১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

তেলের আসল দাম কোনটি: বাজারে বিভ্রান্তি, বাস্তবে সংকট আরও গভীর

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে যে তথ্য আমরা সাধারণত দেখি, তা অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির পুরো চিত্র তুলে ধরে না। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে কাগুজে দাম ও বাস্তব লেনদেনের দামের মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে।

কাগুজে দাম বনাম বাস্তব দাম

অনলাইনে বা সংবাদে যে তেলের দাম বেশি আলোচিত হয়, তা মূলত ভবিষ্যৎ বাজারের মূল্য। এই দাম নির্ধারিত হয় ভবিষ্যতে তেলের সম্ভাব্য চাহিদা ও সরবরাহের হিসাব ধরে। ফলে এটি অনেকটা শেয়ারবাজারের মতো আচরণ করে।

কিন্তু বাস্তবে যদি এখনই তেল কিনতে হয়, তখন যে দাম দিতে হয় তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১০৯ ডলার দেখানো হলেও, জাহাজে করে সরাসরি তেল কেনার বাজারে সেই দাম প্রায় ১৪৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ এবং যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

কেন বাড়ছে এই ব্যবধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ বাজার বর্তমান সংকটকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে পারছে না। বাস্তবে তেলের সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনেক বেশি গুরুতর।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধান কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ তেল আটকে পড়ে আছে।

The price of Oil continues to rise

বিশ্বজুড়ে প্রভাব

এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। এশিয়ার কিছু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি না থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, আর অনেক দেশ দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি হলেও সংকট কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমে গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। জাহাজ কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ফলে তেল সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্তমান বাজার

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তব বাজারের দামই প্রকৃত সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। ভবিষ্যৎ বাজারের দামের ওপর নির্ভর করলে এই সংকটের গভীরতা বোঝা সম্ভব নয়। তাদের মতে, বাজারের এই অস্বাভাবিক ব্যবধান সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

তেলের আসল দাম কোনটি: বাজারে বিভ্রান্তি, বাস্তবে সংকট আরও গভীর

০৬:১০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে যে তথ্য আমরা সাধারণত দেখি, তা অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির পুরো চিত্র তুলে ধরে না। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে কাগুজে দাম ও বাস্তব লেনদেনের দামের মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে।

কাগুজে দাম বনাম বাস্তব দাম

অনলাইনে বা সংবাদে যে তেলের দাম বেশি আলোচিত হয়, তা মূলত ভবিষ্যৎ বাজারের মূল্য। এই দাম নির্ধারিত হয় ভবিষ্যতে তেলের সম্ভাব্য চাহিদা ও সরবরাহের হিসাব ধরে। ফলে এটি অনেকটা শেয়ারবাজারের মতো আচরণ করে।

কিন্তু বাস্তবে যদি এখনই তেল কিনতে হয়, তখন যে দাম দিতে হয় তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১০৯ ডলার দেখানো হলেও, জাহাজে করে সরাসরি তেল কেনার বাজারে সেই দাম প্রায় ১৪৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ এবং যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

কেন বাড়ছে এই ব্যবধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ বাজার বর্তমান সংকটকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে পারছে না। বাস্তবে তেলের সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনেক বেশি গুরুতর।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধান কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ তেল আটকে পড়ে আছে।

The price of Oil continues to rise

বিশ্বজুড়ে প্রভাব

এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। এশিয়ার কিছু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি না থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, আর অনেক দেশ দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি হলেও সংকট কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমে গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। জাহাজ কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ফলে তেল সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্তমান বাজার

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তব বাজারের দামই প্রকৃত সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। ভবিষ্যৎ বাজারের দামের ওপর নির্ভর করলে এই সংকটের গভীরতা বোঝা সম্ভব নয়। তাদের মতে, বাজারের এই অস্বাভাবিক ব্যবধান সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়।