০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

পাকিস্তানে বাড়ছে পোলট্রি শিল্প, কিন্তু কমছে না মুরগির দাম

রোগের প্রাদুর্ভাব, রপ্তানি স্থগিত, বাজারের অস্থিরতা এবং খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পাকিস্তানের পোলট্রি শিল্প গত এক দশকে গড়ে বছরে ৮ শতাংশের বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত বন্ধ এবং রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার পরও বাজারে মুরগির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি দেখা যায়নি।

দাম কমার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

ঈদুল আজহার পর করাচিতে জীবন্ত মুরগির দাম প্রতি কেজিতে গড়ে ১০০ রুপি কমে ৩৭০ থেকে ৪২০ রুপির মধ্যে নেমে এসেছে। কিন্তু আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ হওয়ার পর আরও বড় মূল্যহ্রাসের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগান সীমান্ত বন্ধ হওয়ার সময় জীবন্ত মুরগির দাম ৪৬০-৫৪০ রুপি থেকে নেমে ৩১০-৩৬০ রুপিতে এসেছিল। এবারও পোলট্রি পণ্য, খাদ্য, ডে-ওল্ড চিক এবং ডিম রপ্তানি বন্ধ থাকলেও খুচরা বাজারে সেই প্রভাব দেখা যায়নি।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগে শক্তিশালী চাহিদার কারণে ব্যবসায়ীরা মুরগির দাম উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছিলেন। অথচ সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে ও পরে মুরগির চাহিদা কমে যায়, কারণ মানুষ কোরবানির মাংসের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি

অন্যদিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। বর্তমানে একটি ডিম ২০ থেকে ২২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ২৫ রুপি। স্কুল বন্ধ থাকা এবং গরম আবহাওয়ার কারণে ডিমের চাহিদা কমে যাওয়ায় এই মূল্যহ্রাস ঘটেছে।

করাচির প্রশাসন জীবন্ত মুরগি ও মাংসের খুচরা মূল্য যথাক্রমে ২৯৬ ও ৪৪৫ রুপি নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

Lack of profits forcing decline for poultry industry in KP - Pakistan - Aaj  English TV

গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় এখনো সস্তা

পাকিস্তান পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য কামাল আখতার সিদ্দিকী জানান, ঈদের পর খামার পর্যায়ে জীবন্ত মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ১০০ রুপি কমে ২৯০-৩০০ রুপিতে নেমে এসেছে। তার মতে, মুরগির মাংসের খুচরা মূল্য ৫০০ রুপির বেশি হওয়া উচিত নয়, কিন্তু অনেক দোকানে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আফগান সীমান্ত বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে ইরানে পোলট্রি পণ্য পাঠানো বন্ধ হলেও মুরগি এখনো গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

বর্তমানে হাড়সহ গরুর মাংস প্রতি কেজি ১,৫০০ রুপি এবং হাড়ছাড়া ১,৮০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম ২,৭০০ থেকে ২,৯০০ রুপি, যা অধিকাংশ মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য মুরগিই প্রধান বিকল্প হিসেবে রয়ে গেছে।

রেস্টুরেন্টে কমেনি মুরগিভিত্তিক খাবারের দাম

কাঁচা মুরগির দামে ওঠানামা হলেও রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানে মুরগিভিত্তিক খাবারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আধা কেজি চিকেন করাহির গড় মূল্য ১,২০০ রুপি। এক পিস ব্রোস্ট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ রুপিতে, আর ব্র্যান্ডেড আউটলেটে এর দাম ৬০০ রুপিরও বেশি।

এক প্লেট চিকেন বিরিয়ানির দাম ২৫০ থেকে ৩২০ রুপির মধ্যে রয়েছে। চিকেন টিক্কার দাম ৩৬০-৪০০ রুপি হলেও কিছু বড় খাদ্যচেইনে তা ৫০০-৬০০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছে। একটি জিঙ্গার বার্গারের দামও ৫০০ রুপির নিচে নয়।

প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত

পাকিস্তানের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অর্থনৈতিক জরিপ অনুযায়ী, গত ১০ বছরে পোলট্রি খাতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮.১ শতাংশ। দেশে মোট পোলট্রি পাখির সংখ্যা ২২৬ কোটিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাণিজ্যিক ব্রয়লারের সংখ্যা প্রায় ২০৬ কোটি।

ডে-ওল্ড চিক উৎপাদন ৯.৮ শতাংশ বেড়ে ২১৯ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে পোলট্রি মাংস উৎপাদন ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ লাখ ৮০ হাজার টনে এবং ডিম উৎপাদন ২৬.৭ বিলিয়নে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের মোট মাংস উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি আসে পোলট্রি খাত থেকে। বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম পোলট্রি উৎপাদক দেশ হিসেবে এই শিল্পে ১৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

