০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ট্রাম্পের আগমনে আসিয়ান শীর্ষ বৈঠক হয়ে গেল মার্কিন মঞ্চ

ট্রাম্পের উপস্থিতি ও সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

কুয়ালালামপুরে হওয়া আসিয়ান বৈঠকটি ছিল আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে কথা বলার জায়গা। কিন্তু বাস্তবে সেটি পরিণত হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মঞ্চে। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে জুলাই মাসের পাঁচ দিনের সংঘর্ষে ডজনখানেক মানুষ নিহত হয় এবং দুই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়। এ লড়াই থামাতে যে যুদ্ধবিরতি কয়েক মাস ধরে ঝুলে ছিল, সেটিকে ট্রাম্প আসিয়ান সম্মেলনের সাইডলাইনে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তৃত চুক্তিতে পরিণত করান। মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় সই হওয়া এই চুক্তিতে ভারী অস্ত্র সরানো, সীমান্তের মাইন অপসারণ, বন্দি বিনিময় এবং যৌথ মনিটরিংয়ের কথা আছে। মালয়েশিয়ার নেতারা এটিকে সীমান্ত উত্তেজনা ঠান্ডা করার বাস্তব পদক্ষেপ বলেছেন।

একই মঞ্চে ট্রাম্প থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বানিজ্যিক অঙ্গীকারও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও এভিয়েশন চুক্তি থেকে দ্রুত অর্ডার পাবে; বিনিময়ে এসব দেশ শুল্ক ছাড় ও বাজার-প্রবেশের ইঙ্গিত পাবে। ফলে শান্তি ও বাণিজ্য একসঙ্গে বেঁধে গেল। কিছু আসিয়ান সরকার প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানালেও পর্দার আড়ালে অনেকে বলছে, এতে ভবিষ্যতে প্রতিটি নিরাপত্তা সংকটই মার্কিন ‘ডিল’-এ পরিণত হবে।

চীন সুযোগ দেখে এগোয়

ট্রাম্প মালয়েশিয়া ছেড়ে টোকিওতে যান জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে, এরপর চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যও প্রকাশ করেন। ট্রাম্প চলে যাওয়ার পরপরই চীনের প্রিমিয়ার লি চিয়াং আসিয়ান দেশগুলোর উদ্দেশে বার্তা দেন—মার্কিন শুল্কচাপকে ‘প্রোটেকশনিজম’ বা বাধা হিসেবে দেখুন, আর চীনকে দেখুন স্থিতিশীল বড় বাজার হিসেবে। তিনি আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য জোট আরসিইপি-কে (যা বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ জিডিপি কভার করে) আরও গভীর করার আহ্বান জানান।

এদিকে ফিলিপাইন আবারও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা আচরণকে প্রকাশ্যে নিন্দা করেছে। নেতারা গাজা নিয়েও ট্রাম্পের ভাষা লক্ষ্য করেছেন: তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত যুদ্ধবিরতি ফ্রেমওয়ার্ককে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন এবং এটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা’ নামে বিক্রি করছেন। আসিয়ান কূটনীতিকদের মতে, এই সম্মেলন দেখিয়ে দিল—এশিয়ায় এখন আর নিরপেক্ষ মঞ্চ বলে কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই ধরনের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক অর্ডার সামনে ধরছে, আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে, কার দিকে ঝুঁকবে তা স্পষ্টভাবে জানাতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ট্রাম্পের আগমনে আসিয়ান শীর্ষ বৈঠক হয়ে গেল মার্কিন মঞ্চ

০৬:৫২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ট্রাম্পের উপস্থিতি ও সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

কুয়ালালামপুরে হওয়া আসিয়ান বৈঠকটি ছিল আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে কথা বলার জায়গা। কিন্তু বাস্তবে সেটি পরিণত হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মঞ্চে। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে জুলাই মাসের পাঁচ দিনের সংঘর্ষে ডজনখানেক মানুষ নিহত হয় এবং দুই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়। এ লড়াই থামাতে যে যুদ্ধবিরতি কয়েক মাস ধরে ঝুলে ছিল, সেটিকে ট্রাম্প আসিয়ান সম্মেলনের সাইডলাইনে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তৃত চুক্তিতে পরিণত করান। মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় সই হওয়া এই চুক্তিতে ভারী অস্ত্র সরানো, সীমান্তের মাইন অপসারণ, বন্দি বিনিময় এবং যৌথ মনিটরিংয়ের কথা আছে। মালয়েশিয়ার নেতারা এটিকে সীমান্ত উত্তেজনা ঠান্ডা করার বাস্তব পদক্ষেপ বলেছেন।

একই মঞ্চে ট্রাম্প থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বানিজ্যিক অঙ্গীকারও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও এভিয়েশন চুক্তি থেকে দ্রুত অর্ডার পাবে; বিনিময়ে এসব দেশ শুল্ক ছাড় ও বাজার-প্রবেশের ইঙ্গিত পাবে। ফলে শান্তি ও বাণিজ্য একসঙ্গে বেঁধে গেল। কিছু আসিয়ান সরকার প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানালেও পর্দার আড়ালে অনেকে বলছে, এতে ভবিষ্যতে প্রতিটি নিরাপত্তা সংকটই মার্কিন ‘ডিল’-এ পরিণত হবে।

চীন সুযোগ দেখে এগোয়

ট্রাম্প মালয়েশিয়া ছেড়ে টোকিওতে যান জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে, এরপর চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যও প্রকাশ করেন। ট্রাম্প চলে যাওয়ার পরপরই চীনের প্রিমিয়ার লি চিয়াং আসিয়ান দেশগুলোর উদ্দেশে বার্তা দেন—মার্কিন শুল্কচাপকে ‘প্রোটেকশনিজম’ বা বাধা হিসেবে দেখুন, আর চীনকে দেখুন স্থিতিশীল বড় বাজার হিসেবে। তিনি আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য জোট আরসিইপি-কে (যা বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ জিডিপি কভার করে) আরও গভীর করার আহ্বান জানান।

এদিকে ফিলিপাইন আবারও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা আচরণকে প্রকাশ্যে নিন্দা করেছে। নেতারা গাজা নিয়েও ট্রাম্পের ভাষা লক্ষ্য করেছেন: তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত যুদ্ধবিরতি ফ্রেমওয়ার্ককে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন এবং এটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা’ নামে বিক্রি করছেন। আসিয়ান কূটনীতিকদের মতে, এই সম্মেলন দেখিয়ে দিল—এশিয়ায় এখন আর নিরপেক্ষ মঞ্চ বলে কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই ধরনের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক অর্ডার সামনে ধরছে, আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে, কার দিকে ঝুঁকবে তা স্পষ্টভাবে জানাতে।