০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

তেহরানে হিজাব শিথিলতার আভাস, বাস্তবে নারীর স্বাধীনতায় বড় পরিবর্তন নেই

ইরানের রাজধানী তেহরানে সাম্প্রতিক সময়ে মাথা খোলা অবস্থায় নারীদের ক্যাফেতে বসে থাকা বা রাস্তায় হাঁটার দৃশ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও বাস্তবতা এতটা সহজ নয়। শহরের ভেতরে কিছুটা শিথিলতা দেখা গেলেও নারীর মৌলিক অধিকার বা স্বাধীনতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেই মনে করছেন অনেকে।

হিজাব আইন ও বাস্তবতা

ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানে নারীদের জন্য প্রকাশ্যে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘদিন ধরে এটি রাষ্ট্রীয় নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বজায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে প্রতিবাদ আন্দোলনের পর, কিছু এলাকায় এর প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে শিথিল হয়েছে। তেহরানসহ কয়েকটি শহরে এখন একই রাস্তায় হিজাব পরা ও না-পরা নারীদের একসঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা যায়।

Iran women protest mandatory hijabs by going without - CSMonitor.com

প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের সূত্র

হিজাব আইন শিথিল হওয়ার এই প্রবণতা মূলত কয়েকটি বড় ঘটনার পর থেকে দৃশ্যমান হয়। এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীর অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতিও প্রশাসনের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়, যার ফলে আইন প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়।

তবে এই পরিবর্তন স্থায়ী বা নিশ্চিত নয় বলেই মনে করছেন অনেক নারী। তাদের মতে, এটি কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ফল নয়, বরং সাময়িক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া একটি বাস্তবতা।

দৈনন্দিন জীবনে সীমাবদ্ধতা

বাস্তবে এখনও অনেক জায়গায় হিজাব ছাড়া প্রবেশ করা কঠিন। ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি অফিসে প্রবেশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে নারীদের হিজাব পরতেই হয়। আবার ক্যাফে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়ম না মানলে জরিমানা বা বন্ধের মুখে পড়তে হয়।

কিছু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, নিয়ম শিথিল হলেও তাদের ওপর চাপ কমেনি। বরং নিয়ম প্রয়োগের দায়িত্ব তাদের ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

Interview: Taking Walks Without Wearing Hijab in Iran | Human Rights Watch

মানবাধিকার পরিস্থিতি

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, আগের তুলনায় সরাসরি গ্রেপ্তার বা সহিংসতা কিছুটা কমলেও আইনগত চাপ এখনও বহাল রয়েছে। কর্মক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে হিজাব বাধ্যতামূলক থাকায় নারীরা নানা ধরনের হয়রানি, জরিমানা বা শাস্তির মুখে পড়ছেন।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

শহরভেদে ভিন্ন বাস্তবতা

তেহরানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও দেশের সব জায়গায় একই পরিস্থিতি নেই। রক্ষণশীল শহরগুলোতে এখনও নিয়ম কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সামাজিক চাপও প্রবল, যেখানে সাধারণ মানুষই নিয়ম ভাঙলে সতর্ক করে বা হয়রানি করে।

অনেক নারী মনে করছেন, এই পরিবর্তন আসলে স্থায়ী নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রশাসন আবার কঠোর অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।

These women are defying Iran's hijab laws — despite fear of reprisal | CBC  News

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই এক ধরনের অস্থায়ী বিরতি হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ফল, আবার অন্যরা মনে করছেন, এটি কেবল সাময়িক ঢিলেঢালা অবস্থা।

সব মিলিয়ে তেহরানের রাস্তায় দৃশ্যমান পরিবর্তন থাকলেও নারীর স্বাধীনতা ও অধিকার নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি এখনও অধরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

তেহরানে হিজাব শিথিলতার আভাস, বাস্তবে নারীর স্বাধীনতায় বড় পরিবর্তন নেই

০৩:৫০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের রাজধানী তেহরানে সাম্প্রতিক সময়ে মাথা খোলা অবস্থায় নারীদের ক্যাফেতে বসে থাকা বা রাস্তায় হাঁটার দৃশ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও বাস্তবতা এতটা সহজ নয়। শহরের ভেতরে কিছুটা শিথিলতা দেখা গেলেও নারীর মৌলিক অধিকার বা স্বাধীনতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেই মনে করছেন অনেকে।

হিজাব আইন ও বাস্তবতা

ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানে নারীদের জন্য প্রকাশ্যে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘদিন ধরে এটি রাষ্ট্রীয় নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বজায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে প্রতিবাদ আন্দোলনের পর, কিছু এলাকায় এর প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে শিথিল হয়েছে। তেহরানসহ কয়েকটি শহরে এখন একই রাস্তায় হিজাব পরা ও না-পরা নারীদের একসঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা যায়।

Iran women protest mandatory hijabs by going without - CSMonitor.com

প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের সূত্র

হিজাব আইন শিথিল হওয়ার এই প্রবণতা মূলত কয়েকটি বড় ঘটনার পর থেকে দৃশ্যমান হয়। এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীর অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতিও প্রশাসনের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়, যার ফলে আইন প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়।

তবে এই পরিবর্তন স্থায়ী বা নিশ্চিত নয় বলেই মনে করছেন অনেক নারী। তাদের মতে, এটি কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ফল নয়, বরং সাময়িক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া একটি বাস্তবতা।

দৈনন্দিন জীবনে সীমাবদ্ধতা

বাস্তবে এখনও অনেক জায়গায় হিজাব ছাড়া প্রবেশ করা কঠিন। ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি অফিসে প্রবেশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে নারীদের হিজাব পরতেই হয়। আবার ক্যাফে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়ম না মানলে জরিমানা বা বন্ধের মুখে পড়তে হয়।

কিছু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, নিয়ম শিথিল হলেও তাদের ওপর চাপ কমেনি। বরং নিয়ম প্রয়োগের দায়িত্ব তাদের ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

Interview: Taking Walks Without Wearing Hijab in Iran | Human Rights Watch

মানবাধিকার পরিস্থিতি

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, আগের তুলনায় সরাসরি গ্রেপ্তার বা সহিংসতা কিছুটা কমলেও আইনগত চাপ এখনও বহাল রয়েছে। কর্মক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে হিজাব বাধ্যতামূলক থাকায় নারীরা নানা ধরনের হয়রানি, জরিমানা বা শাস্তির মুখে পড়ছেন।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

শহরভেদে ভিন্ন বাস্তবতা

তেহরানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও দেশের সব জায়গায় একই পরিস্থিতি নেই। রক্ষণশীল শহরগুলোতে এখনও নিয়ম কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সামাজিক চাপও প্রবল, যেখানে সাধারণ মানুষই নিয়ম ভাঙলে সতর্ক করে বা হয়রানি করে।

অনেক নারী মনে করছেন, এই পরিবর্তন আসলে স্থায়ী নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রশাসন আবার কঠোর অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।

These women are defying Iran's hijab laws — despite fear of reprisal | CBC  News

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই এক ধরনের অস্থায়ী বিরতি হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ফল, আবার অন্যরা মনে করছেন, এটি কেবল সাময়িক ঢিলেঢালা অবস্থা।

সব মিলিয়ে তেহরানের রাস্তায় দৃশ্যমান পরিবর্তন থাকলেও নারীর স্বাধীনতা ও অধিকার নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি এখনও অধরা।