০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বানরের উৎপত্তির ধারণা

আধুনিক বানর ও মানুষের উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সাম্প্রতিক এক জীবাশ্ম আবিষ্কার। গবেষকেরা বলছেন, মিশরের দক্ষিণ-পশ্চিম সিনাই অঞ্চলে পাওয়া একটি প্রাচীন বানরের চোয়ালের অংশ তাদের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

নতুন প্রজাতির সন্ধান
গবেষণায় পাওয়া এই জীবাশ্মটি একটি নতুন গণ ও প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাসরিপিথেকাস মোগ্রাহেনসিস’। এটি আবিষ্কৃত হয় ওয়াদি মাগারা এলাকায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই জীবাশ্মের বয়স প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ বছর, যা প্রাচীন মায়োসিন যুগের অন্তর্গত।

তবে আবিষ্কৃত অংশ সম্পূর্ণ নয়। এতে কেবল কয়েকটি চোয়ালের খণ্ড ও ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত পাওয়া গেছে। তবুও গবেষকেরা বলছেন, এই সীমিত তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ নতুন দিক নির্দেশ করছে।

প্রচলিত ধারণার চ্যালেঞ্জ
এতদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, বানরের উৎপত্তি পূর্ব আফ্রিকায়, সেখান থেকেই তারা ধীরে ধীরে ইউরোপ ও এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নতুন এই জীবাশ্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাদের উৎপত্তি সম্ভবত আরও উত্তরের অঞ্চলে, অর্থাৎ উত্তর আফ্রিকার কাছাকাছি হতে পারে।

গবেষণার অন্যতম লেখক জানান, এই অঞ্চলে এমন জীবাশ্ম পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কিছুটা বিস্ময়করও। এটি দেখায় যে, বানরের বিবর্তন নিয়ে আমাদের ধারণা এখনো অসম্পূর্ণ।

Orangutan

বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল
গবেষকেরা এই নতুন প্রজাতির অবস্থান নির্ধারণ করতে জীবাশ্মের গঠন, বয়স এবং বর্তমান জীবিত বানরদের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, এই প্রজাতিটি সেই সময়ের কাছাকাছি অবস্থান করেছিল, যখন বৃহৎ বানর ও ছোট বানরদের মধ্যে বিবর্তনীয় বিভাজন ঘটছিল।

এর মানে, এই প্রজাতি হয়তো আধুনিক বানরদের শেষ সাধারণ পূর্বপুরুষের খুব কাছাকাছি ছিল এবং একই অঞ্চলে বসবাস করত।

বিতর্ক ও সংশয়
তবে সব গবেষক এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। কিছু বিশেষজ্ঞ এই ফলাফলকে কিছুটা বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন। তাদের মতে, আরও সম্পূর্ণ জীবাশ্ম না পাওয়া পর্যন্ত এ ধরনের বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

তবুও গবেষকেরা বলছেন, স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবাশ্ম বিশ্লেষণে দাঁতের গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্যাভ্যাস ও বিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি নির্ভরযোগ্য উপাদান।

নতুন প্রশ্নের জন্ম
এই আবিষ্কার নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—আসলে বানরের উৎপত্তি কোথায়? পূর্ব আফ্রিকা, নাকি উত্তর আফ্রিকার কোনো অঞ্চল? গবেষকেরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও জীবাশ্ম আবিষ্কার হলে এই প্রশ্নের উত্তর আরও পরিষ্কার হবে।

এই গবেষণা দেখিয়ে দিচ্ছে, পৃথিবীর প্রাণীজগতের ইতিহাস এখনো অনেকটাই অজানা। প্রতিটি নতুন আবিষ্কার সেই অজানা অধ্যায়কে একটু একটু করে উন্মোচন করছে।

নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বানরের উৎপত্তি নিয়ে প্রচলিত ধারণা প্রশ্নের মুখে, উত্তর আফ্রিকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বানরের উৎপত্তির ধারণা

