১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই

নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধূসর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আট দিন পরও সেখানে স্বাভাবিক জীবনের কোনো চিহ্ন প্রায় নেই। ধ্বংসপ্রাপ্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আটকে থাকা শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে এখনও চলছে কঠিন অভিযান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার আকাশপথে ত্রিশূলী নদীর উপত্যকার একটি অংশের চিত্র ধারণ করেন রয়টার্সের আলোকচিত্রী নাভেশ চিত্রকার। ওপর থেকে দেখা পুরো এলাকা যেন এক বিশাল ধূসর মরুভূমি। কোথাও মাটি কংক্রিটের মতো শক্ত হয়ে গেছে, আবার কোথাও তা পরিণত হয়েছে পিচ্ছিল কাদামাটির স্তূপে। বিস্তীর্ণ এলাকায় কোনো বসতিও চোখে পড়েনি।

উদ্ধারে বড় বাধা ধসে পড়া পাথর

রাশুয়া এলাকায় আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি টানেলের মুখে উদ্ধারকারীদের বড় বড় পাথর সরাতে দেখা যায়। খননযন্ত্র দিয়ে পাথর সরানোর চেষ্টা চললেও টানেলের প্রবেশমুখ এতটাই সরু হয়ে গেছে যে নেপালের উদ্ধারকর্মীদের ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে হামাগুড়ি দিয়ে।

টানেলের ভেতরের পানি বের করে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশাল পাথরগুলোতে ছিদ্র করে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে, যাতে খননযন্ত্র আরও ভেতরে নিয়ে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো যায়।

প্রায় ৯০০ মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা

কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নেপালের ছয়টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়েছেন। গত বুধবার হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও পানি পাহাড়ি উপত্যকার দিকে ধেয়ে আসার পর এই বিপর্যয় ঘটে। এতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ধ্বংস হয়ে গেছে পুরো জনপদ

একসময় হিমালয় অভিযাত্রীদের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ছিল স্যাব্রুবেশি। ঘরবাড়িতে ঘেরা সেই জনপদ এখন কেবল ধূসর কাদার স্তর। হাতে গোনা কয়েকটি ভবন ছাড়া প্রায় সবকিছুই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।Hundreds killed, nearly 1,000 missing after Nepal floods

রয়টার্সের আলোকচিত্রী নাভেশ চিত্রকার জানান, ওই এলাকায় কোনো প্রাণের দৃশ্যমান চিহ্ন দেখা যায়নি। ত্রিশূলী নদীর দুই পাশের উঁচু পাহাড়ে পানির দাগ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠেছিল।

চীন-নেপাল সীমান্তেও ধ্বংসযজ্ঞ

চীন ও নেপালের সীমান্তের গিরং সীমান্ত ফটক এলাকাতেও ভয়াবহ ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে কাদাধস নামার কয়েক সেকেন্ড আগে মানুষকে সীমান্ত পার হয়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল। এখন সেখানে কিছু লাল পোশাক পরা উদ্ধারকর্মী ও ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।

রয়টার্সের আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় কোনো ভবন, ফটক বা সেতু দাঁড়িয়ে নেই। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস নেপালের ওই পাহাড়ি অঞ্চলকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

নেপালের বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসযজ্ঞ

নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং ছয়টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়েছেন।

নেপাল বন্যা ও ভূমিধস

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রিশূলী নদী উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছয় জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা প্রায় ৯০০ মানুষকে উদ্ধারে চলছে অভিযান।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই

০৮:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধূসর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আট দিন পরও সেখানে স্বাভাবিক জীবনের কোনো চিহ্ন প্রায় নেই। ধ্বংসপ্রাপ্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আটকে থাকা শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে এখনও চলছে কঠিন অভিযান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার আকাশপথে ত্রিশূলী নদীর উপত্যকার একটি অংশের চিত্র ধারণ করেন রয়টার্সের আলোকচিত্রী নাভেশ চিত্রকার। ওপর থেকে দেখা পুরো এলাকা যেন এক বিশাল ধূসর মরুভূমি। কোথাও মাটি কংক্রিটের মতো শক্ত হয়ে গেছে, আবার কোথাও তা পরিণত হয়েছে পিচ্ছিল কাদামাটির স্তূপে। বিস্তীর্ণ এলাকায় কোনো বসতিও চোখে পড়েনি।

উদ্ধারে বড় বাধা ধসে পড়া পাথর

রাশুয়া এলাকায় আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি টানেলের মুখে উদ্ধারকারীদের বড় বড় পাথর সরাতে দেখা যায়। খননযন্ত্র দিয়ে পাথর সরানোর চেষ্টা চললেও টানেলের প্রবেশমুখ এতটাই সরু হয়ে গেছে যে নেপালের উদ্ধারকর্মীদের ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে হামাগুড়ি দিয়ে।

টানেলের ভেতরের পানি বের করে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশাল পাথরগুলোতে ছিদ্র করে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে, যাতে খননযন্ত্র আরও ভেতরে নিয়ে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো যায়।

প্রায় ৯০০ মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা

কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নেপালের ছয়টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়েছেন। গত বুধবার হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও পানি পাহাড়ি উপত্যকার দিকে ধেয়ে আসার পর এই বিপর্যয় ঘটে। এতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ধ্বংস হয়ে গেছে পুরো জনপদ

একসময় হিমালয় অভিযাত্রীদের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ছিল স্যাব্রুবেশি। ঘরবাড়িতে ঘেরা সেই জনপদ এখন কেবল ধূসর কাদার স্তর। হাতে গোনা কয়েকটি ভবন ছাড়া প্রায় সবকিছুই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।Hundreds killed, nearly 1,000 missing after Nepal floods

রয়টার্সের আলোকচিত্রী নাভেশ চিত্রকার জানান, ওই এলাকায় কোনো প্রাণের দৃশ্যমান চিহ্ন দেখা যায়নি। ত্রিশূলী নদীর দুই পাশের উঁচু পাহাড়ে পানির দাগ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠেছিল।

চীন-নেপাল সীমান্তেও ধ্বংসযজ্ঞ

চীন ও নেপালের সীমান্তের গিরং সীমান্ত ফটক এলাকাতেও ভয়াবহ ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে কাদাধস নামার কয়েক সেকেন্ড আগে মানুষকে সীমান্ত পার হয়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল। এখন সেখানে কিছু লাল পোশাক পরা উদ্ধারকর্মী ও ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।

রয়টার্সের আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় কোনো ভবন, ফটক বা সেতু দাঁড়িয়ে নেই। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস নেপালের ওই পাহাড়ি অঞ্চলকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

নেপালের বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসযজ্ঞ

নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং ছয়টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়েছেন।

নেপাল বন্যা ও ভূমিধস

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রিশূলী নদী উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছয় জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা প্রায় ৯০০ মানুষকে উদ্ধারে চলছে অভিযান।