০৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

নতুন পরামর্শে সংশোধন হবে প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক দায়িত্ব শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং এটি সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পথে: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গত চার মাসে সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি ও উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সম্প্রতি গঠিত প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন এবং তিনি নিজে এর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তদারকি করবে।

অধিকার বাস্তবায়নে ঘাটতি

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন, আইন ও সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিফিকেশন, ডিসঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন বিভাগের লিড জাহিদুল কবির। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে। ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন হলেও এর অনেক বিধান এখনও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনায় ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত। পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার ঘাটতি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারার সমাজে অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির দাবি

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সামাজিক মনোভাব, পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে স্থান দিতে হবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিবন্ধিতা-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন, এর বাস্তবায়ন জোরদার এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।

সংলাপে ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স ও টেকনোলজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর অরিন্দম ধরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির প্রোগ্রাম হেড মাসুমা বিল্লাহ।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

নতুন পরামর্শে সংশোধন হবে প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত

০৫:০৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক দায়িত্ব শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং এটি সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পথে: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গত চার মাসে সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি ও উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সম্প্রতি গঠিত প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন এবং তিনি নিজে এর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তদারকি করবে।

অধিকার বাস্তবায়নে ঘাটতি

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন, আইন ও সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিফিকেশন, ডিসঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন বিভাগের লিড জাহিদুল কবির। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে। ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন হলেও এর অনেক বিধান এখনও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনায় ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত। পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার ঘাটতি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারার সমাজে অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির দাবি

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সামাজিক মনোভাব, পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে স্থান দিতে হবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিবন্ধিতা-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন, এর বাস্তবায়ন জোরদার এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।

সংলাপে ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স ও টেকনোলজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর অরিন্দম ধরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির প্রোগ্রাম হেড মাসুমা বিল্লাহ।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত।