০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

তেলের দামে নয়, বাণিজ্যেই বড় লাভ: জ্বালানি সংকটে নতুন শক্তি হয়ে উঠছে ইউরোপের তেল কোম্পানিগুলো

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেই তেল কোম্পানিগুলোর আয়ের বড় উৎস হিসেবে সামনে আসে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস বিক্রি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি খাত আরও দ্রুত গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সেটি হলো জ্বালানি বাণিজ্য। ইউরোপের বড় তেল কোম্পানিগুলো এখন শুধু নিজেদের উৎপাদিত তেল বিক্রিই করছে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেল ও গ্যাস কিনে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন বাজারে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য কার্যক্রম এখন এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব উৎপাদনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি জ্বালানি কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে উৎপাদনের পাশাপাশি বাণিজ্য এখন তাদের লাভের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

মুনাফার নতুন সমীকরণ

সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা বেড়েছে। এই অস্থিরতাকেই দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছে বড় তেল কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য বিভাগ। বাজারের বিভিন্ন অঞ্চলের দামের পার্থক্য, সরবরাহের পরিবর্তন এবং চাহিদার গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত আয়।

This Oil Shock Is So Big It Is Fueling a Turnaround in Energy Stocks - WSJ

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চলতি বছরে শুধু এই বাণিজ্য কার্যক্রম থেকেই ইউরোপের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের মুনাফা করতে পারে। এর ফলে কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক আর্থিক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

কেন এগিয়ে ইউরোপ

ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। গত শতকের বিভিন্ন জ্বালানি সংকট তাদেরকে নিজেদের উৎপাদনের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল সংগ্রহ ও বিক্রির কৌশল শিখিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেই দক্ষতা আরও পরিণত হয়েছে।

একই সঙ্গে তাদের হাতে রয়েছে তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, সংরক্ষণাগার, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। ফলে কোন অঞ্চলে কখন চাহিদা বাড়ছে বা কোথায় সরবরাহ কমছে, সে সম্পর্কে তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত তথ্য পায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

দক্ষ জনবল ও দ্রুত সিদ্ধান্ত

এই ব্যবসার আরেকটি বড় শক্তি হলো বিশেষজ্ঞ ব্যবসায়ীদের দল। তারা প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করেন এবং প্রয়োজন হলে মুহূর্তের মধ্যে অবস্থান বদলে ফেলেন। বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এলেও দ্রুত কৌশল পরিবর্তনের কারণে ক্ষতি সীমিত রাখা এবং নতুন সুযোগ থেকে লাভ করার সক্ষমতাই তাদের বড় সুবিধা।

এ ধরনের বাণিজ্য পরিচালনার জন্য কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ মূলধনও ব্যবহার করে। প্রয়োজনে বড় আকারের পণ্য কিনে সংরক্ষণ কিংবা দূরবর্তী বাজারে সরবরাহের মতো সিদ্ধান্তও খুব অল্প সময়ে নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতা বাড়ছে

তবে এই খাতে প্রতিযোগিতাও দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন স্বাধীন জ্বালানি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোও এখন নিজেদের বাণিজ্য কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করছে। তারা নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করছে এবং দক্ষ ব্যবসায়ী নিয়োগ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এখনও তাদের এগিয়ে রাখলেও ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। ফলে বর্তমানের উচ্চ মুনাফা দীর্ঘ সময় একই মাত্রায় ধরে রাখা সহজ হবে না। তারপরও বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ুজনিত অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি শিল্পের নতুন বাস্তবতা

একসময় তেল কোম্পানির সাফল্য নির্ভর করত মূলত উৎপাদনের ওপর। এখন সেই চিত্র বদলেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, বাজার বোঝার সক্ষমতা এবং দ্রুত বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বড় তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্ধারণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে ভবিষ্যতের জ্বালানি শিল্পে উৎপাদনের পাশাপাশি বাণিজ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

