১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ট্রাম্পের মন্তব্যে বিতর্ক: ‘যুদ্ধপ্রেমী’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক পছন্দ?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে নিয়ে করা একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, হেগসেথ ‘যুদ্ধ ভালোবাসেন’। অনেকের কাছে এটি ছিল মজা, কিন্তু সমালোচকদের মতে এই মন্তব্য অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি গভীর প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে—যে ব্যক্তি যুদ্ধকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, তিনি কি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত?

যুদ্ধ সম্পর্কে ঐতিহ্যগত সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি

ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সামরিক নেতারা যুদ্ধকে কখনও গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখেননি। বরং তারা যুদ্ধকে একটি দুঃখজনক কিন্তু কখনও কখনও অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নায়ক এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডুয়াইট আইজেনহাওয়ার যুদ্ধকে মানবজাতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছিলেন। একইভাবে জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারও সৈনিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, একজন প্রকৃত সৈনিক সবার আগে শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

এই ঐতিহ্যগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সামরিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার চূড়ান্ত লক্ষ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা।

Defense Sec Hegseth tells Fort Benning grads enemies won't want to mess with  US | Fox News

হেগসেথের ভিন্ন বার্তা

পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ‘যোদ্ধা মানসিকতা’ ফিরিয়ে আনার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই ‘মারণক্ষমতা’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণঘাতী দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ওয়েস্ট পয়েন্ট সামরিক একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বারবার এই বিষয়টির উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সেনাবাহিনীর মূল কাজ হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং প্রয়োজনে জয় নিশ্চিত করা।

সমর্থকদের মতে, বর্তমান বিশ্বের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এমন মনোভাব প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের যুক্তি, যুদ্ধের প্রস্তুতি আর যুদ্ধকে মহিমান্বিত করা এক বিষয় নয়।

বৈচিত্র্য নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান

হেগসেথ সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত নীতিরও কড়া সমালোচক। তিনি মনে করেন, এসব কর্মসূচি সামরিক দক্ষতা ও প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Pentagon Official: Hegseth's Campaign to Scrub DEI History Is “Dumb”  Distraction

তবে তাঁর বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এসব নীতি সত্যিই সেনাবাহিনীর সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাহলে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ কোথায়? তাদের মতে, বাস্তব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের বদলে হেগসেথ প্রায়ই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেন।

পদোন্নতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

সমালোচনার আরেকটি ক্ষেত্র হলো সামরিক নেতৃত্বে পদোন্নতি ও নিয়োগের প্রশ্ন। হেগসেথ বারবার মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের কথা বললেও তাঁর বিরুদ্ধে অনুগত ব্যক্তিদের এগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অতীতে নিজের সামরিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।

Hegseth Uses His First Town Hall to Attack Diversity - The New York Times

বড় প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা নয়, বরং কৌশলগত বিচক্ষণতা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা।

এই কারণেই ট্রাম্পের ‘যুদ্ধপ্রেমী’ মন্তব্যটি কেবল একটি রসিকতা হিসেবে নয়, বরং হেগসেথের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে। সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে শক্তির পাশাপাশি সংযম, দূরদর্শিতা এবং শান্তির মূল্য বোঝার ক্ষমতাও সমানভাবে জরুরি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ট্রাম্পের মন্তব্যে বিতর্ক: ‘যুদ্ধপ্রেমী’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক পছন্দ?

০১:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে নিয়ে করা একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, হেগসেথ ‘যুদ্ধ ভালোবাসেন’। অনেকের কাছে এটি ছিল মজা, কিন্তু সমালোচকদের মতে এই মন্তব্য অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি গভীর প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে—যে ব্যক্তি যুদ্ধকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, তিনি কি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত?

যুদ্ধ সম্পর্কে ঐতিহ্যগত সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি

ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সামরিক নেতারা যুদ্ধকে কখনও গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখেননি। বরং তারা যুদ্ধকে একটি দুঃখজনক কিন্তু কখনও কখনও অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নায়ক এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডুয়াইট আইজেনহাওয়ার যুদ্ধকে মানবজাতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছিলেন। একইভাবে জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারও সৈনিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, একজন প্রকৃত সৈনিক সবার আগে শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

এই ঐতিহ্যগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সামরিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার চূড়ান্ত লক্ষ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা।

Defense Sec Hegseth tells Fort Benning grads enemies won't want to mess with  US | Fox News

হেগসেথের ভিন্ন বার্তা

পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ‘যোদ্ধা মানসিকতা’ ফিরিয়ে আনার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই ‘মারণক্ষমতা’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণঘাতী দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ওয়েস্ট পয়েন্ট সামরিক একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বারবার এই বিষয়টির উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সেনাবাহিনীর মূল কাজ হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং প্রয়োজনে জয় নিশ্চিত করা।

সমর্থকদের মতে, বর্তমান বিশ্বের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এমন মনোভাব প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের যুক্তি, যুদ্ধের প্রস্তুতি আর যুদ্ধকে মহিমান্বিত করা এক বিষয় নয়।

বৈচিত্র্য নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান

হেগসেথ সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত নীতিরও কড়া সমালোচক। তিনি মনে করেন, এসব কর্মসূচি সামরিক দক্ষতা ও প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Pentagon Official: Hegseth's Campaign to Scrub DEI History Is “Dumb”  Distraction

তবে তাঁর বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এসব নীতি সত্যিই সেনাবাহিনীর সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাহলে তার সুস্পষ্ট প্রমাণ কোথায়? তাদের মতে, বাস্তব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের বদলে হেগসেথ প্রায়ই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেন।

পদোন্নতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

সমালোচনার আরেকটি ক্ষেত্র হলো সামরিক নেতৃত্বে পদোন্নতি ও নিয়োগের প্রশ্ন। হেগসেথ বারবার মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের কথা বললেও তাঁর বিরুদ্ধে অনুগত ব্যক্তিদের এগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অতীতে নিজের সামরিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।

Hegseth Uses His First Town Hall to Attack Diversity - The New York Times

বড় প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা নয়, বরং কৌশলগত বিচক্ষণতা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা।

এই কারণেই ট্রাম্পের ‘যুদ্ধপ্রেমী’ মন্তব্যটি কেবল একটি রসিকতা হিসেবে নয়, বরং হেগসেথের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে। সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে শক্তির পাশাপাশি সংযম, দূরদর্শিতা এবং শান্তির মূল্য বোঝার ক্ষমতাও সমানভাবে জরুরি।