০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ন্যাটো ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের: আইনি জটিলতায় কি সত্যিই বের হতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র?

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক জোট ন্যাটো নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ইরান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।

ট্রাম্পের হুমকি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ন্যাটো থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই জোটকে সমালোচনা করে আসছেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর দায়ভার চাপানোর অভিযোগ তুলছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে।

North Atlantic Treaty Organization (NATO) pact signed | April 4, 1949 |  HISTORY

সংবিধান কী বলে

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে হলে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু চুক্তি থেকে বের হওয়ার বিষয়ে সংবিধানে সরাসরি কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

এই অস্পষ্টতাই ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্টদের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে, যদিও তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ন্যাটো চুক্তির বিধান

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাটো জোট পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এই চুক্তির একটি ধারা অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ চাইলে এক বছরের নোটিশ দিয়ে জোট ছাড়তে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত ৭৭ বছরের ইতিহাসে কোনো দেশ ন্যাটো থেকে বের হয়নি, যা এই জোটের স্থিতিশীলতার দিকটি তুলে ধরে।

Congress passes $886 billion defense policy bill, Biden to sign into law |  Ariana News | Afghanistan News

যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বাধা

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস একটি আইন পাস করে, যেখানে বলা হয় প্রেসিডেন্ট এককভাবে ন্যাটো থেকে বের হতে পারবেন না। এ জন্য সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

এই আইনের ফলে ট্রাম্পের জন্য এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এই আইনে বলা হয়েছে, ন্যাটো থেকে বের হওয়ার জন্য সরকারি অর্থও ব্যবহার করা যাবে না।

রাজনৈতিক ও আদালতের লড়াই

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন, তবে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কখনও সরাসরি চুক্তি থেকে বের হওয়ার বিষয়ে কোনো রায় দেয়নি।

ফলে বিষয়টি আদালতে গেলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

ইরান-ইসরায়েল: তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছাড়তে বললেন ট্রাম্প - BBC News  বাংলা

সামনে কী হতে পারে

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে, কোনো রাষ্ট্র চাইলে চুক্তি থেকে বের হতে পারে, যদি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের অবস্থান কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে কংগ্রেস, আদালত এবং সামরিক নেতৃত্বের অবস্থানের ওপর।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ন্যাটো ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের: আইনি জটিলতায় কি সত্যিই বের হতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র?

১১:১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক জোট ন্যাটো নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ইরান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।

ট্রাম্পের হুমকি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ন্যাটো থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই জোটকে সমালোচনা করে আসছেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর দায়ভার চাপানোর অভিযোগ তুলছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে।

North Atlantic Treaty Organization (NATO) pact signed | April 4, 1949 |  HISTORY

সংবিধান কী বলে

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে হলে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু চুক্তি থেকে বের হওয়ার বিষয়ে সংবিধানে সরাসরি কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

এই অস্পষ্টতাই ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্টদের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে, যদিও তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ন্যাটো চুক্তির বিধান

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাটো জোট পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এই চুক্তির একটি ধারা অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ চাইলে এক বছরের নোটিশ দিয়ে জোট ছাড়তে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত ৭৭ বছরের ইতিহাসে কোনো দেশ ন্যাটো থেকে বের হয়নি, যা এই জোটের স্থিতিশীলতার দিকটি তুলে ধরে।

Congress passes $886 billion defense policy bill, Biden to sign into law |  Ariana News | Afghanistan News

যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বাধা

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস একটি আইন পাস করে, যেখানে বলা হয় প্রেসিডেন্ট এককভাবে ন্যাটো থেকে বের হতে পারবেন না। এ জন্য সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

এই আইনের ফলে ট্রাম্পের জন্য এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এই আইনে বলা হয়েছে, ন্যাটো থেকে বের হওয়ার জন্য সরকারি অর্থও ব্যবহার করা যাবে না।

রাজনৈতিক ও আদালতের লড়াই

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন, তবে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কখনও সরাসরি চুক্তি থেকে বের হওয়ার বিষয়ে কোনো রায় দেয়নি।

ফলে বিষয়টি আদালতে গেলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

ইরান-ইসরায়েল: তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছাড়তে বললেন ট্রাম্প - BBC News  বাংলা

সামনে কী হতে পারে

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে, কোনো রাষ্ট্র চাইলে চুক্তি থেকে বের হতে পারে, যদি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের অবস্থান কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে কংগ্রেস, আদালত এবং সামরিক নেতৃত্বের অবস্থানের ওপর।