০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ২৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 149

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

কারণ, তিনি বুঝেছিলেন, কোন উপদেশ প্রচারের দ্বারাই মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মান যায় না; নিজের উপদেশ এবং ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে তিনি নিজেও যে কী রকম সংশয় পোষণ করতেন, তার দৃষ্টান্ত তুমি নিজেই হয়তো কোনোদিন তাঁর ডাইরিতেই পড়তে পাবে। শহীদ এবং সহাকারীরা যে কদাচিৎ দুই জন ভিন্ন সর্বদা স্বৈরাচারী এবং অত্যাচারী হ’য়ে থাকেন, তাও তিনি জানতেন। তিনি ছিলেন সর্বজ্ঞ।

তবু তিনি নিজেকে বলেছিলেন, “আমি যদি আমার মতবাদের জন্যে যন্ত্রণা সহ্য করি, তবে সেগুলির প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে।” তাঁর মধ্যে এই বস্তুটি সর্বদাই আমাকে পীড়া দিয়েছে। কারণ, আমার প্রতি এ যেন এক প্রকার বলপ্রয়োগের চেষ্টা; আমার বিবেককে কবলিত করবার তীর বাসনা-শোণিতাক্ত এক ন্যায়ের মহিমায় আমার বিবেকের চক্ষুকে ঝলে দিয়ে আমার ঘাড়ে নীতির বাঁধা বুলি চড়িয়ে দেওয়ার কঠিন প্রয়াস; এমনিটি আমি না অনুভব ক’রে পারি না।

জীবনের ওপারের অমরতাটাকেই তিনি সর্বদা বড়ো ক’রে দেখিয়েছেন। অথচ জীবনের এপারে থাকতেই তিনি ভালোবেসেছেন সর্বদা। তিনি ছিলেন, এমন একজন লেখক, যাঁকে পরিপূর্ণতম অর্থে সত্যিকারের লেখক বলা চলে। তাঁর মহান আত্মার মধ্যে জাতির সকল দোষত্রুটি, ঐতিহাসিক অগ্নিপরীক্ষার ফলে সংঘটিত জাতির সকল অংগহানিই মূর্তিগ্রহ ক’রে উঠেছিল। তাঁর “নিষ্ক্রিয়তা” এবং “অজায়ের প্রতি নির্বিরোধের” ধোঁয়া ধোঁয়া বাণীগুলি পুরাতন পচা রুশ রক্তের সংগে মংগোলীয়দের বিষাক্ত নিয়তিবাদের সংমিশ্রনের ফলেই করেছিল জন্মলাভ।

এ-জিনিষটা প্রায়ই পশ্চিমের অশ্রান্ত সৃজনী শক্তি এবং তার সহজাত জীবনের অন্যায়ের প্রতি সক্রিয়, দুর্দম প্রতিরোধিতার সম্পূর্ণ বিরোধী। টলস্টয়ের অরাজকবাদ বলতে যা বোঝায়, তা হোলো মূলত এবং সারত, গ্লাভ জাতির চিরাচরিত রাষ্ট্রবিরোধিতার প্রকাশ মাত্র। আর এও আবার বাস্তবিক পক্ষে আমাদের একটি জাতীয় বৈশিষ্ট্য-যাযাবরের মতো ইতস্তত ছড়িয়ে পড়বার যে তীব্র বাসনা আমাদের মজ্জায় লুকিয়ে আছে, এ তাছাড়া আর কিছুই নয়। এই বাসনাকে আমরা আজ পর্যন্ত আবেগের সংগে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছি। একথা তুমিও জানো, অনন্ত সবাইও জানে।

রাশিয়ানরা একথা জানে, কিন্তু তথাপি তারা সর্বাপেক্ষা স্বল্প প্রতিরোধের পথেই পা দেয়; আমরা জানি, ও-পথ বিপজ্জনক, কিন্তু তবু আমরা হামা- গুঁড়ি দিয়ে ও পথেই আরো, আরো এগিয়ে চলি; আর এই চুপি চুপি করুণ ভাবে এগিয়ে চলার নামই হল রাশিয়ার ইতিহাস অতি আকস্মিকভাবে প্রাণ হীন পদ্ধতিতে সংঘটিত একটি রাষ্ট্রের ইতিহাস। ভারিয়াগ তাতার, বাল্টিক জার্মান এবং ছোটোখাটে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ২৮)

