০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ: সম্ভাবনার আড়ালে বড় চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানের মাটির নিচে থাকা বিপুল খনিজ সম্পদ দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দেশটির কর্মকর্তারা প্রায়ই এই সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাব্য বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন। তবে বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থের সংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

৭ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের দাবি

পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল সম্প্রতি নিউইয়র্কে একটি আলোচনায় দেশটির খনিজ সম্পদের সম্ভাব্য মূল্য ৭ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রী একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, এই বিপুল সম্পদ কাজে লাগাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজে বাড়ছে বৈশ্বিক আগ্রহ

পাকিস্তানে এখনো বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ অনাবিষ্কৃত বা অপর্যাপ্তভাবে ব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের কারণে দেশটির সম্ভাবনার প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে আগ্রহ দেখিয়েছে। চীনও দেশটির খনি খাতে বিনিয়োগ করেছে। তবে শুধু বিদেশি আগ্রহ থাকলেই এই সম্পদ থেকে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।U.S. Eyes Pakistan's Mineral Wealth – Foreign Policy

নিরাপত্তাই বড় বাধা

পাকিস্তানের খনিজ সম্পদের বড় অংশ রয়েছে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মতো এলাকায়। এসব অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

খনি খাতকে এগিয়ে নিতে তাই প্রথমেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। তবে শুধু নিরাপত্তা জোরদার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। খনি এলাকার স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান জরুরি

খনিজ উত্তোলন যেখানে হবে, সেখানকার মানুষকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। খনি থেকে লাভবান প্রতিষ্ঠানগুলোকেও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে বিনিয়োগ করতে হবে।

এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে খনি প্রকল্প নিয়ে আস্থা তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।

শুধু কাঁচামাল রপ্তানি নয়

পাকিস্তানের খনিজ খাতে আরেকটি বড় সমস্যা হলো কাঁচামাল উত্তোলনের পর তা বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া। সেখানে প্রক্রিয়াজাত করে এর মূল্য বাড়ানো হয়। এতে খনিজ সম্পদের পুরো অর্থনৈতিক সুবিধা পাকিস্তানের হাতে থাকে না।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল পেতে হলে খনিজ উত্তোলনের পাশাপাশি দেশেই প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে খনিজ খাতের অবদানও বাড়বে।

সম্পদ যেন অভিশাপে পরিণত না হয়

পাকিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদ দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, ধারাবাহিক নীতি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এই সম্পদই শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাই খনিজ সম্পদকে সত্যিকারের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে পাকিস্তানকে নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন, দক্ষতা তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিশ্চিত করতে হবে।

পাকিস্তানের মাটির নিচে থাকা সম্পদের মূল্য যদি সত্যিই ট্রিলিয়ন ডলারে হয়, তাহলে সেটি শুধু উত্তোলন করাই যথেষ্ট নয়—সেই সম্পদের সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ: সম্ভাবনার আড়ালে বড় চ্যালেঞ্জ

০৮:১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের মাটির নিচে থাকা বিপুল খনিজ সম্পদ দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দেশটির কর্মকর্তারা প্রায়ই এই সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাব্য বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন। তবে বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থের সংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

৭ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের দাবি

পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল সম্প্রতি নিউইয়র্কে একটি আলোচনায় দেশটির খনিজ সম্পদের সম্ভাব্য মূল্য ৭ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রী একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, এই বিপুল সম্পদ কাজে লাগাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজে বাড়ছে বৈশ্বিক আগ্রহ

পাকিস্তানে এখনো বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ অনাবিষ্কৃত বা অপর্যাপ্তভাবে ব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের কারণে দেশটির সম্ভাবনার প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে আগ্রহ দেখিয়েছে। চীনও দেশটির খনি খাতে বিনিয়োগ করেছে। তবে শুধু বিদেশি আগ্রহ থাকলেই এই সম্পদ থেকে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।U.S. Eyes Pakistan's Mineral Wealth – Foreign Policy

নিরাপত্তাই বড় বাধা

পাকিস্তানের খনিজ সম্পদের বড় অংশ রয়েছে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মতো এলাকায়। এসব অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

খনি খাতকে এগিয়ে নিতে তাই প্রথমেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। তবে শুধু নিরাপত্তা জোরদার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। খনি এলাকার স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান জরুরি

খনিজ উত্তোলন যেখানে হবে, সেখানকার মানুষকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। খনি থেকে লাভবান প্রতিষ্ঠানগুলোকেও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে বিনিয়োগ করতে হবে।

এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে খনি প্রকল্প নিয়ে আস্থা তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।

শুধু কাঁচামাল রপ্তানি নয়

পাকিস্তানের খনিজ খাতে আরেকটি বড় সমস্যা হলো কাঁচামাল উত্তোলনের পর তা বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া। সেখানে প্রক্রিয়াজাত করে এর মূল্য বাড়ানো হয়। এতে খনিজ সম্পদের পুরো অর্থনৈতিক সুবিধা পাকিস্তানের হাতে থাকে না।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল পেতে হলে খনিজ উত্তোলনের পাশাপাশি দেশেই প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে খনিজ খাতের অবদানও বাড়বে।

সম্পদ যেন অভিশাপে পরিণত না হয়

পাকিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদ দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, ধারাবাহিক নীতি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এই সম্পদই শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাই খনিজ সম্পদকে সত্যিকারের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে পাকিস্তানকে নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন, দক্ষতা তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিশ্চিত করতে হবে।

পাকিস্তানের মাটির নিচে থাকা সম্পদের মূল্য যদি সত্যিই ট্রিলিয়ন ডলারে হয়, তাহলে সেটি শুধু উত্তোলন করাই যথেষ্ট নয়—সেই সম্পদের সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।