১১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭, বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৬৮৮ জন এবং এখনও ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চললেও ভূমিধসের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বেশ কয়েকটি গ্রামে খাদ্য ও পানির সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ৮ জুন সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূলের কাছে সাগরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত অর্ধশতকে ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি একটি। ভূমিকম্পের পর অব্যাহত আফটারশকের কারণে অনেক মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।

গ্লানে খাদ্য সহায়তার জরুরি প্রয়োজন

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি উপকূলীয় শহর গ্লান। শহরটির মেয়র ভিক্টর জেমস ইয়াপ জানিয়েছেন, ভূমিধসের কারণে তার শহরের ৩১টি গ্রামের মধ্যে ১০টি এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মেয়র ইয়াপ সরকারের কাছে দ্রুত বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বাস্তুচ্যুতি

ভূমিকম্পে ১২ হাজার ৬৪১টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩৫২টি আংশিক এবং ২ হাজার ২৮৯টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৩২৪, যা প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে।

বর্তমানে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আরও হাজারো পরিবার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সহায়তায় দিন কাটাচ্ছে।

সারাঙ্গানিতে সর্বোচ্চ প্রাণহানি

ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে সারাঙ্গানিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। গ্লান শহরে ভূমিধসে বাড়িঘর চাপা পড়ায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দাভাও অক্সিডেন্টাল, দাভাও দেল সুর এবং সাউথ কোটাবাটোতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সরকারের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম

ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ পেসোর বেশি মূল্যের খাদ্য, নগদ সহায়তা ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ১৮০টি বিমান, হেলিকপ্টার, জাহাজ ও ট্রাক মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি সরকারি ও সামরিক সদস্য নিখোঁজদের সন্ধান, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজে অংশ নিচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত জেনারেল সান্তোস শহর পরিদর্শন করে পুনর্বাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আংশিক ধসে পড়া সিটি হল মেরামতের জন্য ১০ কোটি পেসো বরাদ্দ এবং নিহতদের প্রতিটি পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭৬ সালের ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির পর এটি ফিলিপাইনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। সেই দুর্যোগে প্রায় ৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

#ফিলিপাইন #ভূমিকম্প #সারাঙ্গানি #গ্লান #প্রাকৃতিকদুর্যোগ #উদ্ধারঅভিযান #বিশ্বসংবাদ #এশিয়াসংবাদ #দুর্যোগব্যবস্থাপনা

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭, বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

০৪:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৬৮৮ জন এবং এখনও ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চললেও ভূমিধসের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বেশ কয়েকটি গ্রামে খাদ্য ও পানির সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ৮ জুন সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূলের কাছে সাগরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত অর্ধশতকে ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি একটি। ভূমিকম্পের পর অব্যাহত আফটারশকের কারণে অনেক মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।

গ্লানে খাদ্য সহায়তার জরুরি প্রয়োজন

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি উপকূলীয় শহর গ্লান। শহরটির মেয়র ভিক্টর জেমস ইয়াপ জানিয়েছেন, ভূমিধসের কারণে তার শহরের ৩১টি গ্রামের মধ্যে ১০টি এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মেয়র ইয়াপ সরকারের কাছে দ্রুত বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বাস্তুচ্যুতি

ভূমিকম্পে ১২ হাজার ৬৪১টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩৫২টি আংশিক এবং ২ হাজার ২৮৯টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৩২৪, যা প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে।

বর্তমানে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আরও হাজারো পরিবার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সহায়তায় দিন কাটাচ্ছে।

সারাঙ্গানিতে সর্বোচ্চ প্রাণহানি

ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে সারাঙ্গানিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। গ্লান শহরে ভূমিধসে বাড়িঘর চাপা পড়ায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দাভাও অক্সিডেন্টাল, দাভাও দেল সুর এবং সাউথ কোটাবাটোতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সরকারের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম

ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ পেসোর বেশি মূল্যের খাদ্য, নগদ সহায়তা ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ১৮০টি বিমান, হেলিকপ্টার, জাহাজ ও ট্রাক মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি সরকারি ও সামরিক সদস্য নিখোঁজদের সন্ধান, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজে অংশ নিচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত জেনারেল সান্তোস শহর পরিদর্শন করে পুনর্বাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আংশিক ধসে পড়া সিটি হল মেরামতের জন্য ১০ কোটি পেসো বরাদ্দ এবং নিহতদের প্রতিটি পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭৬ সালের ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির পর এটি ফিলিপাইনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। সেই দুর্যোগে প্রায় ৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

#ফিলিপাইন #ভূমিকম্প #সারাঙ্গানি #গ্লান #প্রাকৃতিকদুর্যোগ #উদ্ধারঅভিযান #বিশ্বসংবাদ #এশিয়াসংবাদ #দুর্যোগব্যবস্থাপনা