০৩:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

কারণ, তিনি বুঝেছিলেন, কোন উপদেশ প্রচারের দ্বারাই মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মান যায় না; নিজের উপদেশ এবং ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে তিনি নিজেও যে কী রকম সংশয় পোষণ করতেন, তার দৃষ্টান্ত তুমি নিজেই হয়তো কোনোদিন তাঁর ডাইরিতেই পড়তে পাবে। শহীদ এবং সহাকারীরা যে কদাচিৎ দুই জন ভিন্ন সর্বদা স্বৈরাচারী এবং অত্যাচারী হ’য়ে থাকেন, তাও তিনি জানতেন। তিনি ছিলেন সর্বজ্ঞ।

তবু তিনি নিজেকে বলেছিলেন, “আমি যদি আমার মতবাদের জন্যে যন্ত্রণা সহ্য করি, তবে সেগুলির প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে।” তাঁর মধ্যে এই বস্তুটি সর্বদাই আমাকে পীড়া দিয়েছে। কারণ, আমার প্রতি এ যেন এক প্রকার বলপ্রয়োগের চেষ্টা; আমার বিবেককে কবলিত করবার তীর বাসনা-শোণিতাক্ত এক ন্যায়ের মহিমায় আমার বিবেকের চক্ষুকে ঝলে দিয়ে আমার ঘাড়ে নীতির বাঁধা বুলি চড়িয়ে দেওয়ার কঠিন প্রয়াস; এমনিটি আমি না অনুভব ক’রে পারি না।

জীবনের ওপারের অমরতাটাকেই তিনি সর্বদা বড়ো ক’রে দেখিয়েছেন। অথচ জীবনের এপারে থাকতেই তিনি ভালোবেসেছেন সর্বদা। তিনি ছিলেন, এমন একজন লেখক, যাঁকে পরিপূর্ণতম অর্থে সত্যিকারের লেখক বলা চলে। তাঁর মহান আত্মার মধ্যে জাতির সকল দোষত্রুটি, ঐতিহাসিক অগ্নিপরীক্ষার ফলে সংঘটিত জাতির সকল অংগহানিই মূর্তিগ্রহ ক’রে উঠেছিল। তাঁর “নিষ্ক্রিয়তা” এবং “অজায়ের প্রতি নির্বিরোধের” ধোঁয়া ধোঁয়া বাণীগুলি পুরাতন পচা রুশ রক্তের সংগে মংগোলীয়দের বিষাক্ত নিয়তিবাদের সংমিশ্রনের ফলেই করেছিল জন্মলাভ।

এ-জিনিষটা প্রায়ই পশ্চিমের অশ্রান্ত সৃজনী শক্তি এবং তার সহজাত জীবনের অন্যায়ের প্রতি সক্রিয়, দুর্দম প্রতিরোধিতার সম্পূর্ণ বিরোধী। টলস্টয়ের অরাজকবাদ বলতে যা বোঝায়, তা হোলো মূলত এবং সারত, গ্লাভ জাতির চিরাচরিত রাষ্ট্রবিরোধিতার প্রকাশ মাত্র। আর এও আবার বাস্তবিক পক্ষে আমাদের একটি জাতীয় বৈশিষ্ট্য-যাযাবরের মতো ইতস্তত ছড়িয়ে পড়বার যে তীব্র বাসনা আমাদের মজ্জায় লুকিয়ে আছে, এ তাছাড়া আর কিছুই নয়। এই বাসনাকে আমরা আজ পর্যন্ত আবেগের সংগে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছি। একথা তুমিও জানো, অনন্ত সবাইও জানে।

রাশিয়ানরা একথা জানে, কিন্তু তথাপি তারা সর্বাপেক্ষা স্বল্প প্রতিরোধের পথেই পা দেয়; আমরা জানি, ও-পথ বিপজ্জনক, কিন্তু তবু আমরা হামা- গুঁড়ি দিয়ে ও পথেই আরো, আরো এগিয়ে চলি; আর এই চুপি চুপি করুণ ভাবে এগিয়ে চলার নামই হল রাশিয়ার ইতিহাস অতি আকস্মিকভাবে প্রাণ হীন পদ্ধতিতে সংঘটিত একটি রাষ্ট্রের ইতিহাস। ভারিয়াগ তাতার, বাল্টিক জার্মান এবং ছোটোখাটে।