০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার তেলে অস্বচ্ছতা, গোপন চুক্তির জাল কাটেনি

ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে তেল বিক্রি হবে, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত যাচাই হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এখনো সেই স্বচ্ছতা পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না। তেলের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির ওপর নজরদারি থাকবে এবং প্রতি মাসে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। এমনকি জনগণের জন্য একটি ওয়েবসাইট চালুর কথাও বলা হয়, যেখানে তেলের প্রতিটি ডলার কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। তেল খাত এখনো অনেকটাই অস্বচ্ছ রয়ে গেছে।

পুরনো দুর্নীতির প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ বহু বছরের দুর্নীতি। অতীতে তেল বিক্রি থেকে আয় হওয়া অর্থের বড় অংশই আত্মসাৎ হয়েছে। কিছু তথ্য বলছে, আগের সময় তেল আয়ের প্রায় অর্ধেকই হারিয়ে গেছে। ফলে এখন নতুন করে স্বচ্ছতা আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গোপন চুক্তি ও সুবিধাভোগীরা
তদন্তে দেখা গেছে, আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি এখনো তেল খাত থেকে লাভ নিচ্ছেন। বিভিন্ন শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি হলেও তার পুরো অর্থ রাষ্ট্র পায়নি। কিছু ক্ষেত্রে তেল বিক্রির টাকা একেবারেই জমা হয়নি।

এমনকি এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে শত শত ট্যাংকার তেল নিয়ে দেশ ছাড়লেও তার বড় অংশের কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি। এতে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি হয়েছে।

নতুন নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা
বর্তমান নেতৃত্ব কিছু অনিয়ম কমানোর চেষ্টা করেছে। বড় ধরনের বকেয়া তেল বিক্রি বন্ধ হয়েছে। তবে পুরনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো এখনো পুরোপুরি সরেনি। তারা তেল ক্ষেত্র পরিচালনা, সেবা দেওয়া এবং স্থানীয় বাজারে তেল সরবরাহের মাধ্যমে লাভ করছে।

কিছু চুক্তিতে অস্বাভাবিক শর্তও দেখা গেছে। যেমন, ডলারের বদলে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য লাভজনক হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপ ও সামনে চ্যালেঞ্জ
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল খাতে স্বচ্ছতা আনা শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক বিষয়ও। বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা জরুরি। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার জনগণের আস্থা ফেরানোও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে পরিবর্তন এখনো সীমিত। তেল খাতে প্রকৃত স্বচ্ছতা আনতে হলে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির কাঠামো ভাঙতে হবে, যা সহজ নয়।

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো গোপন চুক্তির জাল ও দুর্নীতির কারণে অর্থের সঠিক হিসাব স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার তেলে অস্বচ্ছতা, গোপন চুক্তির জাল কাটেনি

০৭:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে তেল বিক্রি হবে, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত যাচাই হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এখনো সেই স্বচ্ছতা পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না। তেলের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির ওপর নজরদারি থাকবে এবং প্রতি মাসে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। এমনকি জনগণের জন্য একটি ওয়েবসাইট চালুর কথাও বলা হয়, যেখানে তেলের প্রতিটি ডলার কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। তেল খাত এখনো অনেকটাই অস্বচ্ছ রয়ে গেছে।

পুরনো দুর্নীতির প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ বহু বছরের দুর্নীতি। অতীতে তেল বিক্রি থেকে আয় হওয়া অর্থের বড় অংশই আত্মসাৎ হয়েছে। কিছু তথ্য বলছে, আগের সময় তেল আয়ের প্রায় অর্ধেকই হারিয়ে গেছে। ফলে এখন নতুন করে স্বচ্ছতা আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গোপন চুক্তি ও সুবিধাভোগীরা
তদন্তে দেখা গেছে, আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি এখনো তেল খাত থেকে লাভ নিচ্ছেন। বিভিন্ন শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি হলেও তার পুরো অর্থ রাষ্ট্র পায়নি। কিছু ক্ষেত্রে তেল বিক্রির টাকা একেবারেই জমা হয়নি।

এমনকি এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে শত শত ট্যাংকার তেল নিয়ে দেশ ছাড়লেও তার বড় অংশের কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি। এতে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি হয়েছে।

নতুন নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা
বর্তমান নেতৃত্ব কিছু অনিয়ম কমানোর চেষ্টা করেছে। বড় ধরনের বকেয়া তেল বিক্রি বন্ধ হয়েছে। তবে পুরনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো এখনো পুরোপুরি সরেনি। তারা তেল ক্ষেত্র পরিচালনা, সেবা দেওয়া এবং স্থানীয় বাজারে তেল সরবরাহের মাধ্যমে লাভ করছে।

কিছু চুক্তিতে অস্বাভাবিক শর্তও দেখা গেছে। যেমন, ডলারের বদলে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য লাভজনক হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপ ও সামনে চ্যালেঞ্জ
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল খাতে স্বচ্ছতা আনা শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক বিষয়ও। বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা জরুরি। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার জনগণের আস্থা ফেরানোও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে পরিবর্তন এখনো সীমিত। তেল খাতে প্রকৃত স্বচ্ছতা আনতে হলে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির কাঠামো ভাঙতে হবে, যা সহজ নয়।

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো গোপন চুক্তির জাল ও দুর্নীতির কারণে অর্থের সঠিক হিসাব স্পষ্ট নয়।