০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ফিলিপাইনে মার্কিন শিল্প হাব ঘিরে বিতর্ক, বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না ম্যানিলা

ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি বিশাল শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানি বা কর্মীদের জন্য বিশেষ আইনি সুবিধা বা কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ফিলিপাইন সরকার।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পিত ‘প্যাক্স সিলিকা’ শিল্প হাব পুরোপুরি দেশটির নিজস্ব আইন মেনেই পরিচালিত হবে। এ নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পর সরকার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়।

কী এই প্যাক্স সিলিকা প্রকল্প

লুজন ইকোনমিক করিডরের অংশ হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জায়গাজুড়ে এই শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি নিউ ক্লার্ক সিটির ভেতরে নির্মিত হবে, যা আগে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অংশ ছিল। বর্তমানে এলাকাটি শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর হিসেবে উন্নয়ন করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খনিজ, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা অবকাঠামো ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। বিশেষ করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প প্রযুক্তি সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।

মার্কিন বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

ফিলিপাইনের বেসেস কনভার্সন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রধান জোশুয়া বিংচাং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকল্পের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার অনুরোধ ছিল। কিন্তু ম্যানিলা তাতে সম্মত হয়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন এবং স্থানীয় উন্নয়ন আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। কোনো বিদেশি পক্ষের জন্য আলাদা আইন বা বিশেষ মর্যাদা থাকবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় আইন মেনেই কাজ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই প্রকল্পকে শুধু অর্থনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবেও দেখছেন। সফরে আসা মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও কাঁচামালের সরবরাহে একক দেশের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

খনিজ সম্পদে নতুন লক্ষ্য

বিশ্বের অন্যতম বড় নিকেল মজুত রয়েছে ফিলিপাইনে। দেশটি এখন শুধু কাঁচা খনিজ রপ্তানির বদলে ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের ধাতু উৎপাদনে আগ্রহী।

সরকারের মতে, প্যাক্স সিলিকা প্রকল্প সফল হলে দেশটি প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এতে কর্মসংস্থান ও শিল্প বিনিয়োগও বাড়বে।

পরিবেশ ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

তবে প্রকল্পটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কয়েকটি পরিবেশবাদী ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এতে বিদেশি প্রভাব বাড়তে পারে এবং খনিজ উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, সব কার্যক্রম পরিবেশ আইন ও শ্রম আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। তারা দাবি করছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে।

ফিলিপাইনে মার্কিন সমর্থিত প্যাক্স সিলিকা শিল্প হাব নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। তবে ম্যানিলা বলছে, প্রকল্পে কোনো বিদেশি বিশেষ আইন কার্যকর হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ফিলিপাইনে মার্কিন শিল্প হাব ঘিরে বিতর্ক, বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না ম্যানিলা

০৮:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি বিশাল শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানি বা কর্মীদের জন্য বিশেষ আইনি সুবিধা বা কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ফিলিপাইন সরকার।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পিত ‘প্যাক্স সিলিকা’ শিল্প হাব পুরোপুরি দেশটির নিজস্ব আইন মেনেই পরিচালিত হবে। এ নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পর সরকার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়।

কী এই প্যাক্স সিলিকা প্রকল্প

লুজন ইকোনমিক করিডরের অংশ হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জায়গাজুড়ে এই শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি নিউ ক্লার্ক সিটির ভেতরে নির্মিত হবে, যা আগে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অংশ ছিল। বর্তমানে এলাকাটি শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর হিসেবে উন্নয়ন করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খনিজ, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা অবকাঠামো ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। বিশেষ করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প প্রযুক্তি সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।

মার্কিন বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

ফিলিপাইনের বেসেস কনভার্সন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রধান জোশুয়া বিংচাং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকল্পের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার অনুরোধ ছিল। কিন্তু ম্যানিলা তাতে সম্মত হয়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন এবং স্থানীয় উন্নয়ন আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। কোনো বিদেশি পক্ষের জন্য আলাদা আইন বা বিশেষ মর্যাদা থাকবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় আইন মেনেই কাজ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই প্রকল্পকে শুধু অর্থনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবেও দেখছেন। সফরে আসা মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও কাঁচামালের সরবরাহে একক দেশের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

খনিজ সম্পদে নতুন লক্ষ্য

বিশ্বের অন্যতম বড় নিকেল মজুত রয়েছে ফিলিপাইনে। দেশটি এখন শুধু কাঁচা খনিজ রপ্তানির বদলে ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের ধাতু উৎপাদনে আগ্রহী।

সরকারের মতে, প্যাক্স সিলিকা প্রকল্প সফল হলে দেশটি প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এতে কর্মসংস্থান ও শিল্প বিনিয়োগও বাড়বে।

পরিবেশ ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

তবে প্রকল্পটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কয়েকটি পরিবেশবাদী ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এতে বিদেশি প্রভাব বাড়তে পারে এবং খনিজ উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, সব কার্যক্রম পরিবেশ আইন ও শ্রম আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। তারা দাবি করছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে।

ফিলিপাইনে মার্কিন সমর্থিত প্যাক্স সিলিকা শিল্প হাব নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। তবে ম্যানিলা বলছে, প্রকল্পে কোনো বিদেশি বিশেষ আইন কার্যকর হবে না।