০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা

মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে নাসার নতুন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছে। অন্ধকার পদার্থ, অন্ধকার শক্তি এবং সৌরজগতের বাইরের সম্ভাব্য গ্রহের সন্ধানে এই টেলিস্কোপ আগামী দিনে জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে নতুন ঠিকানা

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯এ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে রোমান টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের প্রায় ৩১ মিনিট পর এটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায়।

এরপর মহাকাশযানটি প্রায় তিন মাসের যাত্রায় সূর্য-পৃথিবীর দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ বিন্দুর দিকে এগিয়ে যাবে। পৃথিবী থেকে এই অঞ্চলটির দূরত্ব প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার।

উৎক্ষেপণের মাত্র সাত মিনিট পরই মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে টেলিস্কোপটির তথ্য পৌঁছাতে শুরু করে। অন্যদিকে রকেটের বুস্টারগুলো উৎক্ষেপণস্থলে ফিরে আসে, যাতে সেগুলো পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা যায়।

হাবলের চেয়ে হাজার গুণ দ্রুত মহাবিশ্ব জরিপ

গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রোমান টেলিস্কোপ তার অত্যন্ত বিস্তৃত দৃষ্টিক্ষেত্র এবং অবলোহিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করবে। এর ৩০ কোটি পিক্সেলের প্রশস্ত ক্ষেত্রের যন্ত্রটি হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় এক হাজার গুণ দ্রুত মহাবিশ্বের বিশাল অঞ্চল জরিপ করতে পারবে।

প্রতিদিন এই পর্যবেক্ষণ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৪ টেরাবাইট তথ্য তৈরি হতে পারে। এত বিপুল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের গঠন, বিবর্তন এবং এর অদৃশ্য উপাদান সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়ার আশা করছেন।

নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্স রোমানকে ‘আবিষ্কারের যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধানেও প্রযুক্তির পরীক্ষা

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ শুরু করার আগে প্রকৌশলীরা কয়েক মাস ধরে টেলিস্কোপ এবং এর বিভিন্ন যন্ত্রের মান যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ করবেন। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হলো করোনাগ্রাফ, যা ভবিষ্যতে পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধানের প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করবে।

এই যন্ত্রের মাধ্যমে কোনো নক্ষত্রের তীব্র আলো আড়াল করে তার চারপাশে থাকা তুলনামূলক ক্ষীণ গ্রহ শনাক্ত করার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে।

মহাবিশ্ব সম্পর্কে বদলে যেতে পারে মানুষের প্রশ্ন

রোমান টেলিস্কোপের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো এমন কিছু আবিষ্কার করা, যার কথা বিজ্ঞানীরা এখনো কল্পনাও করেননি। আগের অনেক মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তুলনায় এটি আকাশের আরও বিস্তৃত অঞ্চল এবং আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

ফলে এই টেলিস্কোপ শুধু মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারণাই বদলাবে না, ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন, সেটিও নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে।

রোমানের প্রথম ছবি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা

০৪:০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে নাসার নতুন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছে। অন্ধকার পদার্থ, অন্ধকার শক্তি এবং সৌরজগতের বাইরের সম্ভাব্য গ্রহের সন্ধানে এই টেলিস্কোপ আগামী দিনে জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে নতুন ঠিকানা

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯এ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে রোমান টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের প্রায় ৩১ মিনিট পর এটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায়।

এরপর মহাকাশযানটি প্রায় তিন মাসের যাত্রায় সূর্য-পৃথিবীর দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ বিন্দুর দিকে এগিয়ে যাবে। পৃথিবী থেকে এই অঞ্চলটির দূরত্ব প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার।

উৎক্ষেপণের মাত্র সাত মিনিট পরই মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে টেলিস্কোপটির তথ্য পৌঁছাতে শুরু করে। অন্যদিকে রকেটের বুস্টারগুলো উৎক্ষেপণস্থলে ফিরে আসে, যাতে সেগুলো পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা যায়।

হাবলের চেয়ে হাজার গুণ দ্রুত মহাবিশ্ব জরিপ

গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রোমান টেলিস্কোপ তার অত্যন্ত বিস্তৃত দৃষ্টিক্ষেত্র এবং অবলোহিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করবে। এর ৩০ কোটি পিক্সেলের প্রশস্ত ক্ষেত্রের যন্ত্রটি হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় এক হাজার গুণ দ্রুত মহাবিশ্বের বিশাল অঞ্চল জরিপ করতে পারবে।

প্রতিদিন এই পর্যবেক্ষণ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৪ টেরাবাইট তথ্য তৈরি হতে পারে। এত বিপুল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের গঠন, বিবর্তন এবং এর অদৃশ্য উপাদান সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়ার আশা করছেন।

নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্স রোমানকে ‘আবিষ্কারের যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধানেও প্রযুক্তির পরীক্ষা

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ শুরু করার আগে প্রকৌশলীরা কয়েক মাস ধরে টেলিস্কোপ এবং এর বিভিন্ন যন্ত্রের মান যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ করবেন। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হলো করোনাগ্রাফ, যা ভবিষ্যতে পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধানের প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করবে।

এই যন্ত্রের মাধ্যমে কোনো নক্ষত্রের তীব্র আলো আড়াল করে তার চারপাশে থাকা তুলনামূলক ক্ষীণ গ্রহ শনাক্ত করার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে।

মহাবিশ্ব সম্পর্কে বদলে যেতে পারে মানুষের প্রশ্ন

রোমান টেলিস্কোপের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো এমন কিছু আবিষ্কার করা, যার কথা বিজ্ঞানীরা এখনো কল্পনাও করেননি। আগের অনেক মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তুলনায় এটি আকাশের আরও বিস্তৃত অঞ্চল এবং আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

ফলে এই টেলিস্কোপ শুধু মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারণাই বদলাবে না, ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন, সেটিও নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে।

রোমানের প্রথম ছবি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।