১১:০০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আধুনিক বানর ও মানুষের উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সাম্প্রতিক এক জীবাশ্ম আবিষ্কার। গবেষকেরা বলছেন, মিশরের দক্ষিণ-পশ্চিম সিনাই অঞ্চলে পাওয়া একটি প্রাচীন বানরের চোয়ালের অংশ তাদের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

নতুন প্রজাতির সন্ধান
গবেষণায় পাওয়া এই জীবাশ্মটি একটি নতুন গণ ও প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাসরিপিথেকাস মোগ্রাহেনসিস’। এটি আবিষ্কৃত হয় ওয়াদি মাগারা এলাকায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই জীবাশ্মের বয়স প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ বছর, যা প্রাচীন মায়োসিন যুগের অন্তর্গত।

তবে আবিষ্কৃত অংশ সম্পূর্ণ নয়। এতে কেবল কয়েকটি চোয়ালের খণ্ড ও ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত পাওয়া গেছে। তবুও গবেষকেরা বলছেন, এই সীমিত তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ নতুন দিক নির্দেশ করছে।

প্রচলিত ধারণার চ্যালেঞ্জ
এতদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, বানরের উৎপত্তি পূর্ব আফ্রিকায়, সেখান থেকেই তারা ধীরে ধীরে ইউরোপ ও এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নতুন এই জীবাশ্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাদের উৎপত্তি সম্ভবত আরও উত্তরের অঞ্চলে, অর্থাৎ উত্তর আফ্রিকার কাছাকাছি হতে পারে।

গবেষণার অন্যতম লেখক জানান, এই অঞ্চলে এমন জীবাশ্ম পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কিছুটা বিস্ময়করও। এটি দেখায় যে, বানরের বিবর্তন নিয়ে আমাদের ধারণা এখনো অসম্পূর্ণ।

Orangutan

বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল
গবেষকেরা এই নতুন প্রজাতির অবস্থান নির্ধারণ করতে জীবাশ্মের গঠন, বয়স এবং বর্তমান জীবিত বানরদের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, এই প্রজাতিটি সেই সময়ের কাছাকাছি অবস্থান করেছিল, যখন বৃহৎ বানর ও ছোট বানরদের মধ্যে বিবর্তনীয় বিভাজন ঘটছিল।

এর মানে, এই প্রজাতি হয়তো আধুনিক বানরদের শেষ সাধারণ পূর্বপুরুষের খুব কাছাকাছি ছিল এবং একই অঞ্চলে বসবাস করত।

বিতর্ক ও সংশয়
তবে সব গবেষক এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। কিছু বিশেষজ্ঞ এই ফলাফলকে কিছুটা বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন। তাদের মতে, আরও সম্পূর্ণ জীবাশ্ম না পাওয়া পর্যন্ত এ ধরনের বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

তবুও গবেষকেরা বলছেন, স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবাশ্ম বিশ্লেষণে দাঁতের গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্যাভ্যাস ও বিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি নির্ভরযোগ্য উপাদান।

নতুন প্রশ্নের জন্ম
এই আবিষ্কার নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—আসলে বানরের উৎপত্তি কোথায়? পূর্ব আফ্রিকা, নাকি উত্তর আফ্রিকার কোনো অঞ্চল? গবেষকেরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও জীবাশ্ম আবিষ্কার হলে এই প্রশ্নের উত্তর আরও পরিষ্কার হবে।

এই গবেষণা দেখিয়ে দিচ্ছে, পৃথিবীর প্রাণীজগতের ইতিহাস এখনো অনেকটাই অজানা। প্রতিটি নতুন আবিষ্কার সেই অজানা অধ্যায়কে একটু একটু করে উন্মোচন করছে।

নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বানরের উৎপত্তি নিয়ে প্রচলিত ধারণা প্রশ্নের মুখে, উত্তর আফ্রিকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু।