০২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

দক্ষিণ কোরিয়ায় তরুণদের নতুন আশ্রয় বৌদ্ধধর্ম, ধ্যান আর আত্মশান্তির খোঁজে বাড়ছে আগ্রহ

দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের মধ্যে বৌদ্ধধর্মকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কঠিন প্রতিযোগিতা, মানসিক চাপ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়া অনেক তরুণ এখন ধ্যান, আত্মউপলব্ধি ও মানসিক শান্তির জন্য বৌদ্ধধর্মের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের উপস্থাপনাও বদলাচ্ছে দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু শহরে অনুষ্ঠিত একটি বৌদ্ধ সংস্কৃতি প্রদর্শনীতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে প্রদর্শিত মানবসদৃশ একটি রোবট ভিক্ষু বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। আগে যেখানে এমন আয়োজন মূলত ধর্মীয় অনুসারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেখানে সাধারণ দর্শনার্থী ও তরুণদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির সন্ধান

দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের অনেকেই মনে করেন, বর্তমান জীবনে প্রতিযোগিতা ও চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক প্রত্যাশার ভার তাদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে।

এই বাস্তবতায় বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা অনেকের কাছে সান্ত্বনার উৎস হয়ে উঠেছে। জীবনের দুঃখকে স্বাভাবিক সত্য হিসেবে মেনে নিয়ে আত্মশক্তি ও মানসিক স্থিতি অর্জনের যে দর্শন বৌদ্ধধর্ম তুলে ধরে, তা তরুণদের কাছে নতুন অর্থে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় হচ্ছে ধ্যান ও মননচর্চা

আত্মসচেতনতা, ধ্যান এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে লেখা বইয়ের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। মন্দিরে রাতযাপনের কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানসিক প্রশান্তির অনুসন্ধানই এখন অনেকের প্রধান উদ্দেশ্য।

সমীক্ষাগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের কাছেও বৌদ্ধধর্ম দক্ষিণ কোরিয়ায় সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা ধর্মগুলোর একটি।

How To Deal With Suffering In Your Life - Buddha (Buddhism)

কমছে ভিক্ষু, বাড়ছে উদ্বেগ

তবে এই নতুন আগ্রহের মধ্যেও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নিয়মিত ধর্মচর্চাকারীর সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই কমছে। নতুন ভিক্ষু হওয়ার প্রবণতাও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে টিকে থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশটির বৌদ্ধ নেতারা তরুণদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন পথ খুঁজছেন।

বদলে যাচ্ছে ধর্মীয় আয়োজন

নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠন এখন ধ্যান উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গানভিত্তিক আয়োজন এমনকি অবিবাহিতদের পরিচয়পর্বের মতো কর্মসূচিও চালু করেছে।

অনেকের মতে, এগুলো কেবল প্রচারণার কৌশল নয়; বরং বৌদ্ধধর্মের দীর্ঘদিনের উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতিরই আধুনিক প্রকাশ। তবে অন্যদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত আধুনিকীকরণের ফলে ধর্মের মূল দর্শন আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

আধ্যাত্মিকতা থেকে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে

বৌদ্ধধর্ম থেকে অনুপ্রাণিত নানা পণ্য, স্মারক এবং সৃজনশীল উপস্থাপনাও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা বৌদ্ধ ভাবনা ও প্রতীক ব্যবহার করে নতুন ধরনের পণ্য তৈরি করছেন, যা ধর্মীয় অনুশীলনের বাইরেও মানুষের আগ্রহ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন হয়তো সবাইকে গভীর আধ্যাত্মিকতার পথে নিয়ে যাবে না। তবে ব্যস্ত ও চাপে থাকা মানুষের জীবনে কিছুটা মানসিক স্বস্তি এবং ইতিবাচকতা এনে দিচ্ছে, যা বর্তমান সময়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

দক্ষিণ কোরিয়ায় তরুণদের নতুন আশ্রয় বৌদ্ধধর্ম, ধ্যান আর আত্মশান্তির খোঁজে বাড়ছে আগ্রহ

০৬:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের মধ্যে বৌদ্ধধর্মকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কঠিন প্রতিযোগিতা, মানসিক চাপ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়া অনেক তরুণ এখন ধ্যান, আত্মউপলব্ধি ও মানসিক শান্তির জন্য বৌদ্ধধর্মের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের উপস্থাপনাও বদলাচ্ছে দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু শহরে অনুষ্ঠিত একটি বৌদ্ধ সংস্কৃতি প্রদর্শনীতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে প্রদর্শিত মানবসদৃশ একটি রোবট ভিক্ষু বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। আগে যেখানে এমন আয়োজন মূলত ধর্মীয় অনুসারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেখানে সাধারণ দর্শনার্থী ও তরুণদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির সন্ধান

দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের অনেকেই মনে করেন, বর্তমান জীবনে প্রতিযোগিতা ও চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক প্রত্যাশার ভার তাদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে।

এই বাস্তবতায় বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা অনেকের কাছে সান্ত্বনার উৎস হয়ে উঠেছে। জীবনের দুঃখকে স্বাভাবিক সত্য হিসেবে মেনে নিয়ে আত্মশক্তি ও মানসিক স্থিতি অর্জনের যে দর্শন বৌদ্ধধর্ম তুলে ধরে, তা তরুণদের কাছে নতুন অর্থে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় হচ্ছে ধ্যান ও মননচর্চা

আত্মসচেতনতা, ধ্যান এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে লেখা বইয়ের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। মন্দিরে রাতযাপনের কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানসিক প্রশান্তির অনুসন্ধানই এখন অনেকের প্রধান উদ্দেশ্য।

সমীক্ষাগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের কাছেও বৌদ্ধধর্ম দক্ষিণ কোরিয়ায় সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা ধর্মগুলোর একটি।

How To Deal With Suffering In Your Life - Buddha (Buddhism)

কমছে ভিক্ষু, বাড়ছে উদ্বেগ

তবে এই নতুন আগ্রহের মধ্যেও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নিয়মিত ধর্মচর্চাকারীর সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই কমছে। নতুন ভিক্ষু হওয়ার প্রবণতাও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে টিকে থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশটির বৌদ্ধ নেতারা তরুণদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন পথ খুঁজছেন।

বদলে যাচ্ছে ধর্মীয় আয়োজন

নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠন এখন ধ্যান উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গানভিত্তিক আয়োজন এমনকি অবিবাহিতদের পরিচয়পর্বের মতো কর্মসূচিও চালু করেছে।

অনেকের মতে, এগুলো কেবল প্রচারণার কৌশল নয়; বরং বৌদ্ধধর্মের দীর্ঘদিনের উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতিরই আধুনিক প্রকাশ। তবে অন্যদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত আধুনিকীকরণের ফলে ধর্মের মূল দর্শন আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

আধ্যাত্মিকতা থেকে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে

বৌদ্ধধর্ম থেকে অনুপ্রাণিত নানা পণ্য, স্মারক এবং সৃজনশীল উপস্থাপনাও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা বৌদ্ধ ভাবনা ও প্রতীক ব্যবহার করে নতুন ধরনের পণ্য তৈরি করছেন, যা ধর্মীয় অনুশীলনের বাইরেও মানুষের আগ্রহ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন হয়তো সবাইকে গভীর আধ্যাত্মিকতার পথে নিয়ে যাবে না। তবে ব্যস্ত ও চাপে থাকা মানুষের জীবনে কিছুটা মানসিক স্বস্তি এবং ইতিবাচকতা এনে দিচ্ছে, যা বর্তমান সময়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।