০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশু-কিশোর হত্যার ঘটনা ভয়াবহভাবে বেড়েছে

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরদের হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বেতসেলেমের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৩৫ জন শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। নয় বছরের মোহাম্মদের মৃত্যু

নিহতদের একজন ছিল নয় বছর বয়সী মোহাম্মদ। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের আল-রিহিয়া গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের টহল দেখে দৌড়ে পালানোর সময় গুলিতে সে নিহত হয় বলে তার মা আলিয়া আল-হাল্লাক জানিয়েছেন।

ছেলেকে হারানোর পরও আলিয়া নিজেকে চার সন্তানের মা হিসেবে ভাবতে পারেন না। তিনি বলেন, এখনো মোহাম্মদের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি। বাড়ির উঠানে বসে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে তিনি কাঁদেন, তবে চেষ্টা করেন অন্য সন্তানরা যেন তাকে কাঁদতে না দেখে।

Killing of Palestinian children and teens by Israel surges in West Bank -  RFI

যুদ্ধের বাইরে থেকেও প্রাণ যাচ্ছে

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। নাবলুসের কাছে জালুদে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মুখোশধারী হামলাকারীরা একটি সংবাদ দলের ওপর হামলা চালায়। একই সময়ে কুসরায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘরেও হামলার অভিযোগ ওঠে।

সহিংসতার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের সহিংসতা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হামলা, উচ্ছেদ ও প্রাণহানির ঘটনা আরও গভীর সংকট তৈরি করছে।

শিশুদের মৃত্যুর এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত শৈশব এবং এমন এক বাস্তবতা, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও ফিলিস্তিনি শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে।

Child casualties in Gaza “a growing stain on our collective conscience”

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশু-কিশোর হত্যার ঘটনা ভয়াবহভাবে বেড়েছে

১১:৪৯:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরদের হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বেতসেলেমের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৩৫ জন শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। নয় বছরের মোহাম্মদের মৃত্যু

নিহতদের একজন ছিল নয় বছর বয়সী মোহাম্মদ। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের আল-রিহিয়া গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের টহল দেখে দৌড়ে পালানোর সময় গুলিতে সে নিহত হয় বলে তার মা আলিয়া আল-হাল্লাক জানিয়েছেন।

ছেলেকে হারানোর পরও আলিয়া নিজেকে চার সন্তানের মা হিসেবে ভাবতে পারেন না। তিনি বলেন, এখনো মোহাম্মদের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি। বাড়ির উঠানে বসে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে তিনি কাঁদেন, তবে চেষ্টা করেন অন্য সন্তানরা যেন তাকে কাঁদতে না দেখে।

Killing of Palestinian children and teens by Israel surges in West Bank -  RFI

যুদ্ধের বাইরে থেকেও প্রাণ যাচ্ছে

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। নাবলুসের কাছে জালুদে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মুখোশধারী হামলাকারীরা একটি সংবাদ দলের ওপর হামলা চালায়। একই সময়ে কুসরায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘরেও হামলার অভিযোগ ওঠে।

সহিংসতার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের সহিংসতা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হামলা, উচ্ছেদ ও প্রাণহানির ঘটনা আরও গভীর সংকট তৈরি করছে।

শিশুদের মৃত্যুর এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত শৈশব এবং এমন এক বাস্তবতা, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও ফিলিস্তিনি শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে।

Child casualties in Gaza “a growing stain on our collective conscience”