পাকিস্তানে বাড়ছে পোলট্রি শিল্প, কিন্তু কমছে না মুরগির দাম

০২:০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রোগের প্রাদুর্ভাব, রপ্তানি স্থগিত, বাজারের অস্থিরতা এবং খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পাকিস্তানের পোলট্রি শিল্প গত এক দশকে গড়ে বছরে ৮ শতাংশের বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত বন্ধ এবং রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার পরও বাজারে মুরগির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি দেখা যায়নি।

দাম কমার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

ঈদুল আজহার পর করাচিতে জীবন্ত মুরগির দাম প্রতি কেজিতে গড়ে ১০০ রুপি কমে ৩৭০ থেকে ৪২০ রুপির মধ্যে নেমে এসেছে। কিন্তু আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ হওয়ার পর আরও বড় মূল্যহ্রাসের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগান সীমান্ত বন্ধ হওয়ার সময় জীবন্ত মুরগির দাম ৪৬০-৫৪০ রুপি থেকে নেমে ৩১০-৩৬০ রুপিতে এসেছিল। এবারও পোলট্রি পণ্য, খাদ্য, ডে-ওল্ড চিক এবং ডিম রপ্তানি বন্ধ থাকলেও খুচরা বাজারে সেই প্রভাব দেখা যায়নি।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগে শক্তিশালী চাহিদার কারণে ব্যবসায়ীরা মুরগির দাম উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছিলেন। অথচ সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে ও পরে মুরগির চাহিদা কমে যায়, কারণ মানুষ কোরবানির মাংসের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি

অন্যদিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। বর্তমানে একটি ডিম ২০ থেকে ২২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ২৫ রুপি। স্কুল বন্ধ থাকা এবং গরম আবহাওয়ার কারণে ডিমের চাহিদা কমে যাওয়ায় এই মূল্যহ্রাস ঘটেছে।

করাচির প্রশাসন জীবন্ত মুরগি ও মাংসের খুচরা মূল্য যথাক্রমে ২৯৬ ও ৪৪৫ রুপি নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

Lack of profits forcing decline for poultry industry in KP - Pakistan - Aaj  English TV

গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় এখনো সস্তা

পাকিস্তান পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য কামাল আখতার সিদ্দিকী জানান, ঈদের পর খামার পর্যায়ে জীবন্ত মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ১০০ রুপি কমে ২৯০-৩০০ রুপিতে নেমে এসেছে। তার মতে, মুরগির মাংসের খুচরা মূল্য ৫০০ রুপির বেশি হওয়া উচিত নয়, কিন্তু অনেক দোকানে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আফগান সীমান্ত বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে ইরানে পোলট্রি পণ্য পাঠানো বন্ধ হলেও মুরগি এখনো গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

বর্তমানে হাড়সহ গরুর মাংস প্রতি কেজি ১,৫০০ রুপি এবং হাড়ছাড়া ১,৮০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম ২,৭০০ থেকে ২,৯০০ রুপি, যা অধিকাংশ মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য মুরগিই প্রধান বিকল্প হিসেবে রয়ে গেছে।

রেস্টুরেন্টে কমেনি মুরগিভিত্তিক খাবারের দাম

কাঁচা মুরগির দামে ওঠানামা হলেও রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানে মুরগিভিত্তিক খাবারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আধা কেজি চিকেন করাহির গড় মূল্য ১,২০০ রুপি। এক পিস ব্রোস্ট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ রুপিতে, আর ব্র্যান্ডেড আউটলেটে এর দাম ৬০০ রুপিরও বেশি।

এক প্লেট চিকেন বিরিয়ানির দাম ২৫০ থেকে ৩২০ রুপির মধ্যে রয়েছে। চিকেন টিক্কার দাম ৩৬০-৪০০ রুপি হলেও কিছু বড় খাদ্যচেইনে তা ৫০০-৬০০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছে। একটি জিঙ্গার বার্গারের দামও ৫০০ রুপির নিচে নয়।

প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত

পাকিস্তানের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অর্থনৈতিক জরিপ অনুযায়ী, গত ১০ বছরে পোলট্রি খাতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮.১ শতাংশ। দেশে মোট পোলট্রি পাখির সংখ্যা ২২৬ কোটিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাণিজ্যিক ব্রয়লারের সংখ্যা প্রায় ২০৬ কোটি।

ডে-ওল্ড চিক উৎপাদন ৯.৮ শতাংশ বেড়ে ২১৯ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে পোলট্রি মাংস উৎপাদন ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ লাখ ৮০ হাজার টনে এবং ডিম উৎপাদন ২৬.৭ বিলিয়নে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের মোট মাংস উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি আসে পোলট্রি খাত থেকে। বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম পোলট্রি উৎপাদক দেশ হিসেবে এই শিল্পে ১৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।