০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

দিল্লিতে এলপিজি সংকটের আশঙ্কা: গ্যাস ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা শুরু

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • 86

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি অনুভূত হতে শুরু করেছে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্যাস ব্যবহারে নিয়ম-কানুন কঠোর করা, মজুতদারি বন্ধ করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস ব্যবহারে নতুন নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা

দিল্লির প্রধান সচিব রাজীব বর্মা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে দ্রুত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। লক্ষ্য হলো শহরের বিভিন্ন খাতে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের ব্যবহার সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা। কোন খাতে কতটা গ্যাস প্রয়োজন এবং কোন খাতে কীভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে—সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। প্রশাসনের ধারণা, অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে এই পরিকল্পনার মাধ্যমেই তা সঠিকভাবে বণ্টন করা সম্ভব হবে।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সরবরাহে ধাক্কা

উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দিল্লির জ্বালানি বাজারে। রাজধানীর কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই কমে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

গ্যাস সিলিন্ডার মজুতদারি এবং কালোবাজারি ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। গুদাম, সরবরাহ কেন্দ্র এবং বুকিং ব্যবস্থার ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় তদারকির পাশাপাশি হঠাৎ পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার অবৈধভাবে মজুত বা পাচারের চেষ্টা ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

গুদাম এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা

গ্যাস সংকটের সম্ভাবনার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন গুদাম ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে দিনরাত নজরদারি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া গুজব বা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রতিদিন জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারি তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি না হয়।

পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ

যেসব এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ রয়েছে, সেখানে সেই সংযোগ ব্যবহারে নাগরিকদের উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। এতে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় জ্বালানি বাজারে দ্রুত অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

দিল্লিতে এলপিজি সংকটের আশঙ্কা: গ্যাস ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা শুরু

০৫:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি অনুভূত হতে শুরু করেছে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্যাস ব্যবহারে নিয়ম-কানুন কঠোর করা, মজুতদারি বন্ধ করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস ব্যবহারে নতুন নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা

দিল্লির প্রধান সচিব রাজীব বর্মা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে দ্রুত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। লক্ষ্য হলো শহরের বিভিন্ন খাতে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের ব্যবহার সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা। কোন খাতে কতটা গ্যাস প্রয়োজন এবং কোন খাতে কীভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে—সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। প্রশাসনের ধারণা, অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে এই পরিকল্পনার মাধ্যমেই তা সঠিকভাবে বণ্টন করা সম্ভব হবে।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সরবরাহে ধাক্কা

উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দিল্লির জ্বালানি বাজারে। রাজধানীর কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই কমে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

গ্যাস সিলিন্ডার মজুতদারি এবং কালোবাজারি ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। গুদাম, সরবরাহ কেন্দ্র এবং বুকিং ব্যবস্থার ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় তদারকির পাশাপাশি হঠাৎ পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার অবৈধভাবে মজুত বা পাচারের চেষ্টা ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

গুদাম এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা

গ্যাস সংকটের সম্ভাবনার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন গুদাম ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে দিনরাত নজরদারি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া গুজব বা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রতিদিন জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারি তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি না হয়।

পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ

যেসব এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ রয়েছে, সেখানে সেই সংযোগ ব্যবহারে নাগরিকদের উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। এতে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় জ্বালানি বাজারে দ্রুত অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।