১১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেক্সিকোয় অস্ট্রেলীয় দুই সার্ফার ভাই হত্যার বিচার শুরু পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য পরোক্ষ ধূমপানে বছরে প্রাণ হারাচ্ছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বাড়াচ্ছেন শি জিনপিং চীনের স্কুলে ইংরেজির গুরুত্ব কমানো হবে? নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে ক্যানসারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তবে চিপ সংকটে ধীর হচ্ছে অগ্রগতি চাকরি পেতে এখন মঞ্চে উঠেও লড়তে হচ্ছে, নিয়োগে জনপ্রিয় হচ্ছে প্রতিযোগিতার নতুন কৌশল রঙিন ডোরা আর রাবারের মুরগি—যেভাবে ফ্যাশন দুনিয়া জয় করলেন পল স্মিথ জার্মানির রাজনীতিতে বড় ধাক্কা, ক্ষমতার পথে উগ্র ডানপন্থী এএফডি তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

বাজারে বেগুন-লেবু-শসার দামে আগুন, ক্রেতারা বিপাকে

রোজা শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপণ্যের বাজারে ফের দেখা দিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, বেগুন, লেবু, শসা ও কাঁচামরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে গেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষজন এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি
প্রতি কেজি শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। গাঁজরের দাম কেজিতে ৪০ টাকা। রমজানে ইফতারের জন্য ব্যবহৃত খেজুরের দামও বেড়েছে। আমদানি মূল্যের তুলনায় খেজুর ক্রেতাকে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ২০০০ টাকায়। বিশেষ প্রজাতির মরিয়ম খেজুরের কেজি দাম ১১০০ টাকা, আর আজোয়া খেজুরের কেজি দাম ৯০০ টাকা।

সবজির দাম বৃদ্ধি
সপ্তাহখানেক আগে বেগুনের দাম কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা ছিল। এখন তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। চাম্পা কলা ডজন প্রতি ৭০ টাকায়, তরমুজ কেজি প্রতি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, আদা ও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে; আদা কেজি প্রতি ১৩০ টাকা, পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫০ টাকা।

বাজারদর স্থিতিশীল রাখার কারণ
কাঁচামরিচ বিক্রেতা সাব্বির জানান, ‘আমদানি বেশি হলে দাম কম থাকে, কম হলে বেড়ে যায়। আজ আমদানি ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে।’ আদা ও পেঁয়াজ বিক্রেতা সাকিবুল হক বলেন, ‘আমদানি ভালো হওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।’

লেবুর বাজারেও স্বস্তি নেই
লেবুর পরিমাণ সামান্য বেড়লেও দাম কমেনি। মাঝারি সাইজের লেবু এক হালি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা সজিব আহমেদ বলেন, ‘দামের এমন হঠাৎ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। ভোক্তা অধিকার ও ভ্রাম্যমাণ মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে নজরদারি করা উচিত।’

ক্রেতাদের মতামত
ক্রেতা তসিফ হাসান বলেন, ‘প্রথম রোজায় শসা, লেবু ও বেগুনের দাম সব সময়ের মতো বেড়েছে। সরকারের উচিত এই দিকে নজর দেওয়া।’ নাজমুস সাকিব মন্তব্য করেন, ‘খেজুরের এত দাম, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’

মুরগির বাজারও স্বস্তিদায়ক নয়
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রধান প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম এখনো বেশি। টানা দুই-আড়াই মাস কেজিপ্রতি দাম ছিল দেড়শ টাকার সামান্য ওপরে। গতকাল ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ দাম কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় এসেছে। সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।

মোটকথা, রোজার আগেই বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেক্সিকোয় অস্ট্রেলীয় দুই সার্ফার ভাই হত্যার বিচার শুরু

বাজারে বেগুন-লেবু-শসার দামে আগুন, ক্রেতারা বিপাকে

০৬:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রোজা শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপণ্যের বাজারে ফের দেখা দিয়েছে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, বেগুন, লেবু, শসা ও কাঁচামরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে গেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষজন এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি
প্রতি কেজি শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। গাঁজরের দাম কেজিতে ৪০ টাকা। রমজানে ইফতারের জন্য ব্যবহৃত খেজুরের দামও বেড়েছে। আমদানি মূল্যের তুলনায় খেজুর ক্রেতাকে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ২০০০ টাকায়। বিশেষ প্রজাতির মরিয়ম খেজুরের কেজি দাম ১১০০ টাকা, আর আজোয়া খেজুরের কেজি দাম ৯০০ টাকা।

সবজির দাম বৃদ্ধি
সপ্তাহখানেক আগে বেগুনের দাম কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা ছিল। এখন তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। চাম্পা কলা ডজন প্রতি ৭০ টাকায়, তরমুজ কেজি প্রতি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, আদা ও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে; আদা কেজি প্রতি ১৩০ টাকা, পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫০ টাকা।

বাজারদর স্থিতিশীল রাখার কারণ
কাঁচামরিচ বিক্রেতা সাব্বির জানান, ‘আমদানি বেশি হলে দাম কম থাকে, কম হলে বেড়ে যায়। আজ আমদানি ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে।’ আদা ও পেঁয়াজ বিক্রেতা সাকিবুল হক বলেন, ‘আমদানি ভালো হওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।’

লেবুর বাজারেও স্বস্তি নেই
লেবুর পরিমাণ সামান্য বেড়লেও দাম কমেনি। মাঝারি সাইজের লেবু এক হালি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা সজিব আহমেদ বলেন, ‘দামের এমন হঠাৎ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। ভোক্তা অধিকার ও ভ্রাম্যমাণ মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে নজরদারি করা উচিত।’

ক্রেতাদের মতামত
ক্রেতা তসিফ হাসান বলেন, ‘প্রথম রোজায় শসা, লেবু ও বেগুনের দাম সব সময়ের মতো বেড়েছে। সরকারের উচিত এই দিকে নজর দেওয়া।’ নাজমুস সাকিব মন্তব্য করেন, ‘খেজুরের এত দাম, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’

মুরগির বাজারও স্বস্তিদায়ক নয়
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রধান প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম এখনো বেশি। টানা দুই-আড়াই মাস কেজিপ্রতি দাম ছিল দেড়শ টাকার সামান্য ওপরে। গতকাল ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ দাম কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় এসেছে। সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।

মোটকথা, রোজার আগেই বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।