্রশংসা করছেন, কিন্তু আরো যখন পড়তে থাকবেন, তখন দেখবেন তিনি নিন্দাই করছেন।” কে যেন জাবিয়েলিনের নামটা উল্লেখ করলেন। “জাবিরেলিন, চমৎকার মানুষ। সখের সংকলয়িতা; কাজে আসুক, না আসুক, যা পান তাই তিনি সংকলন ক’রে রাখেন। খাদ্য সম্বন্ধে তিনি এমন বর্ণনা দেন যে কখনো ভালো ক’রে দুটি খেতে পেয়েছেন মনে হয় না। তবু ভারী মজা লাগে তাঁর লেখা পড়তে।”

নয়

তাঁকে দেখে আমার সেই দণ্ডপাণি তীর্থযাত্রীদের কথা মনে পড়ে, যাঁরা পৃথিবীর বুকে পদব্রজে এক আশ্রম থেকে অন্য আশ্রমে, এক ঋষির অস্থি-অবশেষ থেকে অন্য ঋষির অস্থি অবশেষে, সবার কাছে গৃহহীন ও পরিচয়হীন প্রবাসী হ’য়ে সহস্র সহস্র মাইল পথ অতিক্রমণ করছেন। তাঁদের জন্য পৃথিবী নয়, ভগবানও নয়। তাঁরা অভ্যাস- বশে ভগবানের উপাসনা করেন; কিন্তু গোপনে অন্তরের অন্তর থেকে তাঁরা তাঁকে করেন ঘৃণা-আক্রোশ ভরে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি তাঁদের পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এমনভাবে খেদিয়ে নিয়ে চলেছেন? কেন?

মানুষের দল যেন সমস্ত পথের উপর গাছের গুড়ি, গাছের শিকড়, কিম্বা পাথরের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। লোকে তাদের উপর অতর্কিতে এসে পড়ে, কখনো বা তাদের কাছে আঘাতও পায়। অন্যান্য মানুষকে বাদ দিয়ে মানুষের চলে। কিন্তু কোনো মানুষের সংগে তার নিজের কোনো সাদৃশ্য যে নেই, এই কথা ঘোষণা ক’রে অপরকে চমকে দিতেও মানুষের বেশ লাগে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ০৫)

০৩:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

আট

আজকে গ্র্যাণ্ড ডিউক নিকোলাই মাইকেলোভিচ টলস্টয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁকে দেখে বুদ্ধিমান মনে হোলো। তাঁর আচায় ব্যবহারে নম্র দীনতা রয়েছে, তিনি স্বল্পভাষী। চোখদুটিতে সহানুভূতি ত মাখানো। । সুন্দর সুঠাম দেহ; ভাবভংগীতে একটি প্রশান্ত ভাব। লিও নিকোলাইয়েভিচ তাঁর পানে তাকিয়ে সস্নেহ গম্ভীর হ সি হাসলেন, কখনো ফরাসী ভাষায়, কখনো বা ইংরেজিতে কথা বলতে লাগলেন। রুশ ভাষায় বললেন: “কারামজিন লেখেন জারের জন্যে। সলোভিয়ভের রচনা যেমন দীর্ঘ, তেমনি নীরস।

ক্লুচেভ স্কি লেখেন তাঁর নিজের খুশীতে। ক্রুচেভস্কি ভারী ধূর্ত মানুষ, প্রথমে আপনার মনে হবে, তিনি বুঝি আপনার প্রশংসা করছেন, কিন্তু আরো যখন পড়তে থাকবেন, তখন দেখবেন তিনি নিন্দাই করছেন।” কে যেন জাবিয়েলিনের নামটা উল্লেখ করলেন। “জাবিরেলিন, চমৎকার মানুষ। সখের সংকলয়িতা; কাজে আসুক, না আসুক, যা পান তাই তিনি সংকলন ক’রে রাখেন। খাদ্য সম্বন্ধে তিনি এমন বর্ণনা দেন যে কখনো ভালো ক’রে দুটি খেতে পেয়েছেন মনে হয় না। তবু ভারী মজা লাগে তাঁর লেখা পড়তে।”

নয়

তাঁকে দেখে আমার সেই দণ্ডপাণি তীর্থযাত্রীদের কথা মনে পড়ে, যাঁরা পৃথিবীর বুকে পদব্রজে এক আশ্রম থেকে অন্য আশ্রমে, এক ঋষির অস্থি-অবশেষ থেকে অন্য ঋষির অস্থি অবশেষে, সবার কাছে গৃহহীন ও পরিচয়হীন প্রবাসী হ’য়ে সহস্র সহস্র মাইল পথ অতিক্রমণ করছেন। তাঁদের জন্য পৃথিবী নয়, ভগবানও নয়। তাঁরা অভ্যাস- বশে ভগবানের উপাসনা করেন; কিন্তু গোপনে অন্তরের অন্তর থেকে তাঁরা তাঁকে করেন ঘৃণা-আক্রোশ ভরে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি তাঁদের পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এমনভাবে খেদিয়ে নিয়ে চলেছেন? কেন?

মানুষের দল যেন সমস্ত পথের উপর গাছের গুড়ি, গাছের শিকড়, কিম্বা পাথরের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। লোকে তাদের উপর অতর্কিতে এসে পড়ে, কখনো বা তাদের কাছে আঘাতও পায়। অন্যান্য মানুষকে বাদ দিয়ে মানুষের চলে। কিন্তু কোনো মানুষের সংগে তার নিজের কোনো সাদৃশ্য যে নেই, এই কথা ঘোষণা ক’রে অপরকে চমকে দিতেও মানুষের বেশ লাগে।