০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

পিরোজপুরে বাজারে অগ্নিকাণ্ড

পিরোজপুরে ভয়াবহ আগুনে ১৩ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ৭০ লাখ টাকা

পিরোজপুর সদর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বাজারের ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং আরও দুটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার ভোররাতে সদর উপজেলার শারিকতলা বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ১টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থান, দোকানের ভেতরে দাহ্য পণ্য এবং রাতের সময় হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

খবর পেয়ে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

রাতের আগুনে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে ওষুধের দোকান, ডেকোরেটর সামগ্রীর দোকান, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। রাতের আগুনে দোকানের মালামাল, নগদ টাকা, আসবাব, নথিপত্র ও ব্যবসার পুঁজি পুড়ে গেছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য দোকানই ছিল একমাত্র আয়ের উৎস। আগুনে শুধু মালামাল নয়, তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পুড়ে গেছে। এমন আগুনের পর ক্ষতিগ্রস্তরা নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

বাজারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের অনেক স্থানীয় বাজারে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। বৈদ্যুতিক সংযোগ পুরোনো, তারের জটলা থাকে, রাতের বেলায় দোকান বন্ধের পর নজরদারি কম থাকে এবং অনেক বাজারে পর্যাপ্ত পানির উৎসও নেই। ফলে ছোট একটি শর্ট সার্কিটও বড় আগুনে রূপ নিতে পারে।

পিরোজপুরের এ ঘটনা আবারও দেখাল, বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা আর বিলাসিতা নয়, জরুরি প্রয়োজন। নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, বাজারভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল এবং রাতের পাহারা না থাকলে এমন আগুন বারবার ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

পিরোজপুরে বাজারে অগ্নিকাণ্ড

০৮:৪২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

পিরোজপুরে ভয়াবহ আগুনে ১৩ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ৭০ লাখ টাকা

পিরোজপুর সদর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বাজারের ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং আরও দুটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার ভোররাতে সদর উপজেলার শারিকতলা বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ১টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থান, দোকানের ভেতরে দাহ্য পণ্য এবং রাতের সময় হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

খবর পেয়ে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

রাতের আগুনে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে ওষুধের দোকান, ডেকোরেটর সামগ্রীর দোকান, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। রাতের আগুনে দোকানের মালামাল, নগদ টাকা, আসবাব, নথিপত্র ও ব্যবসার পুঁজি পুড়ে গেছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য দোকানই ছিল একমাত্র আয়ের উৎস। আগুনে শুধু মালামাল নয়, তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পুড়ে গেছে। এমন আগুনের পর ক্ষতিগ্রস্তরা নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

বাজারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের অনেক স্থানীয় বাজারে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। বৈদ্যুতিক সংযোগ পুরোনো, তারের জটলা থাকে, রাতের বেলায় দোকান বন্ধের পর নজরদারি কম থাকে এবং অনেক বাজারে পর্যাপ্ত পানির উৎসও নেই। ফলে ছোট একটি শর্ট সার্কিটও বড় আগুনে রূপ নিতে পারে।

পিরোজপুরের এ ঘটনা আবারও দেখাল, বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা আর বিলাসিতা নয়, জরুরি প্রয়োজন। নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, বাজারভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল এবং রাতের পাহারা না থাকলে এমন আগুন বারবার ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব করবে।