তেলের দামে নয়, বাণিজ্যেই বড় লাভ: জ্বালানি সংকটে নতুন শক্তি হয়ে উঠছে ইউরোপের তেল কোম্পানিগুলো

১২:৫৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেই তেল কোম্পানিগুলোর আয়ের বড় উৎস হিসেবে সামনে আসে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস বিক্রি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি খাত আরও দ্রুত গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সেটি হলো জ্বালানি বাণিজ্য। ইউরোপের বড় তেল কোম্পানিগুলো এখন শুধু নিজেদের উৎপাদিত তেল বিক্রিই করছে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেল ও গ্যাস কিনে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন বাজারে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য কার্যক্রম এখন এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব উৎপাদনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি জ্বালানি কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে উৎপাদনের পাশাপাশি বাণিজ্য এখন তাদের লাভের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

মুনাফার নতুন সমীকরণ

সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা বেড়েছে। এই অস্থিরতাকেই দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছে বড় তেল কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য বিভাগ। বাজারের বিভিন্ন অঞ্চলের দামের পার্থক্য, সরবরাহের পরিবর্তন এবং চাহিদার গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত আয়।

This Oil Shock Is So Big It Is Fueling a Turnaround in Energy Stocks - WSJ

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চলতি বছরে শুধু এই বাণিজ্য কার্যক্রম থেকেই ইউরোপের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের মুনাফা করতে পারে। এর ফলে কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক আর্থিক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

কেন এগিয়ে ইউরোপ

ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। গত শতকের বিভিন্ন জ্বালানি সংকট তাদেরকে নিজেদের উৎপাদনের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল সংগ্রহ ও বিক্রির কৌশল শিখিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেই দক্ষতা আরও পরিণত হয়েছে।

একই সঙ্গে তাদের হাতে রয়েছে তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, সংরক্ষণাগার, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। ফলে কোন অঞ্চলে কখন চাহিদা বাড়ছে বা কোথায় সরবরাহ কমছে, সে সম্পর্কে তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত তথ্য পায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

দক্ষ জনবল ও দ্রুত সিদ্ধান্ত

এই ব্যবসার আরেকটি বড় শক্তি হলো বিশেষজ্ঞ ব্যবসায়ীদের দল। তারা প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করেন এবং প্রয়োজন হলে মুহূর্তের মধ্যে অবস্থান বদলে ফেলেন। বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এলেও দ্রুত কৌশল পরিবর্তনের কারণে ক্ষতি সীমিত রাখা এবং নতুন সুযোগ থেকে লাভ করার সক্ষমতাই তাদের বড় সুবিধা।

এ ধরনের বাণিজ্য পরিচালনার জন্য কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ মূলধনও ব্যবহার করে। প্রয়োজনে বড় আকারের পণ্য কিনে সংরক্ষণ কিংবা দূরবর্তী বাজারে সরবরাহের মতো সিদ্ধান্তও খুব অল্প সময়ে নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতা বাড়ছে

তবে এই খাতে প্রতিযোগিতাও দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন স্বাধীন জ্বালানি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোও এখন নিজেদের বাণিজ্য কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করছে। তারা নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করছে এবং দক্ষ ব্যবসায়ী নিয়োগ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এখনও তাদের এগিয়ে রাখলেও ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। ফলে বর্তমানের উচ্চ মুনাফা দীর্ঘ সময় একই মাত্রায় ধরে রাখা সহজ হবে না। তারপরও বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ুজনিত অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি শিল্পের নতুন বাস্তবতা

একসময় তেল কোম্পানির সাফল্য নির্ভর করত মূলত উৎপাদনের ওপর। এখন সেই চিত্র বদলেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, বাজার বোঝার সক্ষমতা এবং দ্রুত বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বড় তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্ধারণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে ভবিষ্যতের জ্বালানি শিল্পে উৎপাদনের পাশাপাশি বাণিজ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।