০৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

তাইওয়ানের মহাকাশে বড় উড়ান, নিজস্ব উপগ্রহ কর্মসূচিতে নতুন যুগের সূচনা

নিজস্ব প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং দীর্ঘদিনের গবেষণার ওপর ভর করে মহাকাশ খাতে নতুন অধ্যায় শুরু করেছে তাইওয়ান। দেশটির সর্বাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ সফলভাবে উচ্চমানের ছবি পাঠানোর পর মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একাধিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, নিজস্ব রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং দেশীয় রকেট তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা।

সফল ছবিতে বাড়ল আত্মবিশ্বাস

সাম্প্রতিক উপগ্রহ থেকে পৃথিবীর পৃষ্ঠের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাওয়ার পর বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সফল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে চলা গবেষণা, পরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফল হিসেবে এই সাফল্য এসেছে। এর আগে দেশটির একটি উপগ্রহের প্রথম দিকের ছবি ঝাপসা হওয়ায় বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নতুন উপগ্রহের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি হয়েছে। এতে আলোকচিত্র গ্রহণ ব্যবস্থা, সেন্সর, শক্তি ব্যবস্থাপনা, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে। ফলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

Inside Taiwan's most ambitious space mission yet - Nikkei Asia

মহাকাশে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা

তাইওয়ানের লক্ষ্য শুধু উপগ্রহ তৈরি নয়, পুরো মহাকাশ অবকাঠামো নিজেদের সক্ষমতার মধ্যে গড়ে তোলা। এজন্য আগামী বছরগুলোতে নিয়মিত উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, একটি দেশীয় উপগ্রহ নক্ষত্রমণ্ডল গঠন এবং নিজস্ব উৎক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশীয় রকেট তৈরির জন্য বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিজেদের তৈরি রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন গুরুত্ব

বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় মহাকাশ প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নিরাপদ যোগাযোগ, নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহের জন্য নিজস্ব উপগ্রহ ব্যবস্থাকে এখন কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই কারণে তাইওয়ান দিন-রাত এবং মেঘের আড়াল থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম নতুন ধরনের পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উপগ্রহ এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ চলছে।

সূক্ষ্ম প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য

Taiwan aims to war-proof its communications networks, with or without  outside help | South China Morning Post

উচ্চমানের ছবি পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে অত্যন্ত নিখুঁত অপটিক্যাল প্রযুক্তি। উপগ্রহের আয়না এবং চিত্রগ্রহণ ব্যবস্থা এমন সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সামান্য ত্রুটিও গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যৌথভাবে এই প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছে। মহাকাশের কঠিন পরিবেশে নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে—এমন সেন্সর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরিতেও তারা সফল হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে

তবে সাফল্যের পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে কক্ষপথ ও বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি পেতে তাইওয়ানকে এখনো বিদেশি অংশীদারের সহায়তা নিতে হয়।

অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে চীনের শক্তিশালী উপস্থিতিও বড় প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে তাইওয়ান ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সামনে আরও বড় লক্ষ্য

চলতি বছরই একই কর্মসূচির আওতায় আরেকটি নতুন উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে। আগে যেখানে একটি উপগ্রহের পর আরেকটি উৎক্ষেপণে দীর্ঘ সময় লাগত, এখন সেই ব্যবধান অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই শক্তিশালী হবে না, একই সঙ্গে উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাইওয়ান।

তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত নতুন উপগ্রহের সাফল্য দেশটির মহাকাশ কর্মসূচিকে নতুন গতি দিয়েছে। আগামী বছরগুলোতে আরও উপগ্রহ, রকেট ও উৎক্ষেপণ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

তাইওয়ানের মহাকাশে বড় উড়ান, নিজস্ব উপগ্রহ কর্মসূচিতে নতুন যুগের সূচনা

০২:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং দীর্ঘদিনের গবেষণার ওপর ভর করে মহাকাশ খাতে নতুন অধ্যায় শুরু করেছে তাইওয়ান। দেশটির সর্বাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ সফলভাবে উচ্চমানের ছবি পাঠানোর পর মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একাধিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, নিজস্ব রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং দেশীয় রকেট তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা।

সফল ছবিতে বাড়ল আত্মবিশ্বাস

সাম্প্রতিক উপগ্রহ থেকে পৃথিবীর পৃষ্ঠের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাওয়ার পর বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সফল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে চলা গবেষণা, পরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফল হিসেবে এই সাফল্য এসেছে। এর আগে দেশটির একটি উপগ্রহের প্রথম দিকের ছবি ঝাপসা হওয়ায় বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নতুন উপগ্রহের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি হয়েছে। এতে আলোকচিত্র গ্রহণ ব্যবস্থা, সেন্সর, শক্তি ব্যবস্থাপনা, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে। ফলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

Inside Taiwan's most ambitious space mission yet - Nikkei Asia

মহাকাশে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা

তাইওয়ানের লক্ষ্য শুধু উপগ্রহ তৈরি নয়, পুরো মহাকাশ অবকাঠামো নিজেদের সক্ষমতার মধ্যে গড়ে তোলা। এজন্য আগামী বছরগুলোতে নিয়মিত উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, একটি দেশীয় উপগ্রহ নক্ষত্রমণ্ডল গঠন এবং নিজস্ব উৎক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশীয় রকেট তৈরির জন্য বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিজেদের তৈরি রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন গুরুত্ব

বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় মহাকাশ প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নিরাপদ যোগাযোগ, নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহের জন্য নিজস্ব উপগ্রহ ব্যবস্থাকে এখন কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই কারণে তাইওয়ান দিন-রাত এবং মেঘের আড়াল থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম নতুন ধরনের পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উপগ্রহ এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ চলছে।

সূক্ষ্ম প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য

Taiwan aims to war-proof its communications networks, with or without  outside help | South China Morning Post

উচ্চমানের ছবি পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে অত্যন্ত নিখুঁত অপটিক্যাল প্রযুক্তি। উপগ্রহের আয়না এবং চিত্রগ্রহণ ব্যবস্থা এমন সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সামান্য ত্রুটিও গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যৌথভাবে এই প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছে। মহাকাশের কঠিন পরিবেশে নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে—এমন সেন্সর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরিতেও তারা সফল হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে

তবে সাফল্যের পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে কক্ষপথ ও বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি পেতে তাইওয়ানকে এখনো বিদেশি অংশীদারের সহায়তা নিতে হয়।

অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে চীনের শক্তিশালী উপস্থিতিও বড় প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে তাইওয়ান ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সামনে আরও বড় লক্ষ্য

চলতি বছরই একই কর্মসূচির আওতায় আরেকটি নতুন উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে। আগে যেখানে একটি উপগ্রহের পর আরেকটি উৎক্ষেপণে দীর্ঘ সময় লাগত, এখন সেই ব্যবধান অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই শক্তিশালী হবে না, একই সঙ্গে উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাইওয়ান।

তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত নতুন উপগ্রহের সাফল্য দেশটির মহাকাশ কর্মসূচিকে নতুন গতি দিয়েছে। আগামী বছরগুলোতে আরও উপগ্রহ, রকেট ও উৎক্ষেপণ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে।