০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

পর্যাপ্ত সরবরাহেও লালমনিরহাটে শীতকালীন সবজির দাম চড়া

পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও লালমনিরহাটের বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির দাম প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে থাকা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য এতে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

শীতের ভরা মৌসুমে বাজারের চিত্র
শীত মৌসুমের চূড়ান্ত সময়ে লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলাসহ বিভিন্ন রান্নাবাজারে সবজির সরবরাহ চোখে পড়ার মতো। পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও লালমনিরহাট সদর—সবখানেই ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মূলা, টমেটো, পালংশাকসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ ভালো হলেও দাম কমেনি।

বাজারদরের বর্তমান চিত্র
শনিবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৭০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, কুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকা, কাঁচা কলা ডজনপ্রতি ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা কেজি, পটল ৬০ টাকা কেজি, লাউ আকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা কেজি, মূলা ৪০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা প্রতিটি, করলা ৫০ টাকা কেজি, লালশাক আঁটি ২০ টাকা এবং সরিষাশাক আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের চাপ ও দরকষাকষি
দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে তুলনামূলক কম দামে কেনার চেষ্টা করছেন। অনেকেই দরদাম করেও কাঙ্ক্ষিত দামে সবজি পাচ্ছেন না।

ভোক্তাদের অভিজ্ঞতা
শিয়ালখোয়ার গৃহিণী সালমা বেগম জানান, আগে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কয়েক রকম সবজি কেনা যেত। এখন একই টাকায় একটি ব্যাগও ভরা যায় না, ফলে পরিবারের খাবারের বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে।
একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামাদ মিয়া বলেন, সবজির দাম বেশি থাকায় নিয়মিত সবজি খাওয়ার সুযোগ কমে গেছে। মধ্যবিত্তদের জন্য শীতকাল স্বস্তির সময় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা আর নেই।

ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা
সবজি বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, শীতে সাধারণত উৎপাদন বাড়ে, তবে এবার শীতের তীব্রতার কারণে সরবরাহে প্রভাব পড়েছে, তাই দাম তুলনামূলক বেশি।
নামুরী বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ হেলাল মিয়া বলেন, হঠাৎ ঠান্ডা পড়ায় কৃষকরা প্রত্যাশিত পরিমাণে সবজি বাজারে আনতে পারেননি।
আরেক বিক্রেতার মতে, দামে লাভ কিছুটা বাড়লেও ক্রেতা কম হওয়ায় মোট বিক্রি সন্তোষজনক হচ্ছে না। দাম কমলে মানুষ বেশি কিনবে, পণ্যও অবিক্রীত থাকবে না।

আগামীর শঙ্কা
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে পুরো শীত মৌসুমজুড়েই সবজির দাম চড়া থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

পর্যাপ্ত সরবরাহেও লালমনিরহাটে শীতকালীন সবজির দাম চড়া

০৫:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও লালমনিরহাটের বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির দাম প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে থাকা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য এতে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

শীতের ভরা মৌসুমে বাজারের চিত্র
শীত মৌসুমের চূড়ান্ত সময়ে লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলাসহ বিভিন্ন রান্নাবাজারে সবজির সরবরাহ চোখে পড়ার মতো। পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও লালমনিরহাট সদর—সবখানেই ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মূলা, টমেটো, পালংশাকসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ ভালো হলেও দাম কমেনি।

বাজারদরের বর্তমান চিত্র
শনিবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৭০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, কুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকা, কাঁচা কলা ডজনপ্রতি ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা কেজি, পটল ৬০ টাকা কেজি, লাউ আকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা কেজি, মূলা ৪০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা প্রতিটি, করলা ৫০ টাকা কেজি, লালশাক আঁটি ২০ টাকা এবং সরিষাশাক আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের চাপ ও দরকষাকষি
দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে তুলনামূলক কম দামে কেনার চেষ্টা করছেন। অনেকেই দরদাম করেও কাঙ্ক্ষিত দামে সবজি পাচ্ছেন না।

ভোক্তাদের অভিজ্ঞতা
শিয়ালখোয়ার গৃহিণী সালমা বেগম জানান, আগে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কয়েক রকম সবজি কেনা যেত। এখন একই টাকায় একটি ব্যাগও ভরা যায় না, ফলে পরিবারের খাবারের বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে।
একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামাদ মিয়া বলেন, সবজির দাম বেশি থাকায় নিয়মিত সবজি খাওয়ার সুযোগ কমে গেছে। মধ্যবিত্তদের জন্য শীতকাল স্বস্তির সময় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা আর নেই।

ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা
সবজি বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, শীতে সাধারণত উৎপাদন বাড়ে, তবে এবার শীতের তীব্রতার কারণে সরবরাহে প্রভাব পড়েছে, তাই দাম তুলনামূলক বেশি।
নামুরী বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ হেলাল মিয়া বলেন, হঠাৎ ঠান্ডা পড়ায় কৃষকরা প্রত্যাশিত পরিমাণে সবজি বাজারে আনতে পারেননি।
আরেক বিক্রেতার মতে, দামে লাভ কিছুটা বাড়লেও ক্রেতা কম হওয়ায় মোট বিক্রি সন্তোষজনক হচ্ছে না। দাম কমলে মানুষ বেশি কিনবে, পণ্যও অবিক্রীত থাকবে না।

আগামীর শঙ্কা
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে পুরো শীত মৌসুমজুড়েই সবজির দাম চড়া থাকতে পারে।