০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

পাহালগাম হামলার পর মোদির প্রথম প্রশ্ন—‘কারা করেছে?’ অজিত দোভালের মুখে অপারেশন সিঁদুরের নেপথ্যকথা

পাহালগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়ার পর দেশে ফিরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতে চেয়েছিলেন—এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে? ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই উত্তাল সময়ের কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন, হামলার নেপথ্যের অপরাধীদের পরিচয় দ্রুত জানতে প্রধানমন্ত্রী তাকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিমানবন্দরেই শুরু হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

পাহালগামে হামলার সময় সৌদি আরবে ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফেরেন। দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি।

অজিত দোভাল জানান, বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হামলার সব তথ্য জানতে চান। এরপরই তিনি সরাসরি জানতে চান, এই হামলার জন্য কারা দায়ী এবং কারা এর নেপথ্যে রয়েছে।

Wherever they are...': Indian NSA Ajit Doval reveals PM Modi's first  reaction after Pahalgam terror attack

দোভালের ভাষ্য অনুযায়ী, মোদি তাকে বলেন, হামলাকারীদের পরিচয় ও দায়ীদের বিষয়ে দ্রুত এবং স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা রাখতে চাননি প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাসী ঘাঁটিই হয়ে ওঠে প্রধান লক্ষ্য

দোভাল জানান, হামলার পর ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়ার পরিকল্পনা করা হয় অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে থাকা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে পাহালগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

ভারতের বার্তাও ছিল স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতা করা কিংবা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়া আর মেনে নেওয়া হবে না।

‘ভারতের সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না’

অজিত দোভাল বলেন, ভারতের উদারতা, সহনশীলতা ও সংযমকে কখনোই দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ভারত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, ঝুঁকি নিতে পারে এবং তার পরিণতি যতই কঠিন হোক, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আঘাত হানতে পারে।

তার বক্তব্যে উঠে আসে ভারতের নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখায় থেমে থাকার মানসিকতা নেই।

‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই’

Pahalgam attack: Ajit Doval reveals what PM Modi asked before Operation  Sindoor

দোভাল আরও বলেন, একটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যত দূর পর্যন্ত যাওয়া প্রয়োজন, ভারত তত দূর যেতে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন ‘অপারেশন সিঁদুর জীবিত’, তার অর্থ শুধু একটি সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা নয়। এর মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে। শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই শেষ হবে না—এমন বার্তাই এতে রয়েছে।

৮৮ ঘণ্টার সংঘাত

গত বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসী অবকাঠামোয় নির্ভুল হামলা চালায়।

এরপর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু হয়। প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা ও সংঘাত চলার পর ১০ মে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

অজিত দোভালের নতুন বক্তব্যে সেই অভিযানের পেছনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ভারতের নিরাপত্তা ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। বিশেষ করে পাহালগাম হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, হামলার দায়ীদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল ভারত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

পাহালগাম হামলার পর মোদির প্রথম প্রশ্ন—‘কারা করেছে?’ অজিত দোভালের মুখে অপারেশন সিঁদুরের নেপথ্যকথা

০২:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

পাহালগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়ার পর দেশে ফিরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতে চেয়েছিলেন—এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে? ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই উত্তাল সময়ের কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন, হামলার নেপথ্যের অপরাধীদের পরিচয় দ্রুত জানতে প্রধানমন্ত্রী তাকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিমানবন্দরেই শুরু হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

পাহালগামে হামলার সময় সৌদি আরবে ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফেরেন। দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি।

অজিত দোভাল জানান, বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হামলার সব তথ্য জানতে চান। এরপরই তিনি সরাসরি জানতে চান, এই হামলার জন্য কারা দায়ী এবং কারা এর নেপথ্যে রয়েছে।

Wherever they are...': Indian NSA Ajit Doval reveals PM Modi's first  reaction after Pahalgam terror attack

দোভালের ভাষ্য অনুযায়ী, মোদি তাকে বলেন, হামলাকারীদের পরিচয় ও দায়ীদের বিষয়ে দ্রুত এবং স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা রাখতে চাননি প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাসী ঘাঁটিই হয়ে ওঠে প্রধান লক্ষ্য

দোভাল জানান, হামলার পর ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়ার পরিকল্পনা করা হয় অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে থাকা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে পাহালগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

ভারতের বার্তাও ছিল স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতা করা কিংবা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়া আর মেনে নেওয়া হবে না।

‘ভারতের সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না’

অজিত দোভাল বলেন, ভারতের উদারতা, সহনশীলতা ও সংযমকে কখনোই দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ভারত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, ঝুঁকি নিতে পারে এবং তার পরিণতি যতই কঠিন হোক, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আঘাত হানতে পারে।

তার বক্তব্যে উঠে আসে ভারতের নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখায় থেমে থাকার মানসিকতা নেই।

‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই’

Pahalgam attack: Ajit Doval reveals what PM Modi asked before Operation  Sindoor

দোভাল আরও বলেন, একটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যত দূর পর্যন্ত যাওয়া প্রয়োজন, ভারত তত দূর যেতে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন ‘অপারেশন সিঁদুর জীবিত’, তার অর্থ শুধু একটি সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা নয়। এর মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে। শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই শেষ হবে না—এমন বার্তাই এতে রয়েছে।

৮৮ ঘণ্টার সংঘাত

গত বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসী অবকাঠামোয় নির্ভুল হামলা চালায়।

এরপর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু হয়। প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা ও সংঘাত চলার পর ১০ মে সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

অজিত দোভালের নতুন বক্তব্যে সেই অভিযানের পেছনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ভারতের নিরাপত্তা ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। বিশেষ করে পাহালগাম হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, হামলার দায়ীদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল ভারত।